১২:১৮ এম
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যখন শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন, তখন তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগকে একটি দল হিসেবে বিচারের আওতায় আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আইনমন্ত্রী ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে জ্ঞাপন করেছেন, শেখ হাসিনাকে গৃহীত আদালতের রায়ে যেহেতু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসাবে ধরা হয়েছে, সেহেতু দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। সরকার ধারাবাহিকভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে তাগাদা প্রদান করছে যাতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়।
আজ সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ বিষয়ে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী গণহত্যা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন: রিজভী: বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে, এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ
রংপুর-৪ আসনের এনসিপি দলের সদস্য আখতার হোসেন ৬৮ বিধিতে সংসদে নোটিশ উত্থাপন করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দল হিসেবে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ-সংক্রান্ত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে, ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, প্রসিকিউটর, তদন্তকারী ও লজিস্টিক সহায়তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সরকারের উদ্দেশ্য কোনো ধরনের প্রতিহিংসা নয়, বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের সকল মামলার বিচার সম্পন্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বললেন, ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শেখ হাসিনা আইনের দৃষ্টিতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাই তার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।
আরও পড়ুন: বগুড়ার অবকাঠামো খাতে মেগা উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার
মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি স্বীকৃত সত্য এবং এটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জুলাই হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, এর মধ্যে ১২টির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং চারটি মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সরকারের আমলে ইতোমধ্যে তিনটি মামলার রায় হয়েছে, যার মধ্যে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলা অন্তর্ভুক্ত। শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড, আওয়ামী লীগের সংগঠনকে বিচার করা, এবং জেলা পর্যায়ের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া ৫৯০টি অভিযোগের মধ্যে ১০৯টি মামলার বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে, ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। আরও ২৬টি মামলার বিচারাধীন এবং চারটি মামলার রায় অপেক্ষমাণ রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, আহত ও পঙ্গু যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধता রয়েছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের নতুন বাংলাদেশ, তাদের কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তিনি জুলাই জাদুঘর দ্রুত উদ্বোধন এবং জুলাই ফাউন্ডেশনকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করার আর্জিও জানালেন।
আরও পড়ুন: প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জুলাই ছিল দীর্ঘ আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি। সে আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি করা উচিত নয়।
তিনি জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন করা, জাতীয় ঐক্য শক্তিশালী করা এবং জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে দেশ গঠনে সকল রাজনৈতিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অবদান ও আত্মত্যাগ যথাযথভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আলোচনা করেন বিরোধীদলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বাড়ানো, দক্ষ প্রসিকিউটর ও বিচারক নিয়োগ, এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একসাথে তিনি আওয়ামী লীগের বিচার, মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর, ঢাকা-১৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৫ এর বিরোধীদলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য ও শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: মাদানীর ওয়াজ মাহফিলে এমপিকে পাগড়ি পরিয়ে দিলেন আলেমরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন