০২:২২ পি.এম
কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ৩১ ভরি স্বর্ণালংকারসহ দুই চোরাচালানকারীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।
উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৫ লাখ টাকা। এসময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও সৌদি রিয়ালসহ এটিএম কার্ডও জব্দ করা হয়। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যবসায়ী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং আটকের চেষ্টা চলছে।
রোববার দুপুরে কক্সবাজার স্টেশনে সংবাদ সম্মেলনে কোস্টগার্ড জানাতে গিয়েছিল, শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার বিমানবন্দর সংলগ্ন ফিশারি ঘাট এলাকায় সন্দেহজনক একটি মোটরসাইকেল থামার সংকেত দেয় কোস্টগার্ডের একটি বিশেষ অভিযানকারী দল। দুর্ভাগ্যবশত, সংকেত উপেক্ষা করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন দুই আরোহী। ধাওয়া করে মোটরসাইকেলসহ দুজনকে আটক করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় ৩১ ভরি স্বর্ণালংকার। কোস্টগার্ডের দাবি, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৭৫ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল
শুধু স্বর্ণালংকারই নয়, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, নগদ ৫ হাজার ৭৪২ টাকা, সৌদি আরবের ১০ রিয়াল এবং তিনটি সৌদি এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়।
কোস্টগার্ড কক্সবাজার স্টেশনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন জানিয়েছেন, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ৩১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, চারটি মোবাইল ফোন, নগদ ৫ হাজার ৭৪২ টাকা, ১০ সৌদি রিয়াল এবং তিনটি সৌদি আরবের এটিএম কার্ডও জব্দ করা হয়েছে।
আটক চোরাচালানকারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণের চালানটি দুবাই থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তারা স্বীকার করে যে তারা এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিরা বিমানের যাত্রী নন; তারা বাংলাদেশেই বসবাস করেন। তাদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে প্রবাসীরা স্বর্ণ দেশে আনতে সাহায্য করছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এবারের চালানটি দুবাই থেকে এসেছে।
আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
কোস্টগার্ডের ওই কর্মকর্তা বলেন, এটি তাদের প্রথম ধরা পড়ার ঘটনা হলেও তারা এর আগেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের চোরাচালান করে আসছিল। অন্য অসাধু ব্যবসায়ী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং আটক করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের চোরাচালানকারীদের শনাক্ত ও আটক করতে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ করা আলামত ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারকে ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে যাতে চোরাচালানের স্বর্ণ প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য নজরদারি আরও জোরদারের কথা জানিয়েছে কোস্টগার্ড। আটক দুজন, মো. আজিম ও মো. ফারুক, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী এলাকার বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন