০৩:০৫ পি.এম
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পরে দুই মাসের বেশি সময় অতিক্রম হয়েছে। সেই সময় তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, উভয় পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তারপরেও বেশ কয়েকবার ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, তারা চুক্তির দিকে খুব নিকটে পৌঁছেছে।
ট্রাম্প ৭ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে বলেন, তারা ‘অনেকটা এগিয়ে গেছেন তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত করার জন্য দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।’
তিনি উপসংহার টানেন যে, এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাটির সমাধানের কাছাকাছি আসার বিষয়টি সম্মানের।
আরও পড়ুন: ‘সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি’: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
যদিও সেই সময় কোন সমাধান হয়নি, তবুও ট্রাম্প পরবর্তী দুই মাস ধরে বারবার বলেছেন যে একটি চুক্তি প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে।
যুদ্ধবিরতির পূর্বের সময়কালসহ তিনি অন্তত ৩৭ বার এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে, জনসমক্ষে উপস্থিতিতে এবং গণমাধ্যমের ফোন আলাপে তিনি ততবারই প্রকাশ্যে বলেছেন যে একটি চুক্তি আসন্ন, অথবা দাবি করেছেন যে ইরান একটি চুক্তি করতে আগ্রহী।
এখন আবারও ট্রাম্প দাবি করছেন, ইরানের সাথে দ্রুত একটি চুক্তি হতে চলেছে। ৭ এপ্রিলের তুলনায় আজ এটি সত্যি হয়ে উঠতে পারে তার কোন ইঙ্গিত নেই। কিন্তু হল ট্রাম্প এ বিষয়ে বলেই যাচ্ছেন; হয় তিনি মতিভ্রমের শিকার, অথবা আর্থিক বাজারকে স্থিতিশীল করার প্রয়াস করছেন, অথবা ভাবছেন যে তিনি ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে এটাকে সত্যি করে তুলতে পারবেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এটি পরিষ্কার যে, এই দাবির প্রতি বর্তমানে মানুষের গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দুঃখজনক, পর্যালোচনা চলবে : আইনমন্ত্রী
যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে, ২৩ মার্চ ট্রাম্প চুক্তির বিষয়টি সামনে আনেন। ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানের বাইরে সাংবাদিকদের শান্তি আলোচনা সম্পর্কে বলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, আমি বলব, মতৈক্যের প্রধান বিষয়—প্রায় সবগুলো বিষয়ের সম্বন্ধে যা উল্লেখ করেছেন। (বাস্তবিক অর্থে, ইরান আলোচনায় বসার কথা অস্বীকার করেছিল।)
পরের দিন তিনি এমন কথা বলতে শুরু করেন যা এখন একটি সাধারণ অভিব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে: যে ইরান একটি চুক্তি করতে চাচ্ছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমরা এটি শেষ করতে চলেছি। কিন্তু আমি নিশ্চিত করে বলতে পারবো না।’
২৫ মার্চে বিষয়টি এভাবে দাঁড়িয়ে যায় যে, ইরান খুবই মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি করতে ইচ্ছুক। ২৬ মার্চ, মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ইরান চুক্তির জন্য কাকুতি-মিনতি করছিল, এমনটি বলা হয়।
আরও পড়ুন: হরমুজে নৌ-মাইনের বিস্ফোরণে দুই তেল ট্যাংকারে আগুন
(সেই চুক্তিটি করার জন্য এতটা উদগ্রিব থাকার পরেও, ইরান আরো আড়াই মাস ধরে প্রতিরোধ করে গেছে।)
এরপর ২৯ মার্চ, এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে তিনি আগামী সপ্তাহের মধ্যে কোন চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখেন কিনা, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: ‘হ্যাঁ, আমি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে দেখছি।’
এই পর্যায়ে ট্রাম্পের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আরও দৃঢ় হয়ে উঠতে শুরু করে। ৬ এপ্রিল তিনি বলেন, ‘একটি বাধার আগে তারা একটি চুক্তির খুব কাছে ছিলেন।’
এক সপ্তাহ পরে, ১৫ এপ্রিল, তিনি ফক্স বিজনেসকে বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি প্রায় শেষ, আমি এটিকে প্রায় শেষ বলেই মনে করি।’
আরও পড়ুন: ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চে, তেলের বাজারে অস্থিরতা
এভাবে ১৬ এপ্রিল এবং ১৭ এপ্রিল আলাদা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি শিগগিরী সম্পন্ন হতে চলেছে।
২০ এপ্রিল ট্রুথ স্যোশাল পোস্টে ঘোষণা করেন, চুক্তি হবেই।
এভাবে মে মাসের শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প আরও অসংখ্যবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে। সর্বশেষ মঙ্গলবারের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ট্রাম্প ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে একটি চুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: সিএনএন
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে উপচেপড়া ভিড়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন