বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৫০ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়া ইউক্রেনে ‘অগ্রহণযোগ্য’ অস্ত্র সরবরাহ না বাড়াতে সতর্ক করেছে।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয়।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে উদ্ধৃত করে তারা জানায়, ম্যানিলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র সঙ্গে বৈঠকে তিনি ‘কিয়েভ সরকারকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে জোর দিয়েছেন।
ম্যানিলা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানায়।
একটি এশীয় শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ল্যাভরভ ইউরোপীয় দেশগুলোর ‘অস্থিতিশীলতামূলক নীতির’ নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এসব দেশ এখনও রাশিয়াকে ‘কৌশলগতভাবে পরাজিত’ করার চেষ্টা করতে অব্যাহত রয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ল্যাভরভ সংঘাতের ‘রাজনীতিগত ও কূটনৈতিক সমাধান’ খুঁজে বের করতে রাশিয়ার প্রস্তুত থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এটি ছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর ল্যাভরভ এবং রুবিও’র মধ্যে প্রথম বৈঠক।
বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ওয়াশিংটনের মনোযোগ ইউক্রেনে মধ্যস্থতার পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ মোকাবিলার দিকে সরে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছেন, আন্দোলনের নামে ভারতকে পাকিস্তান-বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এর আগে এমন চেষ্টা সফল হয়নি, এবং এবারও হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কলকাতার রাজারহাট-নিউটাউনে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখী হয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্যটি করেন।
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে গত কিছুদিন ধরেই ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। 'কাকরোচ জনতা পার্টি'র ব্যানারে এই আন্দোলন ভারতের রাজধানীতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের ‘বিদেশি শক্তির পেশাদার পুতুল’ হিসেবেও উল্লেখ করে দিলীপ ঘোষ জানান, ভারতকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা চলছে।
বিজেপির এই নেতা আরও বলেন, যে বিশিষ্ট চরিত্রগুলো বর্তমানে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা কয়েক বছর ধরে একই ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। কিছু লোক বর্তমানে চুপ থাকলেও, তারা ধীরে ধীরে সামনে আসবে। তিনি বলেন, 'আন্দোলনজীবী' নামধারী কিছু লোক সহজ-সরল মানুষকে সামনে রেখে বারবার দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। তাদের সহজ লক্ষ্য হলো পার্লামেন্টের অধিবেশন। ওই সময় সেখানে গণমাধ্যমের ও জনগণের নজর বিশেষভাবে থাকে, তাই তারা সেই সুযোগটি বেছে নিচ্ছে।
তারপর দিলীপ ঘোষ বলেন, এসব লোক অনেক চেষ্টা করেছে ভারতকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কার মতো বানাতে। তবে, তারা সফল হয়নি এবং এবারও হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনকারীদের পরিণতি কৃষক আন্দোলনের মতো হবে। একই ব্যক্তি—যারা কৃষক আন্দোলনে সক্রিয়, তারাই ছাত্র আন্দোলন ও নারী আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে।
বিদেশি শক্তির সাহায্যের অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতা জানান, এই আন্দোলনকারীরা বিদেশি শক্তির পেশাদার কাঠের পুতুল। সুতরাং, তারা কিছুটা উৎপাত তো অবশ্যই করবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ভুলে যাবেন না, সরকারটি নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের। তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। আন্দোলনকারীরা সুস্পষ্টভাবে চায় সরকার কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক, আর তখন সেটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সারা দেশে পুনরায় অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
আন্দোলনকারীদের বিদেশের দালাল বলে তীব্র কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, তাদের পেছনে বাংলাদেশের মানুষ নেই, জনতাও নেই। এ কারণে তারা বারবার নির্বাচনে পরাজিত হচ্ছে। কিছু 'দালাল টাইপের' লোক বিদেশের স্বার্থ রক্ষার কাজে লিপ্ত রয়েছে এবং সামনে এসে লাফাচ্ছে। সাধারণ জনগণ তাদের চিনে ফেলেছে। প্রথমে যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, সেই সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এখন বুঝতে পেরেছে যে তাদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এই আন্দোলনজীবীরা বিদেশের টাকায় উসকানিমূলক কাজ করে দেশে উৎপাত সৃষ্টি করছে। তবে, তাদের দিন প্রায় শেষের দিকে। ছাত্রদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তারা বারবার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়। যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করেছে, তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—যাতে কেউ এই ধান্দাবাজদের ফাঁদে না পড়ে।
রাহুল গান্ধী ও বিরোধী নেতাদের প্রতি আক্রমণ করে তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী এর আগে মোদীজির মা সম্পর্কে কী বলেছেন, তা সবার জানা। এখন যেসব নেতা বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের কোনো সংকোচ নেই। কারণ তাদের সংসার চলে অন্যের টাকায়। এরা তো শুধু অন্যদের মাইকের স্পিকার হিসেবে কথা বলে। অনেক বিদেশি শক্তি রয়েছে, যারা ভারতের উন্নয়ন ও ঐক্য চায় না। তারা এদের দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফোলারিন বালোগানের বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে যাচ্ছে নরওয়ে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান দ্য টাইমস-কে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত পুরো খেলাটিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এনএফএফ) সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস বলেছেন, তিনি ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে অভিযোগ দায়েরের জন্য বোর্ডের অনুমোদন চাইবেন। এটি এমন একটি ঘটনা যা কখনোই ঘটতে পারতো না।
এর আগে এনএফএফ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রথম শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিল। সেই সিদ্ধান্তটি ব্যাপকভাবে উপহাসের শিকার হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দ্য টাইমস-এর এক সাক্ষাৎকারে ক্লাভেনেস বলেন, "আমি বিষয়টি বোর্ড সভায় তুলব এবং বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করব। এরপর আমরা অভিযোগ দায়ের করব। আমার কাছে এটি একই ধরনের নৈতিকতার প্রশ্ন।"
মূলত বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে বালোগান ইস্যুতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বালোগান লাল কার্ড দেখে মাঠ ত্যাগ করেন। নিয়ম অনুযায়ী বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর এক ম্যাচের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। পরে জানা যায় ট্রাম্প ফোন করে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলার পরই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। এতে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
আর তারই সূত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে যেন শেষ ষোলতে বেলজিয়াম স্বাগতিকদের ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়।
ক্লাভেনেস বলেন, "আপনি যখন এভাবে একটি নিয়ম ভেঙে দেন, তখন সেটি এমন এক বিপজ্জনক পথে নিয়ে যায় যা শেষ পর্যন্ত পুরো খেলাটিকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। খেলার মৌলিক নিয়মগুলোর সঙ্গে আপস করা হলে সেটি ফুটবলের জন্য উদ্বেগের বিষয়। প্রথমত এটি কখনোই ঘটতে উচিত ছিল না। এখন এ নিয়ে সৎ ও স্বচ্ছ যোগাযোগ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই জানি, এই সিদ্ধান্ত বাইরের শক্তির প্রভাবে নেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের দরকার ফিফা প্রধান প্রকাশ্যে স্বীকার করুন যে এটি একটি ভুল ছিল। ধামাচাপা দিয়ে লাভ হবে না।"
২০২২ সাল থেকে এনএফএফের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার ক্লাভেনেস। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপ্রধানের চাপের কাছে নতি স্বীকার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির। তিনি বলেন, "আপনি যদি রাষ্ট্রনেতাদের বা রাষ্ট্রীয় রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে এভাবে মানিয়ে নিতে শুরু করেন, তাহলে আপনার আচরণ, সংস্থার আচরণ এবং রাষ্ট্রনেতাদের হস্তক্ষেপের সীমারেখাই বদলে যাবে। আর সেটাই এখানে ঘটেছে।"
ক্লাভেনেস আরও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এই কারণে যে, দ্য টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল-কামালি একা নিয়েছিলেন এবং কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেননি।
তিনি বলেন, "আপনি যখন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেন, বিশেষ করে যখন বাইরের কোনো অত্যন্ত প্রভাবশালী কণ্ঠ আপনার কানে কথা বলছে, তখন সিদ্ধান্ত গ্রহণে একাধিক মতামত থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি তা না থাকে, তাহলে সেটি একটি ভুল।"
ক্লাভেনেস বলেন, বিষয়টি চুপচাপ ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।
৪৫ বছর বয়সী এই আইনজীবী বলেন, "এখন যদি কেউ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। অনেকে কোচ, খেলোয়াড়, সমর্থক- অনুভব করেছেন যে বিষয়টি খেলার খুব কাছাকাছি গিয়ে আঘাত করেছে।"
আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানান ক্লাভেনেস। তিনি দক্ষিণ আমেরিকার পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব ৪৮ দল থেকে বাড়িয়ে ৬৪ দলে উন্নীত করার প্রস্তাবেরও কড়া সমালোচনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগের দল ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ক্লাবের সহ-মালিক সাবেক ইংলিশ ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর, ফ্রি এজেন্ট হিসেবে তিনি এই মার্কিন ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন।
তিনি ২০২৭ মেজর লিগ সকার (এমএলএস) মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই তারকা চুক্তিটি ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগও রেখেছেন। এই খবরটি ইএসপিএন থেকে এসেছে।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার হয়ে বহু বছর এল ক্লাসিকোতে মুখোমুখি লড়াই করার পরে, অবশেষে তাকে লিওনেল মেসির সাথে একই দলে খেলতে দেখা যাবে।
তিনি ইন্টার মায়ামির 'ডেজিগনেটেড প্লেয়ার' (ডিপি) স্লট দখল করবেন না। বর্তমানে ক্লাবের ডিপি স্লটে খেলোয়াড় হিসেবে রয়েছেন লিওনেল মেসি, রদ্রিগো দে পল এবং জার্মান বার্টারেমে।
চুক্তিটি অফিশিয়াল হলেও, এমএলএস কতৃপক্ষ বর্তমানে ইন্টার মায়ামির বিরুদ্ধে একটি ট্যাম্পারিং (নিয়মবহির্ভূত যোগাযোগ) অভিযোগের তদন্ত করছে। এলএ গ্যালাক্সি ক্লাবের কাছে ক্যাসেমিরোর ‘ডিসকভারি রাইটস’ থাকা সত্ত্বেও, মায়ামি সরাসরি তার সাথে যোগাযোগ করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
অবশ্য দুই ক্লাব ইতিমধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে লিগ কর্তৃপক্ষ নিয়মভঙ্গের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা জানান, পরিবারসহ মায়ামি শহরের প্রতি ভালোবাসা এবং মূলত লিওনেল মেসির সাথে খেলার তীব্র ইচ্ছা থেকেই তিনি ইউরোপ ও সৌদি আরবের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে এখানে এসেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের পিছনে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশ্রয় ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে, নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামির সঙ্গে কার কী ধরনের যোগসাজশ ছিল, এই প্রশ্নের উত্তরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রথমত মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় পলাতক ছিলেন। যদিও তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তথাপি তিনি এক দেশ থেকে আরেক দেশে অবাধে যাতায়াত করতেন। বাংলাদেশের ভেতরেও নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতেন। তৎকালীন (আওয়ামী লীগ) সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য তিনি বাংলাদেশে টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। তিনি অভিজাত অঞ্চলে থাকতেন। সরকারের প্রশ্রয় বা সংশ্লিষ্টতা না থাকলে, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কিভাবে রক্ষা করতেন, তা অনুমান করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি তৎকালীন সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, যার মাধ্যমে মোজাফফর হোসেন মানবতাবিরোধী অপরাধে অংশ নেন। তার সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মতো দুষ্কৃতকারীদেরও সুসম্পর্ক ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে হবে। আমাদের তদন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের সম্পর্কীয়, তাই এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা দেখবো আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের কর্মকাণ্ডে তার কী সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অর্থাৎ আমাদের বিচারের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে আলাদা। তবে মোজাফফর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবে। আমাদের প্রয়োজন হলে তাকে সেখান থেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের প্রচলিত আইনে বিচার চলবে।
পাশাপাশি, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।
এ আদেশ প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল দ্বারা জারি করা হয়।
গত ২১ জুলাই, প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে। এর ধারাবাহিকতায় মোজাফফরকে আজ সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ