১১:৫০ এম
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনায় টানা সপ্তম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাদের তিন জন নিহত হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড শনিবার জানিয়েছে, ‘ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিভ্রান্তিকর নির্দেশনায় পরিচালিত’ দুটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে মাইন আঘাতে বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দ্রুত এই দাবি অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: ১২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড আরও জানিয়েছে, তারা চারটি জাহাজকে ‘থামিয়ে দিয়েছে’ যা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘ক্রমাগত দুর্বল করার’ লক্ষ্যে তারা হামলা চালিয়েছে।
এটি দুই দেশের মধ্যে ফের সংঘাত শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতির মধ্যে ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন বাহিনী বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং দুটি সেতু সহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সাথে তারা নিশ্চিত করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
এর পূর্বে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের হামলার নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যদি আরও দুই বা তিন দিন চলতে থাকে, তবে তেহরান ‘পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রাণঘাতী হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। এর জবাবে, ইরান বিশ্বের তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে এবং ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ শনিবার জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় দেশে দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছে।
এছাড়াও, ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কুয়েতে, ইরানি বাহিনী আল-আদিরি সামরিক শিবিরের গোলাবারুদ গুদাম, আলি আল-সালেম ঘাঁটির সদর দপ্তর ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার এবং কয়েকটি যোগাযোগ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
জর্ডানে আল-আজরাক ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকেও হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে।
প্যারিসভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক জ্যঁ-জোরেস ফাউন্ডেশনের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ডেভিড খালফা বলেছেন, সংঘাতে এখন ‘কৌশলগত অবকাঠামোর আরও বিস্তৃত পরিসর’ জড়িয়ে পড়ছে।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘বিপরীতধর্মী ব্যাপারটি হলো, সংঘাত যতই তীব্র হচ্ছে, ততই কোনো পক্ষেরই এই পরিস্থিতি চলতে দেওয়ার কৌশলগত স্বার্থ নেই। তবে উভয় পক্ষই যেকোনো সমঝোতাকে এক ধরনের আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছে।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহ: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করার পর, ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং অতিরিক্ত গরমের মধ্যেও পিক আওয়ারে এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন