বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:১৯ পি.এম
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে ওঠা চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তিনি তুলে ধরেন।
চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিনিয়োগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘আনোয়ারার চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে প্রকল্পটি আটকে ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রায় সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হয়েছে। ফলে চীনা বিনিয়োগের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। আমার জানামতে, এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি এ জোনে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় আমি তার সঙ্গে ছিলাম। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বড় বিনিয়োগ ফোরামে তিনি অংশ নেন এবং দালিয়ানে চীনের বেশ কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। আমিও চীনের বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘কয়েকদিন আগে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, ইতোমধ্যে ১২টি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিবেচনায় বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্প রয়েছে।’
ইয়াও ওয়েনের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম বড় অর্জন হলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে চীনা কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি। আনোয়ারার চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের অগ্রগতি চীনা ব্যবসায়ীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে যে, বাংলাদেশ বর্তমানে চীনা বিনিয়োগের জন্য একটি বন্ধুত্বপূর্ণ গন্তব্য। এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২২ থেকে ২৬ জুন সরকারি সফরে চীন সফর করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকার বিএনপির এক নেতা দায়ের করা হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলায় পুলিশ মুরাদনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রায় ২০ ঘণ্টা আটক থাকার পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে তাকে কুমিল্লা আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এর আগে, বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গাইঢুলি এলাকা থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তিনি গ্রেপ্তার হন পুলিশ কর্তৃক।
সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফ মৃত মনিরুল হকের ছেলে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা, মানবকণ্ঠ এবং স্থানীয় আজকের কুমিল্লা পত্রিকার জন্য মুরাদনগর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে আসছেন।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ জুন প্রকাশিত একটি সংবাদের সূত্র ধরে মাহবুব আলম আরিফ তার পরিচালিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। সেখানে ওই ঘটনার একমাত্র আসামি ফজর আলীকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনার পর ৯ জুলাই মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১১ নম্বর আমলি আদালতে হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে আরিফের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরবর্তীতে তাই, মামলার ফলে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তিনি সাংবাদিক, এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর বিক্রমকে নিয়ে লিখিত ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ শিরোনামের গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, তিন খণ্ডে প্রকাশিত গ্রন্থটি মুক্তি পান। উক্ত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক কালাম ফয়েজী রচিত এই গ্রন্থটিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনা, নেতৃত্ব, উন্নয়ন দর্শন এবং জাতীয় জীবনে তার বহুমাত্রিক অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
মোড়ক উন্মোচনের সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও অন্যান্য মহল থেকে প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সদ্যবিদায়ী জুন মাসে দেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ তথ্য বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত জুন মাসে দেশের রপ্তানি আয় বেড়ে গেছে। প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। আর ২০২৬ সালের জুন মাসের রপ্তানি হয়েছে ৪২০ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পণ্য।
জুন মাসে তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আয় ছিল ২৭৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।
এই খাতের মধ্যে রপ্তানি আয়ের ১৮৪ কোটি ১ লাখ ডলার এসেছে নিটওয়্যার রপ্তানি থেকে। নিটওয়্যার রপ্তানিতে বছর ব্যবধানে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। অপরদিকে ১৫৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার এসেছে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে। এই খাতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ।
ইপিবির তথ্যানুযায়ী, জুন মাসে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খাতের মধ্যে কৃষি পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং হোম টেক্সটাইলের পণ্যরপ্তানি আয় বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি আয় জুন মাসে ৫৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ডলারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ছোট আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে কবর খুঁড়ে সাদ্দামের লাশ উত্তোলন করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পূর্ব শত্রুতার কারণে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত কৃষকদল নেতা সাদ্দাম হোসেন (৩২) মারা যান। তার মৃত্যুর দুই মাস পর ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে তার লাশটি উত্তোলন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান, নারান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোছলেহ উদ্দীন এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শামসুল হক মিঠুসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একদল সদস্য।
নিহত সাদ্দাম হোসেন ছোট আজলদী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে এবং পেশাগতভাবে তিনি একজন দর্জি ছিলেন। এছাড়া তিনি নারান্দী ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
মামলা সূত্রে উল্লেখ করা হয়, সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মো. গোলাপ মিয়া ও মো. মানিক মিয়ার পরিবারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে ব্যবসায়িক কাজ শেষে সাদ্দাম হোসেন ছোট আজলদী বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি যখন বাড়ির উঠানে পৌঁছান, তখন পূর্ব থেকে অবস্থান করা প্রতিবেশী গোলাপ মিয়া, আজিজুল ও মানিকসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলে।
এসময় আজিজুল হকিস্টিক দিয়ে সাদ্দামের মাথায় আঘাত করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অন্যান্যরা দা ও লাঠি দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। উঠানে হইচই শুনে সাদ্দামের স্ত্রীসহ স্বজনরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় এবং পরে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সেখানে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের ২৭ প্লাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথায় অপারেশন করা হয়। চিকিৎসক তখন বলেছিলেন, ৭২ ঘন্টা পার না হলে কিছুই বলা যাবে না। কিন্তু ৭২ ঘন্টা পার হওয়ার পরেও তার জ্ঞান ফেরেনি। পরে আবার তাকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে ১ মাস আইসিইউতে থাকার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে, নিজ বাড়িতে চিকিৎসা চলাকালীন, গত ২ মে শনিবার রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান সাদ্দাম। এরপর তার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহত সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী কারিশমা আক্তার ঝুমা গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়। তবে এ মামলায় পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুরে পারিবারিক কবরস্থান থেকে সাদ্দামের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। পরে লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সাদ্দামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ