০৩:০৯ পি.এম
দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্র উষ্ণায়নের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘ এক সতর্কবার্তা জারি করেছে।
জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) মঙ্গলবার সতর্ক করে জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সমুদ্র উষ্ণায়ন, সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ক্রমশ বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, সংস্থাটির “দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে জলবায়ুর অবস্থান ২০২৫” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিশাল জলরাশি ক্রমাগত উষ্ণ ও অম্লীয় হয়ে উঠছে, যার প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতি ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর পড়ছে। একইসঙ্গে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় জনগোষ্ঠী ও নিচু দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর ২০২৫ সাল ছিল রেকর্ড ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণতম বছর, যেখানে চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাবলি ব্যাপক বিপর্যয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং প্রাণহানির কারণ হয়েছে। ভূমি ও সমুদ্র মিলিয়ে গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ১৯৯১-২০২০ সালের স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে প্রায় ০.৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।
ডব্লিউএমও-প্রধান সেলেস্তে সাউলো বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বহু দেশ ও ভূখণ্ডের জীবিকা, অর্থনীতি এবং টিকে থাকার সক্ষমতা মূলত সমুদ্রকেন্দ্রিক। তার ভাষ্যে, ২০২৫ সালে এই অঞ্চল একযোগে উষ্ণ সমুদ্র, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ, সমুদ্রের অম্লীকরণ, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় এবং ক্রান্তীয় হিমবাহের ক্ষয়ের মুখোমুখি হয়েছে।
হিমবাহ ধ্বংসের পথে
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলের কথা, যেখানে ১৯৮৮ সালের তুলনায় বর্তমানে অবশিষ্ট পার্বত্য বরফের পরিমাণ মাত্র প্রায় দুই শতাংশে নেমে এসেছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, এই অঞ্চলের শেষ অবশিষ্ট ক্রান্তীয় হিমবাহটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
সমুদ্রের তাপ ও অম্লীকরণ
ডব্লিউএমও জানায়, ২০২৫ সালে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের ব্যাপ্তি আগের বছরের তুলনায় কম হলেও, এল নিনো ছাড়া কোনো বছরে রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ছিল এটি — যা ২০২৬ সালের জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করছে, কারণ একটি শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি গড়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১৯৯৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ বার্ষিক গড়ে ৩.৭ মিলিমিটার হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে ক্রমবর্ধমান পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণের ফলে সমুদ্রের পানি ক্রমশ অম্লীয় হয়ে উঠছে, যা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, আবাসস্থল এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
জেনেভাভিত্তিক এই সংস্থার আঞ্চলিক প্রতিবেদনগুলোর মূল লক্ষ্য নীতিনির্ধারণ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন