ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
অনলাইন জুয়া মবকালচার প্রতিরোধে কলাপাড়ায় মতবিনিময়

শিক্ষার্থীদের ক্লাশমুখি করতে পারলে কিশোর অপরাধ নিরসন সম্ভব: জেলা প্রশাসক


শিক্ষার্থীদের ক্লাশমুখি করতে পারলে কিশোর অপরাধ নিরসন সম্ভব: জেলা প্রশাসক

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, যুব ও তরুণ সমাজ এক হয়ে কাজ করলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব। আর মাদকের কারণেই পারিবারিক সহিংসতা থেকে শুরু করে কিশোর অপরাধী তৈরি হয়। এর থেকে সমাজকে রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যে যার জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে সমাজের উন্নয়ন ও অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হবে। তবে শিক্ষার্থীদের শতভাগ ক্লাশে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারলেই অবস্থার মূল পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের বই ও ক্লাশমুখি করতে পারলে সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব। তাইলে সম্ভব কিশোর অপরাধ দমন। এক্ষেত্রে শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিকভাবে এক হয়ে কাজ করতে হবে। দায়বোধের জায়গা থেকে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

মঙ্গলবার শেষ বিকালে কলাপাড়া পৌরসভা অডিটরিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব বলেন। পারিবারিক সহিংসতা, কিশোর গ্যাং, মব কালচার, মাদক প্রতিরোধে- শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ বলেন, ‘মাদকের অভিযানে আটকদের জন্য কেউ তদবিরে গেলে তার বিরুদ্ধের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে যেই হোক। তিনিও শিক্ষকদেরকে শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে মতামত ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে ছাত্রদের উপস্থিতি হতাশাজনক বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যার উন্নয়ন ঘটানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষকদের বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘অবৈধ কোন কাজের স্বীকৃতি পুলিশ নিবে না।’

কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, গণমাধ্যম কর্মী মেজবাহউদ্দিন মাননু। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক, কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার, কলাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামির আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, গণঅধিকার পরিষদের কলাপাড়া উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুস সালাম হাওলাদার।

আরও পড়ুন: বেগমগঞ্জে তরুণ কামরুল হাসানকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

বিষয়ের ওপর মতামত রেখে বক্তব্য রাখেন, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু, কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, গণঅধিকার পরিষদের কলাপাড়া উপজেলা সদস্য সচিব গাজী আব্বাস উদ্দিন বাচ্চু, যুবনেতা সংগঠক মুশফিকুর রহমান লিটু বিশ্বাস, গণঅধিকার পরিষদ কলাপাড়া পৌর কমিটির সদস্য সচিব রবিউল আউয়াল অন্তর, লতাচাপলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান হাওলাদার, কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উপজেলা সভাপতি শাহ-সুজাউদ্দিন, ইমাম ও মোয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতির সভাপতি প্রভাষক মাসুম বিল্লাহ, বৌদ্ধভিক্ষু রাখাইন উত্তম, শিক্ষক ক্রীড়াসংগঠক ইভান মাতুব্বর, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা কলাপাড়াবাসীর সভাপতি নাজমুস সাকিব প্রমুখ।

বক্তারা, মাদক ও সহিংসতামুক্ত কলাপাড়া গড়তে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন- যেখানে বলা হয়, পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের কঠোরভাবে পালন। পারিবারিক কাউন্সেলিং সেবা চালু ও সমপ্রসারণ। নারী ও শিশুদের জন্য আইনি সহায়তা সহজলভ্য করা। কিশোর বয়সীদের হাতে এন্ড্রয়েড মোবাইল না দেওয়া। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা। সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি ও উঠান বৈঠক আয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি নেতাদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা। সন্ধ্যার পরে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের হাটবাজারের আড্ডা বন্ধ করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগ বৃদ্ধি করা। রাত অবধি কোচিং সেন্টার বন্ধ করা। ভাড়াটে মোটরসাইকেল চালকদের নির্দিষ্ট কটি নাম্বারিংসহ ব্যবহারে বাধ্য করা। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সুন্দর কলাপাড়া গঠনে এর কোন বিকল্প নেই বলেও মতামত ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবীনগরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ মামলা, গ্রেপ্তার ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ পি.এম


নবীনগরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ মামলা, গ্রেপ্তার ১

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের মামলায় যে আসামি সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে নবীনগর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার করা সুমন মিয়া হচ্ছে চিত্রি গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশের সূত্রমতে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নবীনগর থানার চিত্রি গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া একই এলাকার এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ করে। এই অভিযোগ এনে ভুক্তভোগীর পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নবীনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছিল।

দীর্ঘ চার মাস পর, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ২৩ জুন রাতে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের চিত্রি গ্রামের মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী গ্রেপ্তারের মূল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, আসামি সুমন মিয়াকে সব আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে আজ বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগের প্রয়োজন: কৃষিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ পি.এম


বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগের প্রয়োজন: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য বিজ্ঞানীদের বাজেটনির্ভর নয়, বরং খাদ্যের পুষ্টিগুণ, নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে মৌলিক, উদ্ভাবনী এবং মানসম্পন্ন গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

তিনি বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে কনফারেন্স কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভার মধ্যে এমন বক্তব্য দেন।

মন্ত্রী গবেষণার প্যাটেন্ট গ্রহণের বিষয় এবং কৃষিকে যুগোপযোগী করতে উৎপাদনশীল প্রকল্প গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, কৃষি এগিয়ে গেলে দেশও এগিয়ে যাবে। দেশের উন্নতির জন্য নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, পৃথিবীতে খাদ্য উৎপাদনের অভাব নেই, তবে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের অভাব রয়েছে। এজন্য সরকার নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের খাবারের কারণে মৎস্য এবং কৃষি খাতের উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মাছের খাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল নিরাপদভাবে উৎপাদন করা জরুরি। বিশ্ববাজারে স্বাদুপানির মাছের চাহিদা কমেছে। তাই নিরাপদ পদ্ধতিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করে পরবর্তীতে রপ্তানি করা হবে।

কৃষিখাতের মতো মৎস্য চাষে ভর্তুকিমূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মৎস্যচাষিদের এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলা প্রশাসকের মন্তব্যের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫০ পি.এম


জেলা প্রশাসকের মন্তব্যের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করার অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বক্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় শহরের নিউমার্কেট মোড়ে ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়, জেলা প্রশাসকের দেওয়া বক্তব্য স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং জেলার মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা ওসমান গণী, মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, মাওলানা রুস্তম আলী তাওহিদী, মাওলানা শাহাদাত হোসেন, মাওলানা ফারুক হোসেনসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন, সাতক্ষীরার মানুষ দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ বজায় রেখে বসবাস করছেন। একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে জেলাবাসীর প্রতি এমন মন্তব্য অনভিপ্রেত ও অসম্মানজনক মনে করা হচ্ছে। এ সময় অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কে কোনো সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা ওলামা মাশায়েখ পরিষদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্ব সুন্দরবনে এক বছরে ৪৭৪ অভিযান, গ্রেফতার ৩৭৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫২ পি.এম


পূর্ব সুন্দরবনে এক বছরে ৪৭৪ অভিযান, গ্রেফতার ৩৭৭

পূর্ব সুন্দরবনে বন অপরাধ প্রতিরোধে বনরক্ষীদের নজরদারি ও নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের ফলে বন বিভাগ বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। বনে অপরাধের মাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত এক বছরে সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ফুট পেট্রোলিং পরিচালিত ৪৭৪টি বিভিন্ন সাঁড়াশি অভিযানে ৩৭৭ জন বন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সময় উদ্ধার করা হয়েছে লক্ষাধিক ফুট হরিণ ধরার ফাঁদ, ২৪৯ কেজি হরিণের মাংস এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ মৎস্য ও কাঁকড়া আহরণের সরঞ্জাম। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী শিকার চিরতরে বন্ধ করতে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকার ও বন অপরাধে জড়িত ১৫০ জনের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করে আইনপ্রয়োগকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তর করেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনরক্ষীরা বনের গহীনে হেঁটে ও জলপথে ৪৭৪টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এই এক বছরে বন অপরাধের দায়ে মোট ২৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৩৯৬ জন আসামির মধ্যে ৩৭৭ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, বনের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে গত এক বছরে জব্দকৃত সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে ৪৪৮টি ট্রলার, ১০০টি নৌকা, ৮ হাজার ৩৮১টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার ফাঁদ, ৩০০ ফুট মাছ ধরার জাল এবং ১ হাজার ৬৬ কেজি অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া। এছাড়া সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারি চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই সময় দস্যু ও অসাধু চক্রের কাছ থেকে ৯৬ বোতল ও ৫ প্যাকেট মাছ মারার বিষ, বিষ দিয়ে ধরা ৭২৪ কেজি মাছ, ২২ বস্তা বিষযুক্ত চিংড়ির শুঁটকি এবং ২১৭ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির সাধারণ মাছ জব্দ করা হয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পেতে রাখা ফাঁদে বিভিন্ন সময়ে ১৭টি হরিণ ও একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৩ ফুট ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে। বর্তমান ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে যোগদান করার পর থেকে হরিণ ও বন্যপ্রাণী শিকার প্রতিরোধে বন বিভাগকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই বিপুল পরিমাণ ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে কখনো এর চার ভাগের এক ভাগও ফাঁদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বনরক্ষীরা চরম ঝুঁকি ও কষ্ট মাথায় নিয়ে দুর্গম বনে হেঁটে নিয়মিত টহল দেওয়ায় বন অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত এক বছরে বনের বিভিন্ন স্থান থেকে ২৪৯ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কেজি কম। মাংস উদ্ধারের এই বিশাল ব্যবধানই প্রমাণ করে যে সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রবণতা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। ডিএফও আরও জানান, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী শিকার পুরোপুরি বন্ধ করতে পূর্ব বন বিভাগের আওতাধীন এলাকাগুলোর ১৫০ জন পেশাদার হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকারির একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই তালিকা ইতিমধ্যে পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে সরবরাহ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত এই শিকারিরা বর্তমানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারির মধ্যে রয়েছেন, যাতে তাঁরা কোনোভাবেই বনের ভেতর প্রবেশ করতে না পারেন। সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয় বিশাল জনগোষ্ঠী এ ব্যাপারে সহযোগিতা করলে বন অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%