১১:০৩ এম
মানসিক রোগের প্রতি ভুল ধারণা, অবহেলা, বিষণ্ণতা, সামাজিক সংকোচ এবং পুনর্বাসনের অভাবের কারণে মানসিক রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মানুষের মধ্যে অনলাইন আসক্তি নতুন করে মানসিক অসুখের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের কারণ হতে পারে। পাবনা মানসিক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
পাবনা মানসিক হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সামিনা আক্তার বলেন, নারীদের বিষণ্ণতা, ওসিডি বা কনভার্সন ডিজঅর্ডারের (হিস্টিরিয়া) মতো সমস্যায় অনেক পরিবার ভুল ধারণা নিয়ে রোগীকে কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। এই ধরনের পদক্ষেপ রোগীর জন্য ক্ষতিকর। ভুল ধারণার কারণে তারা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিবারের পুনর্বাসন না হওয়ায় অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আবারও হাসপাতালে আসছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি মানসিক সমস্যার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের মধ্যে এই আসক্তি দেখা যাচ্ছে, যা সব বয়সী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। লাইক এবং কমেন্ট চেক করা, টিকটক রিলসে ডুবে থাকা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভার্চুয়াল জগতে কাটানো—এসব বিষয় ব্যক্তির মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন মানসিক বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
পাবনা মানসিক হাসপাতালের আবাসিক সাইকিয়াট্রিস্ট ডাঃ এ কে এম শফিউল আযম জানান, শিশুদের অতিরিক্ত ডিভাইস আসক্তি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এর ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
যদিও মানসিক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে দেশের একমাত্র বিশেষায়িত পাবনা মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা জনবলসহ নানা সংকটে অপ্রতুল রয়ে গেছে। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে অনুমোদিত ৩১টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ১৬টি শূন্য রয়েছে। হাসপাতালের ৬৪৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪৫১ জন। ফলে চিকিৎসক ও কর্মচারীর অভাবে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনো ২০০ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়।
হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, এক মাসের বেশি রোগীকে হাসপাতালে রাখা হচ্ছে না। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৩৬৪ জন রোগীর মধ্যে ৮৪ জনই পুরাতন। ৬১ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে ফের হাসপাতালে ফিরে এসেছেন। ১৫ জন রোগীর স্বজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান পাবনা মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের প্রধান সহকারী মো. আবদুর রাজ্জাকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক সংকটের কারণে অ্যানেসথেটিস্ট, ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট, বায়োকেমিস্ট এবং ডেন্টাল সার্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও জনবল নেই। তিনি বলেন, দ্রুত সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট এবং মেডিকেল অফিসার নিয়োগ না হলে চিকিৎসাসেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাতে সরকার সহযোগিতা করবে — মাহ্দী আমিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন