০৯:৩৮ পি.এম
নৃশংস হত্যার শিকার শিশু রামিসার অসুস্থ বাবা হান্নান মোল্লার হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমানে শিশুর বাবা হান্নান মোল্লা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপতালে উপস্থিত হয়ে হান্নান মোল্লার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এরপর সাংবাদিকদের সামনে রামিসার বাবার শারীরিক অবস্থার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমানে হান্নান মোল্লার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তাতেও এখনই রামিসার বাবাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন কলেজে বদলি
হান্নান মোল্লা হঠাৎ অসুস্থ অনুভব করায় তার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
এর আগে, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে শিশুর অসুস্থ বাবাকে দেখতে হাসপাতালে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিক গিয়েছিলেন।
এদিকে, মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা সংক্রান্ত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে এই মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। গত ২৪ মে, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে আজকের দিন অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন।
ওইদিন দুপুরের দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার কার্যক্রমের জন্য আদেশ দেন।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ক্ষমতার হিসাব হবে ৩ নভেম্বর
মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না কৌশলে তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য তার মা খোঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখে তাদের সন্দেহ হয়। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ, তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ২০ মে আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ঘটনার পূর্বে ইয়াবা সেবনের কথা জানান তিনি।
জবানবন্দিতে সোহেল জানান, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর এসময় সোহেল বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি জ্ঞান হারায় এবং তার মা দরজায় ঘণ্টা দিতে থাকে। তখন সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করতে মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া, ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন ও পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্বে কোনো শত্রুতা ছিল না।
আরও পড়ুন: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলো ‘অর্ণব’, আঘাত হানবে বুধবার?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন