০১:০৪ পি.এম
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি)–এর অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি, বিল আটকে রাখা এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে একজন সরবরাহকারী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন।
গত ২০ জুলাই মেডিকিট করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী দুদকে দেওয়া অভিযোগে দাবি করেন, সিএমএসডির বিভিন্ন সরবরাহকারীর বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে আব্দুর রাজ্জাক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করেন। অভিযোগকারীর ভাষ্য, দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে সংশ্লিষ্ট বিল দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কমিশনের দাবির বিষয়ে কেউ আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। কয়েকজন সরবরাহকারী বিষয়টি নিয়ে প্রতিকার চাইলেও কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
দুদকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাকের নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানী ঢাকা ও নিজ জেলা কুড়িগ্রামে বিপুল সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, রাজধানীর মিরপুরে তার স্ত্রীর নামে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে দুটি প্লট এবং বিভিন্ন ব্যাংকে তার ও স্ত্রীর নামে ৩ কোটির বেশি টাকার আমানত রয়েছে। পাশাপাশি কুড়িগ্রামে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাগানবাড়ি এবং জেলা ও নিজ এলাকায় প্রায় ৩০ বিঘা জমি থাকার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশে একটি ৭৯ কোটি টাকার কথিত ভুয়া বিলের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে ওই বিল ছাড় করা হয় এবং সেখান থেকে আব্দুর রাজ্জাক ৬ কোটি টাকার বেশি অর্থ নেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২২ আগস্টের আদেশে আব্দুর রাজ্জাককে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে প্রেষণে পদায়ন করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এরপর থেকেই সিএমএসডির বিভিন্ন কেনাকাটার বিল ছাড়কে কেন্দ্র করে তার প্রভাব বেড়ে যায়। তবে গত দুই বছরে তিনি শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: নিম্নতম মজুরি বোর্ড অচিরেই গঠন হবে: শ্রমমন্ত্রী
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সিএমএসডির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করেন এবং বিভিন্ন সময়ে তাদের নগদ অর্থ ও উপহার দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত রমজানের ঈদে একজন কর্মকর্তা নগদ অর্থ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমএসডির অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এদিকে অভিযোগকারী সরবরাহকারীরা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বিল ছাড়ের প্রক্রিয়া, কথিত কমিশন লেনদেন, সম্পদের উৎস এবং ৭৯ কোটি টাকার কথিত বিলের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
দুদকে দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন