০৬:৫৬ পি.এম
কক্সবাজারের ঈদগাঁও থেকে উদ্ধার হওয়া কামানের ৩টি গোলা অবশেষে ১৭ দিনের পর নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এতে আতঙ্কের অবসান ঘটিয়ে এলাকাবাসির মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরের সময় ঈদগাঁও উপজেলার ভোমরিয়াগোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এসব গোলা নিষ্ক্রিয় করার কথা জানিয়েছেন ঈদগাঁও থানার পরিদর্শক এটিএম সিফাতুল মাজদার।
তিনি বলেছেন, গত ১৮ মে ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুন অফিস এলাকায় কামানের গোলার সদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছিল। বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানার পরপরই তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করে।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
সিফাতুল মাজদার উল্লেখ করেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে বস্তুগুলো কামানের গোলার সদৃশ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। তদুপরি এগুলো নিরাপদে ধ্বংস করার দায়িত্ব দেয়া হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিমকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট একটি নিরাপদ বিস্ফোরণ এলাকা প্রস্তুত করে ঈদগাঁও উপজেলার ভোমরিয়াগোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে। সেখানে তারা মাটি খনন করেন এবং চারপাশে বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এরপর তারা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে কামানের গোলার সদৃশ বস্তুগুলো ধ্বংস করেন।
সিফাতুল মাজদার আরও জানান, কামানের গোলাগুলো নিষ্ক্রিয় করায় এলাকায় আতঙ্ক কেটে গেছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে কামানের গোলাগুলো নিষ্ক্রিয় করার সময় দূর থেকে দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করে। কামানের গোলাগুলো বিস্ফোরিত হওয়ার পর অনেকেই ভয় পান। আবার অনেকেই স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন।
ভাঙারি ব্যবসায়ী নুরুল আজিম জানান, ভারুয়াখালী এলাকা থেকে তিনি লোহা-লক্কড়ের সঙ্গে গোলাকৃতির কিছু ধাতব বস্তু সংগ্রহ করেছিলেন। প্রথমে তিনি ধারণা করেছিলেন, এগুলো কোনো বড় গাড়ির পুরোনো যন্ত্রাংশ বা ধাতব অংশ। সেই ধারণা থেকেই তিনি বস্তুগুলো কিনে নিজের কাছে নিয়ে আসেন।
আরও পড়ুন: শিবচরে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
তিনি বলেন, পরে সেগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে গেলে ক্রেতারা বস্তুগুলো দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং জানান, এগুলো বোমা বা বিস্ফোরক জাতীয় কিছু হতে পারে। বিষয়টি শুনে তিনি বস্তুগুলো একটি ছালার বস্তায় ভরে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজনকে দেখান। তাদেরও এগুলোকে বোমাসদৃশ বলে ধারণা হয়।
নুরুল আজিম আরও বলেন, বস্তুগুলো বাড়িতে রাখা নিরাপদ মনে হয়নি। তাই তিনি দ্রুত প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিদর্শন করে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি ঘিরে রাখে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও এসে বস্তুগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং এগুলো বিপজ্জনক বলে নিশ্চিত হন।
তিনি জানান, কামানের গোলাগুলো দীর্ঘ সময় তার বাড়ির আঙিনায় থাকায় তিনি ও এলাকার মানুষ অনেক আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। পরে পুলিশ সেগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে নিষ্ক্রিয় করায় এখন তিনি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি অনুভব করছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মে ঈদগাঁও উপজেলার নতুন অফিস এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী নুরুল আজিমের বাড়ি থেকে কামানের ৩টি গোলা উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে মহাসড়কে মিলল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন