১২:৪৬ এম
আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে কক্সবাজারের লাবনী এবং ইনানি সৈকত থেকে ৭ টন বর্জ্য সরানো হয়েছে।
শুক্রবার ও শনিবার (১৯ জুন ও ২০ জুন) দুই দিনব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কেওক্রাডং বাংলাদেশ’। এই অভিযানে সংগঠনটির সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সামাজিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা অংশগ্রহণ করেন।
এসময়ে তারা সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে সংগৃহীত ৭ টন অপচনশীল ময়লা-আবর্জনা, যার মধ্যে প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সংগ্রহ করেন। পরে এই ময়লাগুলো কক্সবাজার পৌরসভা ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা হয়।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা উপলক্ষে নীলফামারীর ৮১২ মণ্ডপে এসআরবির বিশেষ নিরাপত্তা
আয়োজকরা জানান, প্লাস্টিক এবং অপচনশীল জাতীয় বর্জ্যের কারণে সৈকতের সৌন্দর্য ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। সৈকতকে তার আগের রূপে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ‘কেওক্রাডং বাংলাদেশ’ দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্র দিবসের সাথে সম্পৃক্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দুই দিনের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে প্রায় ৭ টন প্লাস্টিক ও অপাচনশীল বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মাখদুম মন্তব্য করেন, ‘সমুদ্র দিবসের প্রেক্ষাপটে আমরা পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছি। সৈকত এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় বর্জ্যের বিশাল পরিমাণ দেখে আমরা খুবই অবাক হয়েছি। সচেতন হলে টুরিস্টরা আমাদের সাগরকে সুন্দর রাখতে সাহায্য করতে পারেন।’
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে আসা সৃজিতা রায় জানান, ‘সমুদ্র দিবস উদযাপনের জন্য কক্সবাজারে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিবার জন্য আমি ভারত থেকে এসেছি। আমরা যখন সমুদ্রে ঘুরতে আসি তখন প্লাস্টিক জাতীয় অনেক বর্জ্য সেখানে ফেলে দেই। যদি আমরা নিজেদের তৈরি আবর্জনাগুলো নির্দিষ্ট স্থানে রাখি, তা হলে সেগুলো পুনর্ব্যবহার করা সহজ হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ প্লাস্টিক ব্যবহার করে বেশি। সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে প্লাস্টিক আবর্জনা কমে আসবে।’
কেওক্রাডং বাংলাদেশের পরিচালক মুনতাসির মামুন জানান, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্যে এবার আমরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ইনানি ও লাবনী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছি। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে এত পরিমাণ ময়লা আবর্জনা থাকা উচিত নয়। যে দেশগুলোতে জনসংখ্যা কম, সেখানে ময়লা আবর্জনা তোলার জন্য মানুষের অভাব নেই।’
আরও পড়ুন: বকশীগঞ্জে সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে সভা ও বিক্ষোভ
তিনি আরো বলেন, ‘যদি সবাই ব্যক্তিগতভাবে এই কাজটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তাহলে ময়লা আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকার সম্ভাবনা কমে যাবে। আমাদের আবর্জনা সমস্যার সমাধান রাষ্ট্রের দায়িত্ব, কিন্তু এর জন্য আমাদেরও দায়িত্ব নিয়ে ভাবা উচিৎ। জনবহুল দেশে আবর্জনা সমস্যার সমাধান আমাদের ব্যক্তিগত দায়িত্বের ওপর নির্ভরশীল।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন