ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান নয়, শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করবেন ট্রাম্পই: সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত


ইরান নয়, শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করবেন ট্রাম্পই: সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান অর্থনৈতিক চাপের কৌশল শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ব্যর্থ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত ও হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক নীতিনির্ধারক মার্ক গিন্সবার্গ।

তার মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা মূলত একটি উচ্চঝুঁকির ‘অর্থনৈতিক চিকেন গেম’। যেখানে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই পিছু হটতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিন্সবার্গ বলেন, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে ভিন্ন। কারণ, এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সরাসরি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং ইরান তার অর্থনীতি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকেও কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

গিন্সবার্গের ভাষায়, “হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি এই সংঘাতের মধ্যে চলে এসেছে। একই সঙ্গে ইরান তার অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকেও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।”

তবে তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আসলে কী ধরনের সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। গিন্সবার্গের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নীতিতে একটি সুস্পষ্ট চূড়ান্ত লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে না।

“এই প্রশাসনের কোনও শেষ লক্ষ্য আছে- এমন পরিস্থিতি আমরা দেখছি না। প্রেসিডেন্ট আসলে কী করতে পরিকল্পনা করছেন, তা আমরা জানি না,” বলেন গিন্সবার্গ।

তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত যে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট, তা হলো ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি চাপ ও সহনশীলতার একটি অভিযানে নেমেছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

গিন্সবার্গ এই কৌশলকে অভিহিত করেছেন ‘অভূতপূর্ব সহনশীলতার অভিযান’ হিসেবে।

অর্থনৈতিক চাপেই কি নত হবে ইরান?

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে বাধা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পথ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তেহরানকে চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। কিন্তু শুধু অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে তার অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করা যাবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন গিন্সবার্গ।

তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে দুই পক্ষের মধ্যে একটি উচ্চঝুঁকির মুখোমুখি অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে দেখছে- সংঘর্ষ অনিবার্য হওয়ার আগে কে আগে সরে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

“এটি অনেকটা অর্থনৈতিক ‘চিকেন গেম’-এর মতো। সংঘর্ষের আগে দুই পক্ষের মধ্যে কে রাস্তার পাশ থেকে সরে যাবে, সেটিই প্রশ্ন,” বলেন তিনি।

গিন্সবার্গের আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত ইরান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনই আগে সমঝোতার পথে যেতে বাধ্য হতে পারে।

“আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত ইরান সরকার পিছু হটার আগে ট্রাম্প প্রশাসনই নতি স্বীকার করবে,” বলেন সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

গিন্সবার্গের মন্তব্যের পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে যায়। ফলে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনও বড় ধরনের সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিকে তার কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ যত বাড়ছে, ততই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ঘিরে উত্তেজনাও বাড়ছে।

এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের জন্য চ্যালেঞ্জ শুধু ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা নয়; একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানোও জরুরি হয়ে উঠেছে।

‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির সীমাবদ্ধতা

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের

ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এর লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিকভাবে তেহরানকে এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, যাতে দেশটির সরকার তার পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা নীতিতে ছাড় দিতে বাধ্য হয়।

তবে গিন্সবার্গের বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অর্থনৈতিক চাপ যতটা দ্রুত ইরানকে নত করবে বলে ওয়াশিংটন আশা করছে, বাস্তবে পরিস্থিতি ততটা সরল নয়। দীর্ঘমেয়াদি চাপের মুখেও ইরান যদি তার কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকেই বিকল্প পথ খুঁজতে হতে পারে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলি এই অচলাবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে চাপে ফেলার পাশাপাশি সেই চাপের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামাল দেওয়াও ওয়াশিংটনের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গিন্সবার্গের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো একটি সুস্পষ্ট সমাপ্তি-কৌশলের অভাব। চাপ প্রয়োগের পর কীভাবে আলোচনায় ফিরবে, কোন শর্তে সমঝোতা হবে এবং শেষ পর্যন্ত কী ধরনের রাজনৈতিক সমাধান চায়- এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না থাকলে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চাপ উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই কৌশলগত চাপ তৈরি করতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় নিষিদ্ধ আ’লীগের কার্যক্রম ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতা, গ্রেপ্তার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ এম


খুলনায় নিষিদ্ধ আ’লীগের কার্যক্রম ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতা, গ্রেপ্তার ২

শনিবারকে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও জনসম্মুখে তাদের উপস্থিতি জানান দেয়ার অপচেষ্টা প্রতিরোধে খুলনা মহানগর পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গতকাল শুক্রবার রাতে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হচ্ছে-পাবলা কারিকর পাড়ার কাজী মুন্সির পুত্র পারভেজ হাসান (২৯), কেশবলাল রোডস্থ কবির বটতলার মো. কামরুজ্জামানের পুত্র মো. সাব্বির হোসেন সৈকত (২৮)। এরা দু’জনই যুবলীগের সক্রিয় সদস্য।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের তিনজন সদস্য ১০ প্যাকেট তেহারী কিনে খালিশপুর আবু নাসের মোড়, গোয়ালখালির মোড় এবং দৌলতপুর থানাধীন লেকভিউ রেস্টুরেন্টের সামনে নিজেদের অপকৌশল বাস্তবায়নে কিছু লোককে জড়ো করে বিতরণ করে। এর ছবি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়।

নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমকে বেগবান করার চেষ্টার বিষয়টি নজরে আসার পর দৌলতপুর থানা পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ছবি দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে। এরমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরাদুল ইসলাম বাসস’কে জানান, গভীর রাতে খাদ্য বিতরণ করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে জনমনে পূর্বস্মৃতি জাগ্রত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। পুলিশি তৎপরতায় তাদের এ অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় অপু নামক অপর একজন ব্যক্তি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযানের কাজ অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

তিনি উল্লেখ করেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়, আইনের শাসন ও জননিরাপত্তাই সর্বাগ্রে। আইন ভঙ্গ করলে পরিচয় নয়, অপরাধই হবে বিবেচনার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর থেকে একজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর থেকে একজন আটক

রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গিয়ে অর্ণব দাস (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে তাকে ধানমণ্ডি ৩২ থেকে আটক করা হয়।

এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব।

তিনি বলেন, ''ধানমণ্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়। পরে তাকে থানায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানায় হেফাজতে রয়েছেন।''

তিনি আরো জানান, ''যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সময়ে আটক ব্যক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।''

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীতাকুণ্ডে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫০ এম


সীতাকুণ্ডে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলার মহাসড়কের ফৌজদারহাট জলিল গেট এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত যুবকের নাম রয়েছে এয়াছিন হোসেন (২২), তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কাদের বাজার হাজী পাড়া মিয়াজী বাড়ীর হাসান হাছান আলীর পুত্র।

 

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আরিফুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তবে কোনো গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা জানা যায়নি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ঋণ নেওয়ার খরচ ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


যুক্তরাষ্ট্রে ঋণ নেওয়ার খরচ ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নতুনভাবে ইস্যু করা সরকারি বন্ডে যুক্তরাষ্ট্রকে ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদ দিতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ড ৫ দশমিক ২১৬ শতাংশ সুদে বিক্রি করেছে।

২০০১ সালের পর কোনো ঋণ নিলামে এটি সর্বোচ্চ সুদের হার।

এর এক দিন আগে, বুধবার ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ড ৪ দশমিক ৬৮৩ শতাংশ সুদে বিক্রি হয়। ২০০৭ সালের পর এই মেয়াদের বন্ডের জন্য এটিই সর্বোচ্চ সুদের হার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর ফলে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এখন দেশটিকে বন্ডে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে।

দেশটির ঋণ ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাত বর্তমানে ১২১ শতাংশের বেশি, যা একটি উদ্বেগজনক মাত্রা। প্রতি বছর জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধ করতে যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রতিরক্ষা খাতের চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় করছে।

মার্লবরো ফান্ডের ম্যানেজার জেমস অ্যাথি বলেন, শান্তিকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি এখন রেকর্ড পর্যায়ে অবস্থান করছে। অথচ দেশে বেকারত্বের হার কম এবং অর্থনীতিও স্বাভাবিক গতিতে প্রায় ৩ শতাংশ হারে বাড়ছে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল ঘাটতি সত্যিই উদ্বেগজনক। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, দেশের অর্থনীতি অনেকের ধারণার মতো শক্তিশালী নাও হতে পারে। যদি ভবিষ্যতে মন্দা দেখা দেয় তবে ঘাটতি আরো বড় হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতি সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

এই বিশাল ঘাটতির কারণে মার্কিন সরকারকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করতে হচ্ছে। এর ফলে বাজারে সরকারি বন্ডের সরবরাহ বাড়বে এবং বন্ডের ইল্ড বা সুদের হার আরও বাড়ার চাপ তৈরি হবে।

এথে আরো বলেছেন, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়ছে। অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, ইরানের যুদ্ধের কারণে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েও ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ সুদের হার বাড়াচ্ছেন না। তাদের আশঙ্কা, এটি ফেডের নীতিগত ভুল হতে পারে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের প্রভাব থেকে ফেড কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের স্টিফেন ইনেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের ইল্ড বেশি থাকার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সরকারি বন্ড নিলাম, দেশটির বড় বাজেট ঘাটতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি।

গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, অরাকল ও মেটার মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য করপোরেট বন্ড বাজার থেকে ঋণ নিচ্ছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান চলতি বছরে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের বন্ড ইস্যু করতে পারে। ২০২৭ সালে এই পরিমাণ বেড়ে ৪০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বাজারে বিপুল পরিমাণ বন্ড আসার ফলে এখন পরিস্থিতি অনেকটা ক্রেতাদের অনুকূলে। ফলে বন্ড বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা বা রিটার্ন দাবি করার সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ নেওয়ার খরচও বাড়ছে।

অ্যাথে আরো বলেন, এআই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে খুব দ্রুত বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করছে এবং আগামী কয়েক বছরও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এর ফলে নতুন শেয়ার বা ইক্যুইটি ইস্যু করার পরিমাণ বাড়বে। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, বৈশ্বিক করপোরেট বন্ড বাজারে বিপুল পরিমাণ নতুন বন্ড আসবে। এতে বিভিন্ন ধরনের বন্ডের মুনাফা বা ইল্ডের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বৃহস্পতিবার ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ড বিক্রি করে ২৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এই বন্ডে তুলনামূলকভাবে বেশি মুনাফা বা ইল্ড দিতে হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ঋণ নেওয়ার খরচ এখনও যুক্তরাজ্যের চেয়ে কম। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন সরকারি বন্ডের একটি নিলামে ইল্ড ছিল ৫ দশমিক ৪৭৬ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%