১০:৩৪ এম
ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশটির সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের মোকাবিলায় ইসরাইলের সামরিক বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক উভয় ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইসরাইল ইরানের সঙ্গে আরেক দফা সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু নতুন হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের হাতে নেই। ট্রাম্পই নির্ধারণ করবেন, তিনি তেহরানের সঙ্গে চুক্তির পথে এগোবেন, নাকি ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে আবারও হামলা চালাবেন।
আরও পড়ুন: ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা রেকর্ডভাবে কমেছে, কলকাতার চিকিৎসা ও পর্যটন ব্যবসা সংকটে
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইসরাইলের প্রস্তুতি এখন আর কেবল পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশটির বিমানবাহিনী সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমায় কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ নিয়ে একাধিক মহড়া পরিচালনা করেছে। এসব মহড়ায় ইরানের সীমান্তমুখী সম্ভাব্য হামলার পথ অনুশীলন করা হয়েছে।
ইয়েদিওথ আহরোনোথের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের উপস্থিতিতে ট্রাম্পের কাছে সামরিক অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প উপস্থাপন করেন। তবে নতুন হামলা শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক কার্গো বিমান ইসরাইলের বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। এসব বিমান মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন অভিযানের প্রস্তুতিও অব্যাহত রেখেছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ‘গার্ডিয়ান শার্ক’ মহড়া শুরু
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় সমস্যা হলো সুস্পষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণের অভাব। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতায় বিমান হামলা চালানো হলে দেশটির সরকার পতন হবে কিংবা নীতিতে পরিবর্তন আসবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
সূত্রগুলোর ধারণা, ইরানকে আলোচনার টেবিলে এনে যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে চুক্তি করতে বাধ্য করার চাপ হিসেবেও সামরিক হামলার হুমকি ব্যবহার করা হতে পারে।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ইসরাইলের উদ্বেগের সমাধান না করে কোনো চুক্তি হলে দেশটির নিরাপত্তাসংক্রান্ত আশঙ্কা থেকেই যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া সংঘাত নতুন করে শুরু হলে লেবাননেও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগের মতো হিজবুল্লাহ এতে যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মজুতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সূত্রগুলো।
আরও পড়ুন: ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিকে আরও শক্তিশালী হচ্ছে
সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও এগোচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। এসব আলোচনার লক্ষ্য সরাসরি আলোচনার পথ তৈরি করা।
সম্ভাব্য আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং তেহরানকে দেওয়া অর্থনৈতিক প্রণোদনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। এ ছাড়া কোনো চুক্তি হলে চীন ও রাশিয়া এর নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া নয়; বরং সামরিক অভিযান হলে সেটি যেন দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার স্বার্থে কাজে আসে, তা নিশ্চিত করা। এজন্য অভিযানের লক্ষ্য, যুদ্ধ বন্ধের শর্ত এবং প্রত্যাশিত ফলাফল আগে থেকেই স্পষ্ট করা জরুরি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। পরে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে আলোচনা থমকে যাওয়ার মধ্যে জুলাইয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ২৫ অক্টোবর থেকে হরমুজে ১১ ট্যাঙ্কারে আগুনের ঘটনা: আইআরজিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন