বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫২ পি.এম
হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি জানিয়ে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।
একটি বিবৃতিতে হুতিরা উল্লেখ করেছে যে, ইয়েমেনের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় মারিব গভর্নরেটে অভিযান চলাকালীন নিজেদের তৈরি সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ধ্বংস করা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র ফাইটার জেটের উপর আঘাত হানছে এবং পরে মরুভূমিতে বিমানের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করতে হুতি যোদ্ধাদের দেখা যায়। এক পর্যায়ে, সৌদি পতাকার প্রতীক এবং ‘৫৫৩৯’ শনাক্তকরণ নম্বরসহ বিমানের একটি লেজের অংশও তারা তুলে ধরেন।
সিএনএন জানিয়েছে, প্রচারিত ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ও সামরিক বিশ্লেষক সেড্রিক লেটন ভিডিওর ধ্বংসাবশেষ দেখে জানান, সেখানে থাকা চিহ্নগুলো সৌদি বিমানবাহিনীর এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের সঙ্গেই মেলে।
এফ-১৫ বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। কয়েক বছর ধরে গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইয়েমেনে, সম্প্রতি হুতিরা সৌদি সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই আরও তীব্র করেছে। গত সপ্তাহে তারা লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী ও কৌশলগত দ্বীপ দখল করে, যা আগে হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে সৌদি তেল রপ্তানির নিরাপদ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা এবং নির্মাণকাজে ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি নিয়ে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই সভার আয়োজন করা হয় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে, যা গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
প্রধান অতিথি পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত ১৮ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিত পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক ফলোআপ সভার সিদ্ধান্তসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দীন সভাপতিত্ব করেন।
এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যের পাশাপাশি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ইটভাটা, এর ক্ষতিকর দিক, উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটা, ব্লক ইট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ও করণীয় এবং ইটভাটা সংক্রান্ত সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন পরিবেশ অধিদপ্তর, বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান।
এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের উল্লেখযোগ্য ধারাসমূহ সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
পরবর্তীতে ব্লক ইট তৈরিতে কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী এনজিও কোডেক (কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার)-এর ফোকাল পারসন সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ব্লক ইট বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
সভায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মধুসূদন দেবনাথ জানান, তাদের বর্তমান নির্মাণকাজে প্রায় ৯৫ শতাংশ ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীরা জানান, তাদের কার্যক্রমে যথাক্রমে ৪০ শতাংশ ও ২০ শতাংশ ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে।
সভায় কাজী কংক্রিটের স্বত্বাধিকারী মো. জিয়াউল ইসলাম ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মধুসূদন দেবনাথ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর রশিদ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাফিজ আক্তার, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বিথী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিরা। এছাড়া বাগেরহাট জেলার ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন ইটভাটার মালিক, কাঠ পোড়ানো পাঁজা ভাটার মালিক এবং ব্লক ইট উৎপাদনকারীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান নরওয়ের সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন, যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের সময় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী মন্তব্য করেন, "স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও বলেন, নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি, স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে নরওয়ের বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হেড আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) পশ্চিম জোনের সদস্যরা দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতাল থেকে তাদের আটক করা হয়, প্রতারণার অভিযোগে।
আটককৃতদের মধ্যে আছেন আবু বক্কর সিদ্দিক (৪৮), মোছা. মাহমুদা খাতুন (৪০) এবং মোছা. মনিকা। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেরেবাংলানগর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আনসার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরেবাংলা নগর থানার আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মামুন-অর-রশিদের নেতৃত্বে হাসপাতাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় হাসপাতালের ৬৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহের সময় তিনজনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটককৃতরা হাসপাতালের বৈধ কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসহায় রোগীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছিলেন। পাশাপাশি বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানোর কথা বলে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অভিযানে মামুন-অর-রশিদকে সহযোগিতা করেন পিসি মো. সাদেক হোসেন বাচ্চু ও এপিসি মো. শফিকুল ইসলাম।
হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ও রোগীদের স্বার্থ রক্ষায় আটক তিনজনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উখিয়ায় পুলিশের পৃথক অভিযানে ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ২ জন, নিয়মিত মামলায় ৪ জন, পূর্বের মামলায় ১ জন এবং মোবাইল কোর্টের সাজা পরোয়ানাভুক্ত ২ জন রয়েছেন। আটক হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৩ জন নারী আসামি রয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ জানায়, আদালতের পরোয়ানা, সাজা পরোয়ানা এবং নিয়মিত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে উখিয়া থানা পুলিশ এই অভিযান চালায়।
অভিযানে সিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ২ আসামি, নিয়মিত মামলার ৪ আসামি, পূর্বের মামলার ১ আসামি এবং মোবাইল কোর্টের সাজা পরোয়ানাভুক্ত ২ জনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজন নারী আসামি অন্তর্ভুক্ত। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার ৯ আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ