০৫:২৭ এম
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে গোপন আঁতাত এবং শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা এই পদক্ষেপ কার্যকর করে, তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে চারজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সোমবার (১৩ জুলাই) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরাইল দীর্ঘ সময় ধরে আহমেদিনেজাদকে একটি বড় গোয়েন্দা সম্পদ হিসেবে দলে টানার জন্য অত্যন্ত গোপন অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। ইসরাইলের মূল পরিকল্পনা ছিল, বর্তমান ইরানি শাসনের পতন ঘটিয়ে আহমেদিনেজাদকে দেশটির পরবর্তী শীর্ষ নেতা হিসেবে ক্ষমতায় বসানো।
এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে বুদাপেস্টের লুদোভিকা ইউনিভার্সিটির রেক্টর গেরগেলি ডেলির মাধ্যমে জলবায়ু বিষয়ক একটি সম্মেলনের অজুহাতে আহমেদিনেজাদকে হাঙ্গেরিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। মূলত, এই সম্মেলনটি ছিল আহমেদিনেজাদ এবং ইসরাইলি গোয়েন্দাদের গোপন বৈঠকের একটি ছদ্মবেশ বা কভার। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, তৎকালীন মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া নিজে আহমেদিনেজাদের সাথে দেখা করতে বুদাপেস্টে সফর করেছিলেন। এর পরবর্তী বছরগুলোতে ইসরাইলি এজেন্টরা আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র আলী আকবর জাভানফেক্রকে একাধিকবার বড় অঙ্কের গোপন অর্থ প্রদান করে এবং তাদের মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় থাকে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
গত ফেব্রুয়ারি মাসে আহমেদিনেজাদের ব্যক্তিগত বাসভবনে একটি ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল তার দেহরক্ষী ও সাঁজোয়া গাড়ি। পরে মোসাদ এজেন্টরা তাকে উদ্ধার করে একটি গোপন নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর, সম্প্রতি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইয়ের জানাজায় তাকে শেষবারের মতো জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। তবে এর পরপরই আইআরজিসি পুরো নেটওয়ার্কটি উন্মোচন করে এবং তাকে নিজেদের জালে বন্দি করে গৃহবন্দি অবস্থায় পাঠায়।
আহমেদিনেজাদের সাবেক উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদোলরেজা দাভারি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আহমেদিনেজাদ অর্থের জন্য নয়, বরং ক্ষমতার লোভেই ইসরাইলের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনবার অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর বর্তমান ব্যবস্থার ওপর থেকে তার আস্থা উঠে যায়। তিনি মনে করতেন, বিদেশী শক্তির সহায়তায় তিনি আবার ইরানের শাসনভার গ্রহণ করতে পারবেন। পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে, তিনি অব্রাহাম অ্যাকর্ডের মাধ্যমে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিকল্পনাও তার ছিল। তবে মোসাদ ও আহমেদিনেজাদের মুখপাত্র এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট।
আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন