ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুবাই থেকে আসা ৩১ ভরি স্বর্ণ কক্সবাজারে জব্দ, আটক ২


দুবাই থেকে আসা ৩১ ভরি স্বর্ণ কক্সবাজারে জব্দ, আটক ২

কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ৩১ ভরি স্বর্ণালংকারসহ দুই চোরাচালানকারীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।

উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৫ লাখ টাকা। এসময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও সৌদি রিয়ালসহ এটিএম কার্ডও জব্দ করা হয়। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যবসায়ী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং আটকের চেষ্টা চলছে।

রোববার দুপুরে কক্সবাজার স্টেশনে সংবাদ সম্মেলনে কোস্টগার্ড জানাতে গিয়েছিল, শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার বিমানবন্দর সংলগ্ন ফিশারি ঘাট এলাকায় সন্দেহজনক একটি মোটরসাইকেল থামার সংকেত দেয় কোস্টগার্ডের একটি বিশেষ অভিযানকারী দল। দুর্ভাগ্যবশত, সংকেত উপেক্ষা করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন দুই আরোহী। ধাওয়া করে মোটরসাইকেলসহ দুজনকে আটক করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় ৩১ ভরি স্বর্ণালংকার। কোস্টগার্ডের দাবি, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৭৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

শুধু স্বর্ণালংকারই নয়, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, নগদ ৫ হাজার ৭৪২ টাকা, সৌদি আরবের ১০ রিয়াল এবং তিনটি সৌদি এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়।

কোস্টগার্ড কক্সবাজার স্টেশনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন জানিয়েছেন, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ৩১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, চারটি মোবাইল ফোন, নগদ ৫ হাজার ৭৪২ টাকা, ১০ সৌদি রিয়াল এবং তিনটি সৌদি আরবের এটিএম কার্ডও জব্দ করা হয়েছে।

আটক চোরাচালানকারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণের চালানটি দুবাই থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তারা স্বীকার করে যে তারা এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিরা বিমানের যাত্রী নন; তারা বাংলাদেশেই বসবাস করেন। তাদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে প্রবাসীরা স্বর্ণ দেশে আনতে সাহায্য করছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এবারের চালানটি দুবাই থেকে এসেছে।

আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

কোস্টগার্ডের ওই কর্মকর্তা বলেন, এটি তাদের প্রথম ধরা পড়ার ঘটনা হলেও তারা এর আগেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের চোরাচালান করে আসছিল। অন্য অসাধু ব্যবসায়ী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং আটক করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের চোরাচালানকারীদের শনাক্ত ও আটক করতে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ করা আলামত ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজারকে ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে যাতে চোরাচালানের স্বর্ণ প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য নজরদারি আরও জোরদারের কথা জানিয়েছে কোস্টগার্ড। আটক দুজন, মো. আজিম ও মো. ফারুক, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুন: বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদার দাবিতে বিভিন্ন দূতাবাসে ইমেইল করছে একটি চক্র: ডিবি প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


চাঁদার দাবিতে বিভিন্ন দূতাবাসে ইমেইল করছে একটি চক্র: ডিবি প্রধান

বাংলাদেশে অবস্থিত চীন, তুরস্ক এবং পাকিস্তানসহ চারটি দূতাবাসে এবং দেশের সরকারি কয়েকটি দপ্তরে চাঁদার দাবিতে হুমকি দেওয়ার জন্য ই-মেইল পাঠানো হয়েছে।

আজ রবিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দূতাবাসে হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করে এই তথ্য দিয়েছেন।

পরে ডিবি সূত্র তিনটি দূতাবাসের নাম নিশ্চিত করেছে।

ডিবি প্রধান মন্তব্য করেন, একটি অপরাধী চক্র ইন্টারনেটের মাধ্যমে ই-মেইল পাঠিয়ে কূটনৈতিক জোনের বিভিন্ন দূতাবাসে হুমকি প্রদান করছে এবং চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই চক্রটি সাধারণ ও নিরীহ মানুষের বিকাশ নম্বর ব্যবহার করে ই-মেইল পাঠায়, যারা নিজেদের অজানা থেকেও জানে না যে তাদের নম্বর এই অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ডিবি প্রধান আরো বলেছেন, আমাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি শুধুমাত্র চাঁদাবাজি নয়, বরং কাউকে হয়রানি করা বা ব্যক্তিগত শত্রুতার প্রতিফলন ঘটাতে পারে।

এছাড়া, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসগুলোর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এই চক্রের অন্যতম উদ্দেশ্য বলেও মনে করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান ১০২ সাবেক ফরাসি-ব্রিটিশ কূটনীতিকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান ১০২ সাবেক ফরাসি-ব্রিটিশ কূটনীতিকের

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ জন সাবেক কূটনীতিক ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তারা একটি যৌথ খোলা চিঠিতে দুই দেশের সরকারকে আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানাচ্ছেন।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য মঁদে প্রকাশিত শনিবারের চিঠিতে সাবেক কূটনীতিকরা মন্তব্য করেন যে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বর্তমান নীতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে স্থায়ীভাবে নস্যাৎ করে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তারা ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে যৌথভাবে পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছেন যাতে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা যায়।

চিঠিতে বলা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং বসতি স্থাপনকারীদের ব্যাপক সহিংসতা- যা ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের যোগসাজশ দ্বারা সমর্থিত- ‘জাতিগত নিধনের’ শামিল। সাবেক কূটনীতিকরা উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বের কাছে ইসরায়েলের ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা আগের মতো নেই।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক, এমির জোনস প্যারি, এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ফ্রান্সের সাবেক শীর্ষ অফিসার ইভস অউবিন দ্য লা মেজুসিয়ের ও দ্যনি বোশার্ড অন্তর্ভুক্ত আছেন।

সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস হপটন তাঁর মন্তব্যে বলেন, চিঠিতে ব্যবহৃত কঠোর ভাষা কূটনীতিকদের নিজস্ব উদ্ভাবন নয়; বরং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আইনবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার মিলেট বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি এবং দীর্ঘকাল ধরে পশ্চিমা দেশগুলো কেবল ইসলামদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, বাস্তব পদক্ষেপের সময় এসেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি বসতি, গাজায় মানবিক সহায়তা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্যকে সামনে রেখে সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

চিঠিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত, ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ এবং সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করা, এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা।

এছাড়া, চিঠিতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে ইউএনআরডব্লিউএর মাধ্যমে গাজার জন্য বাধাহীন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাংবাদিক, কূটনীতিক এবং আইনপ্রণেতাদের জন্য গাজায় নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

গাজার যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই আহ্বান উত্থাপিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এরপরও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত এক হাজার ২৮৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়ছেন বলে দাবি প্রদর্শন করা হয়েছে।

সাবেক কূটনীতিকদের মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভবনার অবসান হতে পারে।

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ২০২৫ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এখন সেই স্বীকৃতিকে ‘জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তব রূপ’ দিতে হবে।

এছাড়া চিঠিতে ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি নেতৃত্বেরও সমালোচনা করা হয়েছে। বর্তমান ফিলিস্তিনি নেতৃত্বকে ‘অপ্রতিনিধিত্বশীল ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে তারা একটি গণতান্ত্রিক ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানাচ্ছেন।

তবে সাবেক কূটনীতিকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিকোলাস হপটন বলেন, ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রেরই সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে। তিনি সতর্ক করেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, সহিংসতা এবং মানবিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যৌন অপরাধীদের অনিয়ন্ত্রিত যৌন প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ দেওয়ার পরিকল্পনা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


যৌন অপরাধীদের অনিয়ন্ত্রিত যৌন প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ দেওয়ার পরিকল্পনা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যৌন অপরাধে দণ্ডিত কয়েক হাজার পুরুষ বন্দির অনিয়ন্ত্রিত যৌন প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ওষুধ দেওয়ার উপর একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এই কর্মসূচিটি পুরোদমে চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেলিন্ডা উইন্ডার কারাগারে যৌন প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ব্যবহারের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি চারজন যৌন অপরাধীর মধ্যে প্রায় একজনকে এই চিকিৎসার আওতায় আনা হতে পারে। বর্তমানে বন্দির সংখ্যা বিবেচনায়, এ সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন।

সরকারি সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, কারাগারে তীব্র স্থানসংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামের প্রশাসন স্বেচ্ছায় যৌন প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ওষুধের ব্যবহার বাড়াতে আগ্রহী। যদিও শিশু যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক রাসায়নিক খোজাকরণের যে প্রতিশ্রুতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ দিয়েছিলেন, তা নিয়ে মন্ত্রীরা নতুন করে ভাবছেন।

বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ১৫ হাজার কয়েদি যৌন অপরাধের দায়ে সাজা ভোগ করছেন। এছাড়া অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনের সন্দেহে প্রতি মাসে ৮৫০ জনের বেশি পুরুষ গ্রেপ্তার হচ্ছেন।

মেডিকেশন টু ম্যানেজ প্রবলেমেটিক সেক্সুয়াল অ্যারাউজাল বা এমএমপিএসএ শীর্ষক এই পাইলট কর্মসূচিটি আগামী নভেম্বরে ১০টি থেকে বাড়িয়ে মোট ২০টি কারাগারে সম্প্রসারণ করা হবে।

এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো, যেসব অপরাধী অনাকাঙ্ক্ষিত, অবিরত ও তীব্র যৌন চিন্তা, কামোত্তেজনা এবং অস্বাস্থ্যকর যৌন আচরণে ভোগেন, তাঁদের জন্য চিকিৎসাসেবা প্রদান করা।

এ কর্মসূচিতে সারট্রালিনের মতো সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিউপটেক ইনহিবিটরস বা এসএসআরআই জাতীয় ওষুধ দেওয়া হতে পারে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন জাতীয় ওষুধও দেওয়া হতে পারে, যা টেস্টোস্টেরন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে যৌন প্রবণতা কমায়। কিছু ক্ষেত্রে এটি টেস্টোস্টেরনের মাত্রাকে বয়ঃসন্ধিপূর্ব পর্যায়ের কাছাকাছি নামিয়ে আনতে পারে।

বেলিন্ডা উইন্ডার জানান, পাইলট প্রকল্পটি ইতিবাচকভাবে এগোতে থাকলে আগামী ২৮ মাসের মধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সব কারাগার ও প্রবেশন সেবায় এই ওষুধ প্রয়োগের জন্য কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত হতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘মধ্যবর্তী ফলাফল যদি কার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই আইন মন্ত্রণালয় কর্মসূচিটি সার্বিকভাবে চালুর জন্য প্রস্তুত হতে পারবে।’

উইন্ডার আরও বলেন, যারা এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন, ওষুধ সেবন ও পুনরায় অপরাধ না করার প্রতিশ্রুতি দিলেই তাঁদের যথাযথ চিকিৎসাগত সহায়তা দিতে হবে।

গত বছর, তৎকালীন আইনমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পার্লামেন্ট সদস্যদের জানিয়েছিলেন যে, তিনি যৌন অপরাধীদের জন্য স্বেচ্ছায় রাসায়নিক খোজাকরণ কর্মসূচি জাতীয়ভাবে চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তিনি বলেছিলেন, এটি বাধ্যতামূলক করা যায় কি না, সেটিও যাচাই-বাছাই করছেন।

তবে দুজন বিশেষজ্ঞ গার্ডিয়ানকে বলেন, এই পরিকল্পনা কাজে আসবে না। যৌন অপরাধীদের ওপর প্রোজ্যাক নামক ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অন্যতম প্রধান গবেষক উইন্ডারও এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বাধ্যতামূলক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে গেলে বিশালসংখ্যক কারাবন্দির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে, যাতে বোঝা যায় কাদের এই চিকিৎসা প্রয়োজন। সেই সংখ্যাটা কিন্তু বেশ ছোট। অথচ এর জন্য যে বিপুল চিকিৎসা অবকাঠামো ও সম্পদের প্রয়োজন হবে, তার প্রভাব হবে ব্যাপক।’

উইন্ডার আরও জানান, এটি বাধ্যতামূলক করা হলে অপরাধীদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে এবং এর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

এই ওষুধগুলোকে তিনি ‘রাসায়নিক খোজাকরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘মানুষ এ কথা বলে কারণ, যারা যৌন অপরাধ করে তাদের খোজা করে দেওয়ার ধারণাটা অনেকেরই বেশ পছন্দ। কিন্তু খোজাকরণের মতো এই ওষুধের প্রভাব স্থায়ী নয়। এটি কার্যকর রাখতে হলে ধারাবাহিকভাবে সেবন করতে হবে।’

বর্তমান মাসের শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ঘোষণা দেন, ধর্ষণ, গ্রুমিং এবং শিশুদের ওপর গুরুতর যৌন নির্যাতনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের আগাম মুক্তির কর্মসূচির বাইরে রাখা হবে। তবে চার বছরের কম সাজা ভোগ করা অন্যান্য যৌন অপরাধীরা এখনও আগাম কারামুক্তির সুযোগ পাবেন।

অন্যান্য অপরাধীদের তুলনায় যৌন অপরাধীদের মধ্যে পুনরায় অপরাধ করার হার তুলনামূলকভাবে কম। সরকারি তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ যৌন অপরাধী ফের অপরাধে জড়িয়েছেন। আর চুরির মতো অপরাধে দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

কারাবন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা অধিকারকর্মীরা জাতীয়ভাবে এই কর্মসূচি চালুর আগে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। সমালোচকরা এর আগে বলেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে টেস্টোস্টেরন হরমোন দমন করার ফলে অস্টিওপরোসিস ও হৃদ্‌রোগ দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে দৈবচয়নভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা তেমন একটা না হওয়ায় পর্যাপ্ত তথ্যেরও ঘাটতি রয়েছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোমবার তেহরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৭ পি.এম


সোমবার তেহরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করবেন সোমবার।এই তথ্যটি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই প্রদান করেছেন।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ইসমাইল বাঘাই জানিয়ে দিয়েছেন, আসিম মুনিরের সফরের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের চলমান উদ্যোগ অব্যাহত রাখা সফরের আরেকটি উদ্দেশ্য।

বাঘাই বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে পাকিস্তান যে 'আন্তরিক প্রচেষ্টা' চালিয়ে এসেছে, সেটিকে তেহরান গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আসিম মুনিরের সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা গ্রহণের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে, ইরান ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপের পরিবেশ প্রতিষ্ঠার ওপর ইসলামাবাদ জোর দিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সফরে ইরান-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যথাক্রমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সফরের নির্দিষ্ট কর্মসূচি, আসিম মুনির কার সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং আলোচনায় কোন বিষয়গুলোর অগ্রাধিকার প্রাধান্য পাবে- এসব সম্পর্কে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।

ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব প্রদান করেছে।

আসিম মুনিরের তেহরান সফর হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সেহেতু, তার এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য নয়, বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%