০৫:১০ পি.এম
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) টিকা বিশেষজ্ঞরা দেশগুলোকে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সি মেয়েদের নিয়মিত মানবদেহে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধী টিকাদানের বিষয়টি বিবেচনা করার সুপারিশ করেছেন, যদি টিকার আওতা বাড়াতে সহায়ক হয়।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, ডব্লিউএইচওর টিকাদানবিষয়ক কৌশলগত বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা গোষ্ঠীর (সেজ) চেয়ারম্যান অ্যান্থনি স্কট মঙ্গলবার এই সুপারিশটি করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে প্রায় ১৬৫টি দেশ ইতোমধ্যে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের (এইচপিভি) টিকা কার্যক্রম শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩১৫
স্কট সাংবাদিকদের বলেন, “তবে বিশ্বব্যাপী এইচপিভি টিকাদানের হার ৩৩ শতাংশ, যা আমাদের নির্ধারিত বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা ৯০ শতাংশের চেয়ে অনেক কম।”
ডব্লিউএইচওর মতে, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সি সব মেয়ের জন্য এইচপিভি টিকাদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। ২০২২ সালে সেজ ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সি মেয়েদের এক বা দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। একই বয়সভিত্তিক সূচি ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। ২১ বছরের বেশি বয়সি নারীদের জন্য ছয় মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
হালনাগাদ গবেষণালব্ধ প্রমাণ পর্যালোচনা করে সেজ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, বিশ্বব্যাপী টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সি মেয়েদের এক ডোজ টিকা দেওয়ার পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকর।
স্কট বলেন, “যদি টিকা গ্রহণের হার ও আওতা বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকে, তাহলে দেশগুলো ৪ থেকে ৮ বছর বয়সি মেয়েদের নিয়মিত টিকাদানের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।”
আরও পড়ুন: সোরিয়াসিস ছোঁয়াচে নয়, চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: বিএমইউ উপাচার্য
এইচপিভির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের ফলে জরায়ুমুখ ক্যানসার হয়। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে পঞ্চম সর্বাধিক শনাক্ত হওয়া ক্যানসার ছিল এটি। ওই বছরে প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হন এবং প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার নারী মারা যান।
ডব্লিউএইচওর টিকা বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন জানান, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মেয়ে এইচপিভি টিকা পেয়েছে।
সেজ সুপারিশ করেছে যে, এক ডোজের এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আরও কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রথমে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের বাদ পড়া টিকা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া, এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের এ সুযোগ সম্প্রসারণ, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সি ছেলেদের নিয়মিত টিকাদান এবং সবশেষে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষদের বাদ পড়া টিকা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচপিভির আটটি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ভোলার পাঁচ হাসপাতালে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের অভাব, ৬ লাখ শিশুর চিকিৎসা ঝুঁকিতে
ডব্লিউএইচও জানায়, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। এসব দেশের অধিকাংশই সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মেলানেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে অবস্থিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন