ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন

ইরানে নতুন হামলা চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ইসরাইল


ইরানে নতুন হামলা চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ইসরাইল

ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশটির সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের মোকাবিলায় ইসরাইলের সামরিক বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক উভয় ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইসরাইল ইরানের সঙ্গে আরেক দফা সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু নতুন হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের হাতে নেই। ট্রাম্পই নির্ধারণ করবেন, তিনি তেহরানের সঙ্গে চুক্তির পথে এগোবেন, নাকি ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে আবারও হামলা চালাবেন।

আরও পড়ুন: ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা রেকর্ডভাবে কমেছে, কলকাতার চিকিৎসা ও পর্যটন ব্যবসা সংকটে

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইসরাইলের প্রস্তুতি এখন আর কেবল পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশটির বিমানবাহিনী সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমায় কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ নিয়ে একাধিক মহড়া পরিচালনা করেছে। এসব মহড়ায় ইরানের সীমান্তমুখী সম্ভাব্য হামলার পথ অনুশীলন করা হয়েছে।

ইয়েদিওথ আহরোনোথের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের উপস্থিতিতে ট্রাম্পের কাছে সামরিক অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প উপস্থাপন করেন। তবে নতুন হামলা শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক কার্গো বিমান ইসরাইলের বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। এসব বিমান মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন অভিযানের প্রস্তুতিও অব্যাহত রেখেছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ‘গার্ডিয়ান শার্ক’ মহড়া শুরু

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় সমস্যা হলো সুস্পষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণের অভাব। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতায় বিমান হামলা চালানো হলে দেশটির সরকার পতন হবে কিংবা নীতিতে পরিবর্তন আসবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

সূত্রগুলোর ধারণা, ইরানকে আলোচনার টেবিলে এনে যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে চুক্তি করতে বাধ্য করার চাপ হিসেবেও সামরিক হামলার হুমকি ব্যবহার করা হতে পারে।

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ইসরাইলের উদ্বেগের সমাধান না করে কোনো চুক্তি হলে দেশটির নিরাপত্তাসংক্রান্ত আশঙ্কা থেকেই যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া সংঘাত নতুন করে শুরু হলে লেবাননেও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগের মতো হিজবুল্লাহ এতে যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মজুতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সূত্রগুলো।

আরও পড়ুন: ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিকে আরও শক্তিশালী হচ্ছে

সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও এগোচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। এসব আলোচনার লক্ষ্য সরাসরি আলোচনার পথ তৈরি করা।

সম্ভাব্য আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং তেহরানকে দেওয়া অর্থনৈতিক প্রণোদনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। এ ছাড়া কোনো চুক্তি হলে চীন ও রাশিয়া এর নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া নয়; বরং সামরিক অভিযান হলে সেটি যেন দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার স্বার্থে কাজে আসে, তা নিশ্চিত করা। এজন্য অভিযানের লক্ষ্য, যুদ্ধ বন্ধের শর্ত এবং প্রত্যাশিত ফলাফল আগে থেকেই স্পষ্ট করা জরুরি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। পরে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে আলোচনা থমকে যাওয়ার মধ্যে জুলাইয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ২৫ অক্টোবর থেকে হরমুজে ১১ ট্যাঙ্কারে আগুনের ঘটনা: আইআরজিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘দার–এ–নিজাত’: প্রেম, প্রতারণা ও নতুন জীবনের গল্পে দর্শকদের উন্মাদনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ এম


‘দার–এ–নিজাত’: প্রেম, প্রতারণা ও নতুন জীবনের গল্পে দর্শকদের উন্মাদনা

শৈশবের বন্ধুত্ব, প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ এবং নতুন করে জীবন শুরু করার কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘দার–এ–নিজাত’। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার সংঘাতের এই গল্পটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালেও সিরিজটি নিয়ে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিভিন্ন দৃশ্য, সংলাপ এবং অভিনয়শিল্পীদের প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ছে। ধারাবাহিকটির দর্শনসংখ্যা নিয়ে চমকপ্রদ তথ্যও সামনে এসেছে।

পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই ডিজিটালের দাবি, মাত্র ২৩ পর্ব প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ‘দার–এ–নিজাত’ ১৭০ কোটির বেশি ভিউ অর্জন করেছে। গত ২৪ অক্টোবর চ্যানেলটি এই সাফল্যের কথা জানায়। তাদের দাবি, এত অল্প পর্বে বিপুল দর্শনসংখ্যা অর্জন করে পাকিস্তানি ধারাবাহিকের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে সিরিজটি। প্রধান অভিনেতা শেহরিয়ার মুনাওয়ারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ ও নতুন সম্পর্কের গল্প

‘দার–এ–নিজাত’-এর কাহিনীর কেন্দ্রে রয়েছে জারিয়াব, জামিল ও আবু বকর। জারিয়াব একজন প্রাণবন্ত তরুণী, যিনি নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থেকে জামিলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। এই সম্পর্ক জারিয়াবের কাছে কেবল ভালোবাসার নয়, বরং একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিশ্রুতিও।

কিন্তু গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন জামিল নিজের জীবন ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি জারিয়াবকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। যে মানুষটির সঙ্গে জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন জারিয়াব, তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়া তরুণীর বিশ্বাসে বড় আঘাত হানে।

এরপর জারিয়াবের জীবনে আবু বকর আসেন। শেহরিয়ার মুনাওয়ার অভিনীত এই চরিত্রের সঙ্গে জারিয়াবের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে গল্পে নতুন মাত্রা যোগ হয়। অতীতের ক্ষত কাটিয়ে ওঠা, নতুন করে কাউকে বিশ্বাস করা এবং জীবনের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার সংগ্রাম কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

ফলে ‘দার–এ–নিজাত’ কেবল প্রেমে বিচ্ছেদের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর একজন মানুষ কীভাবে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন, সেই প্রশ্নও তুলে ধরেছে।

জামিলের সিদ্ধান্তে দর্শকদের ক্ষোভ

ধারাবাহিকটির আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম জামিলের আচরণ। দীর্ঘদিনের প্রেমের পর জারিয়াবকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। বিশেষ করে জারিয়াবকে যথেষ্ট ধার্মিক মনে না করার কারণে তাঁর কাছ থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি দর্শকদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

জামিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে দর্শকদের প্রশ্ন, ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার অধিকার সবারই রয়েছে। কিন্তু নিজের পরিবর্তিত বিশ্বাসের মানদণ্ডে দীর্ঘদিনের সঙ্গীকে বিচার করে সম্পর্ক থেকে সরে যাওয়া কতটা যৌক্তিক?

অনেক দর্শকের কাছে জামিলের আচরণ দ্বিচারিতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত ও দুর্বলতা চরিত্রটিকে বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। কারণ, বাস্তব জীবনেও ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সামাজিক প্রত্যাশা ও আবেগের সংঘাতে মানুষ কখনো কখনো এমন সিদ্ধান্ত নেয়, যার পরিণতি অন্যের জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলে।

চরিত্রটির প্রতি দর্শকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া তাই ধারাবাহিকটির আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দর্শকেরা শুধু পরবর্তী পর্বে কী ঘটবে, তা জানতে চাইছেন না; একই সঙ্গে চরিত্রগুলোর সিদ্ধান্তের নৈতিকতা নিয়েও আলোচনা করছেন।

অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক

প্রেমের সম্পর্কের উপস্থাপন নিয়েও আলোচনা এসেছে ‘দার–এ–নিজাত’। জারিয়াব ও জামিলের সম্পর্কের একটি ইঙ্গিতপূর্ণ দৃশ্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়।

একটি পর্বে জারিয়াব জামিলের বাড়িতে যাওয়ার পর গল্প এগিয়ে যায় পরদিন সকালের ঘটনায়। এরপর চরিত্রগুলোর আচরণ ও জারিয়াবের সঙ্গে তাঁর দাদির কথোপকথন থেকে তাঁদের মধ্যে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন দর্শকেরা।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক দর্শক লেখক উমেরা আহমেদের কাছে জানতে চান, দৃশ্যটির মাধ্যমে কি জারিয়াব ও জামিলের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? উত্তরে উমেরা সংক্ষেপে ‘হ্যাঁ’ বলেন।

ঘটনাটি নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। এক পক্ষের মতে, সরাসরি কিছু না দেখিয়েও দৃশ্যটির মাধ্যমে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ পারিবারিক দর্শকের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এই বিতর্ক থেকে বোঝা যায়, দর্শকেরা এখন শুধু গল্পের বাঁক বা অভিনয় নিয়ে নয়, সম্পর্কের উপস্থাপন এবং সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য নিয়েও মতামত দিচ্ছেন।

উমেরা আহমেদের গল্প, অভিনয়ে শেহরিয়ার ও দুরে–ফিশান

‘দার–এ–নিজাত’ লিখেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার ও ঔপন্যাসিক উমেরা আহমেদ। সম্পর্ক, ধর্মীয় বিশ্বাস, নৈতিকতা এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পরিণতি তাঁর লেখার পরিচিত বিষয়। ‘জিন্দেগি গুলজার হ্যায়’ ও ‘মেরি জাত জাররা–এ–বিনিশান’-এর মতো কাজের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন।

ধারাবাহিকটি পরিচালনা করেছেন সাকিব খান। প্রযোজনায় রয়েছে থ্রিজ এন্টারটেইনমেন্ট। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শেহরিয়ার মুনাওয়ার, দুরে–ফিশান সেলিম ও নামির নওয়াজ খান। এ ছাড়া অভিনয় করেছেন সাহার হাশমি, রোমাইসা খান, সানিয়া সাঈদ, সাবা হামিদ, ফারান তাহির, আদনান জাফর ও নাদিয়া আফগানসহ অনেকে।

জারিয়াব চরিত্রে দুরে–ফিশান সেলিমের অভিনয় নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। কেউ তাঁর অভিনয়ে চরিত্রটির আবেগ, দ্বিধা ও মানসিক টানাপোড়েনের প্রকাশের প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ সংলাপ বলার ধরন নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে আবু বকর চরিত্রে শেহরিয়ার মুনাওয়ারের উপস্থিতি দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। জারিয়াবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নতুন দিকগুলো সামনে আসার পর চরিত্রটি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। নামির নওয়াজ খানের অভিনীত জামিল চরিত্রটিও দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রে রয়েছে।

বাংলাদেশেও কেন আগ্রহ?

পাকিস্তানি ধারাবাহিকের প্রতি বাংলাদেশের দর্শকদের আগ্রহের পেছনে রয়েছে পারিবারিক গল্প, প্রেমের জটিলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাটকীয় দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার ভূমিকা। ‘দার–এ–নিজাত’-এর কাহিনিতেও এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা ভাষা ও দেশের সীমানা ছাড়িয়ে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারে।

ভালোবাসার সম্পর্কে প্রত্যাশা, পরিবার ও সমাজের চাপ, ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সংঘাত এবং বিচ্ছেদের পর নতুন জীবন শুরু করার চেষ্টা-এসব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও পরিচিত।

এ ছাড়া চরিত্রগুলোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্ক ধারাবাহিকটির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। দর্শকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চরিত্রগুলোর আচরণ বিচার করছেন। ফলে সিরিজটি শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনারও উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

শেষ পর্যন্ত বদলাবে কার অবস্থান?

‘দার–এ–নিজাত’-এর গল্পে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অতীতের সম্পর্কের ক্ষত এবং নতুন করে বিশ্বাস গড়ে তোলার লড়াই। জারিয়াব কি আবু বকরের সঙ্গে নতুন জীবনে স্থিতি খুঁজে পাবেন? জামিল কি নিজের সিদ্ধান্তের পরিণতি উপলব্ধি করতে পারবেন? আর ভালোবাসা, অনুশোচনা ও ক্ষমার প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত বদলাবে কার অবস্থান?

এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে দর্শকেরা অপেক্ষায় রয়েছেন। ২৩ পর্বেই ১৭০ কোটির বেশি ভিউয়ের দাবি যেমন ধারাবাহিকটিকে আলোচনায় এনেছে, তেমনি প্রেম, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সম্পর্কের নৈতিকতা নিয়ে এর গল্পও তৈরি করেছে বাড়তি আগ্রহ।

সূত্র: জিও নিউজ ও এআরওয়াই নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ এম


ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

বিশ্বের ইতিহাসে প্রতিদিন ঘটে নানা ঘটনা। উদ্ভাবন ও উন্মোচন হয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। জন্মের পাশাপাশি অনেকের মৃত্যু ঘটে। প্রতিদিনের এসব ঘটনার মধ্যে কিছু ঘটনা মানুষের মনে স্থায়ীভাবে দাগ কাটে। কিছু ঘটনা ইতিহাসের পাতায় উঠে আসে।

রোববার (১ নভেম্বর) এক নজরে দেখা যাক তেমন কিছু ঘটনা।

ঘটনাবলি

১৬০৪ সালে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিয়োগান্ত নাটক ওথেলো প্রথমবার লন্ডনের হোয়াইটহল প্যালেসে মঞ্চস্থ হয়।

১৬১১ সালে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার রোম্যান্টিক কমেডি টেমপেস্ট প্রথমবার লন্ডনের হোয়াইটহল প্যালেসে মঞ্চস্থ হয়।

১৭৫৫ সালে পর্তুগালের লিসবনে একটি ভূমিকম্পে ৬০ হাজার লোকের মৃত্যু ঘটে।

১৭৯৪ সালে ‘ক্যালকাটা মান্থলি জার্নাল’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশনার কাজ শুরু হয়।

১৮০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস হলেন দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি দি এক্সিকিউটিভ ম্যানসনে বসবাস শুরু করেন, যা পরবর্তীতে হোয়াইট হাউস নামে পরিচিত হয়।

১৮২১ সালে পানামার ভূখণ্ড স্পেনের উপনিবেশিক কবল থেকে মুক্ত হয়ে কলোম্বিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়।

১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে ভারতের শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

১৮৬৪ সালে প্রথম পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মানি অর্ডার পদ্ধতি চালু হয়।

১৮৮০ সালে কলকাতায় প্রথম ঘোড়ায় টানা ট্রাম চলাচল শুরু হয়।

১৮৯৭ সালে ইতালীয় ফুটবল দল জুভেন্টাস ফুটবল ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯০৩ সালে পানামার স্বাধীনতাকামী জনতার আন্দোলন সফল হয় এবং তারা স্বাধীনতা অর্জন করে।

১৯১৩ সালে সানফ্রান্সিসকোতে হরদালের নেতৃত্বে গদর (বিপ্লবী) আন্দোলনের সূচনা হয়।

১৯২৪ সালে মঙ্গোলীয় প্রজাতন্ত্রের জন্ম হয়।

১৯৪৪ সালে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইসিএও) গঠিত হয়।

১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালায়, যা হিরোশিমাতে নিক্ষিপ্ত বোমার চেয়ে প্রায় ৫০০ গুণ বেশি শক্তিশালী।

১৯৫৪ সালে আহমদ বিন বালার নেতৃত্বে আলজেরিয়ায় স্বাধীনতাকামী যুদ্ধ শুরু হয়।

১৯৫৫ সালে পর্তুগালে একটি ভূমিকম্পে ৩০ হাজার লোক নিহত হয়।

১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের ফলস্বরূপ মানভূমের একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পুরুলিয়া জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

১৯৫৬ সালে ভারতে রাজ্য পুনর্গঠন আইন, ১৯৫৬ মোতাবেক মহীশূর রাজ্য বর্তমানে কর্নাটক, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের আত্মপ্রকাশ ও পুনর্গঠন হয়।

১৯৭৯ সালে বলিভিয়ার সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে।

১৯৮১ সালে অ্যান্টিগুয়া ও বারমুডা স্বাধীনতা অর্জন করে।

১৯৯২ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার মূল ক্যাম্পাস শান্তিডাঙ্গাতে উদ্বোধন করা হয়।

২০০৭ সালে বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করা হয়।

২০২০ সালে চীনে আদমশুমারি শুরু হয়।

জন্ম

১৮৭৮ সালে কার্লোস সাভেড্রা লামাস, আর্জেন্টাইন রাজনৈতিক নেতা, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী।

১৮৮৯ সালে ফিলিপ নোয়েল-বেকার, ব্যারন নোয়েল-বেকার, কানাডিয়ান শান্তিকর্মী, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী।

১৯২৬ সালে আবু ইসহাক, বাংলাদেশি সাহিত্যিক।

১৯২৭ সালে আবু বারকাত আতাউর গণী খান চৌধুরী, ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং সাবেক সংসদ সদস্য।

১৯৩২ সালে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ।

১৯৩৩ সালে সমীর রায় চৌধুরী, বাঙালি ভারতীয় কবি এবং ছোট গল্পকার।

১৯৪৫ সালে আবু সাইয়িদ, বাংলাদেশের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী। নরেন্দ্র দাভোলকার, ভারতীয় চিকিৎসক, সমাজসেবী ও মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি।

১৯৪৯ সালে মাইকেল ডগলাস গ্রিফিন, মার্কিন পদার্থবিদ এবং মহাকাশ প্রকৌশলী।

১৯৫০ সালে রবার্ট বি. লাফলিন, মার্কিন পদার্থবিদ, পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।

১৯৬২ সালে আনিস বাজমি, ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক।

১৯৬৩ সালে মার্ক হিউজ, ওয়েলসীয় ফুটবলার ও ম্যানেজার।

১৯৬৫ সালে পদ্মিনী কোলহাপুরী, ভারতীয় অভিনেত্রী।

১৯৬৮ সালে আকরাম খান, সাবেক বাংলাদেশি ক্রিকেটার।

১৯৭৩ সালে ঐশ্বরিয়া রায়, ভারতীয় অভিনেত্রী।

১৯৭৩ সালে টিস্কা চোপড়া, ভারতীয় অভিনেত্রী, লেখিকা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা।

১৯৭৪ সালে ভিভিএস লক্ষ্মণ, ভারতীয় ক্রিকেটার।

১৯৮৬ সালে ইলিয়ানা ডি’ক্রুজ, ভারতীয় অভিনেত্রী।

মৃত্যু

১৮৭৩ সালে দীনবন্ধু মিত্র, বাঙালি নাট্যকার।

১৯০৩ সালে টেওডোর মম্‌জেন, জার্মান লেখক, নোবেল সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী।

১৯১৫ সালে বাংলা ক্রিকেটের জনক সারদারঞ্জন রায়।

১৯৫০ সালে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাঙালি কথাসাহিত্যিক।

১৯৫৫ সালে রামনাথ বিশ্বাস, ভারতীয় বিপ্লবী, সৈনিক, ভূপর্যটক ও ভ্রমণকাহিনী লেখক। তিনি ১৯৩৬ ও ১৯৩৭ সালে সাইকেলে চড়ে বিশ্বভ্রমণ করেন।

১৯৭০ সালে ফ্রাঁসোয়া মারিয়াক, নোবেলজয়ী ফরাসি সাহিত্যিক।

১৯৮৪ সালে নিবারণ পণ্ডিত, গণসঙ্গীত রচয়িতা।

১৯৯৩ সালে সেভেরো ওচোয়া, স্পেনীয় বায়োকেমিস্ট, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।

১৯৯৬ সালে জুনিয়াস রিচার্ড জয়েবর্ধনে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কল্যাণপুরে নিষিদ্ধ মশাল মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ এম


কল্যাণপুরে নিষিদ্ধ মশাল মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ

ঢাকার কল্যাণপুরে মশাল মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মিরপুর রোডের দারুস সালাম এলাকা থেকে শুরু হয়ে শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় এসে শেষ হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক সদস্য মশাল হাতে মিছিলে অংশ নিয়েছেন।

মিছিলটি বের করার জন্য মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবের নির্দেশনা ছিল।

এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে তেজগাঁও বিভাগের সেকেন্ড ইন কমান্ড (টুআইসি) মো. ফজলুল হক জানান, সন্ধ্যার দিকে দারুসসালাম থানা এলাকা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মশাল মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় এসে শেষ হয়।

তবে, দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন তার এলাকায় মিছিলের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোয়াড চীনবিরোধী জোট নয়, জানিয়েছেন মার্কো রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ এম


কোয়াড চীনবিরোধী জোট নয়, জানিয়েছেন মার্কো রুবিও

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের চার দেশের জোট কোয়াডকে চীনবিরোধী কোনো সংগঠন হিসেবে দেখা উচিত নয়, এমন মন্তব্য করেছেন মার্কো রুবিও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেছেন, কোয়াড কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি। বরং এই জোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) আটলান্টায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও এই বক্তব্য দেন। কোয়াডের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া অন্তর্ভুক্ত, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

রুবিও আরও বলেন, কোয়াডকে চীনবিরোধী বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে গঠিত জোট হিসেবে দেখা উচিত নয়। এই চার দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় কাজ করাই কোয়াডের উদ্দেশ্য।

আগামী নভেম্বরে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় কোয়াডের চার দেশের নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি হবে জোটটির দুই বছরের বেশি সময় পর প্রথম শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগেই আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কোয়াডের সাম্প্রতিক যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত উৎপাদন, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, বাজারবহির্ভূত বাণিজ্যিক চর্চা এবং সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিষয় চীনের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিউ চাং এক বিবৃতিতে বলেছেন, বেইজিং একচেটিয়া গোষ্ঠী গঠন ও জোটভিত্তিক সংঘাতের বিরুদ্ধে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কোনো আঞ্চলিক উদ্যোগ যেন তৃতীয় কোনো পক্ষকে লক্ষ্য করে গড়ে না ওঠে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটনে সর্বশেষ কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত বছর ভারতের সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে শুল্ক, বাণিজ্য এবং অন্যান্য বিষয়ে টানাপোড়েনের কারণে সম্মেলনের প্রস্তুতি বিলম্বিত হয়েছিল, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছর জোটটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে অস্ট্রেলিয়া।

কোয়াডের সদস্য দেশগুলো সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহব্যবস্থা জোরদারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত মে মাসে চার দেশ ২০ বিলিয়ন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উদ্যোগের কাঠামো ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় নির্ভরতা কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের মধ্যেও কোয়াডের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে কোয়াড সম্মেলন আয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগ।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এডগার কাগানের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে কোয়াড নেতাদের সম্মেলন আয়োজন তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এর মূল লক্ষ্য চীনকে সরাসরি বার্তা দেওয়া নয়; বরং আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে শক্তিশালী করা। তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%