ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জেনেভায় আইএলও মহাপরিচালকের সঙ্গে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাক্ষাৎ


জেনেভায় আইএলও মহাপরিচালকের সঙ্গে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাক্ষাৎ

জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক মি. গিলবার্ট হুংবোর সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আজ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বৈঠকে, মন্ত্রী শোভন কাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইএলওর নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের সরকারের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম অধিকারের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য আইএলওর বৈশ্বিক জোট গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইএলওর সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। আবার বৈঠকে, মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৩৯টি আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে এবং এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে সকল মৌলিক আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থনের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে সরকারি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও প্রকাশ

তিনি শ্রম খাত সংস্কার ও জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ গঠনের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং একসঙ্গে আইএলওতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার ইতিবাচক নিষ্পত্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও, মন্ত্রী আইএলও মহাপরিচালককে বাংলাদেশ সফর করে বাংলাদেশের চলমান শ্রম খাত সংস্কার কার্যক্রম এবং শ্রমিক কল্যাণে গৃহীত উদ্যোগসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শনের আহ্বান জানান।

আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশে আইএলও’র দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সম্ভাব্য সফরের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়বে কিনা, গণশুনানি আগামীকাল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা মামলায় ৩ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা মামলায় ৩ জন গ্রেফতার

পাবনায় ছেলের সামনে বাবা, হোসেন আলী ওরফে হোসেন ঠাকুরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার (১০ জুন) দিবাগত ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছেন: পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের আকমল খাঁর ছেলে, মতিয়ার রহমান (৪০), পুষ্পপাড়া গ্রামের মৃত আমিন প্রামানিকের ছেলে শরীফ প্রামাণিক (৩৫) এবং জাফরাবাদ গ্রামের সোহরাব মোল্লার ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৮)। তবে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামিদের পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে, হত্যার ঘটনাটির আগে, মঙ্গলবার (০৯ জুন) সন্ধ্যায় নিহত হোসেন আলীর স্ত্রী আফসানা খাতুন বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন।

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে, পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেছেন, বুধবার সকালে পুলিশের অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, একটি অবিস্ফোরিত গুলি এবং একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এবং পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি লাল পতাকা, যার সদস্যরা আঞ্চলিক নেতা এবং সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধে লিপ্ত ছিল। এই বিরোধের সূত্র ধরে প্রায় এক মাস আগে হোসেন আলীকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি-না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে, হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি, যারা ঘটনাস্থলে গুলি চালিয়েছিল, জাফরাবাদ পুরাতনপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মনিরুল ইসলাম ওরফে তোতা (৩৫) এবং গোপলা’র ছেলে শাহীন (২৮) এখনো গ্রেফতার হয়নি। গ্রেফতার তিনজন আসামি নয়।

এই প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জানান, মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ৮ থেকে ১০ জন রয়েছে। মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং হত্যায় জড়িত সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় পাবনা শহরের মাসুম বাজার এলাকায় জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায়, ছেলের সামনে হোসেন আলীকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪০৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৮ পি.এম


বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৪০৪ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই

বাংলাদেশ সরকার দেশের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাত উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহায়তার জন্য ৪০৪ মিলিয়ন (৪০ কোটি ৪০ লাখ) মার্কিন ডলারের একটি ঋণ এবং অনুদান চুক্তিতে সই করেছে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে।

এই চুক্তি বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) আওতাধীন বিশ্বব্যাংক-৫ শাখার উপ-সচিব আবদুল কাদেরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, চুক্তির আওতায় বিশ্বব্যাংক ২৮৪.৭০ মিলিয়ন এসডিআর—যা প্রায় ৩৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য—ঋণ হিসেবে প্রদান করবে। তাছাড়া 'গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি' থেকে আরও ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে।

এই অর্থ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি আলাদা প্রকল্পের জন্য ব্যয় করা হবে, যার মেয়াদ নির্ধারিত হয়েছে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

'হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং প্রজেক্ট' নামে প্রথম প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এর লক্ষ্য হলো, দেশব্যাপী বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার মান, সহজলভ্যতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।

দ্বিতীয় প্রকল্পটি জলবায়ু-সহনশীল প্রজনন স্বাস্থ্য এবং জনসংখ্যা সেবা সংক্রান্ত, যা পরিবারের পরিকল্পনা অধিদফতর বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্প জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করবে।

বিশ্বব্যাংকের এই ঋণের পরিশোধের মেয়াদ ৩০ বছর, যার মধ্যে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। ঋণের ছাড় দেওয়া অর্থের ওপর বার্ষিক ১.২৫ শতাংশ সুদ প্রযোজ্য হবে এবং ০.৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এছাড়া, অবমুক্ত না হওয়া অনুত্তোলিত তহবিলের জন্য ০.৫০ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরসহ বর্ধিত সময়ের জন্য এই কমিটমেন্ট ফি মওকুফ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপে স্বপ্নপূরণে গিয়ে ৫ মাসে সাগরে প্রাণ হারিয়েছে ১৩০০ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩১ পি.এম


ইউরোপে স্বপ্নপূরণে গিয়ে ৫ মাসে সাগরে প্রাণ হারিয়েছে ১৩০০ জন

উন্নত জীবন ও পরিবারের স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে গত ৫ মাসে স্পেনের উপকূলে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) মানবাধিকার সংস্থা কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস এই তথ্য জানিয়েছে, যা আফ্রিকা থেকে পারাপারের বিপজ্জনক পথের নজরদারি করছে আটলান্টিক মহাসাগর ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের ক্ষেত্রে।

এই প্রতিবেদনটি স্পেনের দ্বীপপুঞ্জ ক্যানারি দ্বীপে পোপ লিওর সফরের আগে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে অনিয়মিত অভিবাসন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গত এক দশকে।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় ১ হাজার ৩১৭ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়াও, ২৭টি নৌকা সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় আরোহীসহ নিখোঁজ হয়ে গেছে।

চলতি সপ্তাহে স্পেন সফরকালে পোপ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রতি ইউরোপের দেশগুলোর আচরণের বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুর্দশাকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করার মতো একটি সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বলছে, ইউরোপের কাছাকাছি মৌরিতানিয়ার মতো স্থানগুলোতে পারাপার বন্ধের চেষ্টা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কোস্ট গার্ড বা নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি থেকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হচ্ছে। এই চেষ্টার ফলস্বরূপ তারা আটলান্টিক মহাসাগরের আরও দীর্ঘ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়ে গেছেন।

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এবং পশ্চিম আফ্রিকা উপকূলের মধ্যে সর্বনিম্ন দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রায়ই মরক্কো থেকে স্পেনের মধ্যবর্তী ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি ভিন্ন পথ দিয়ে সাঁতরে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনলাইনে স্পার্ম খুঁজতে গিয়ে ভয়ংকর ফাঁদে নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৩ পি.এম


অনলাইনে স্পার্ম খুঁজতে গিয়ে ভয়ংকর ফাঁদে নারীরা

অনলাইনে সাশ্রয়ীমূল্যে শুক্রাণু বা স্পার্ম খুঁজতে গিয়ে ভয়ংকর ফাঁদে পড়ছেন নারীরা; অনেককেই হতে হচ্ছে যৌন হয়রানির শিকার। 

ইউরোপের দেশ যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে এমনই তথ্য তুলে ধরেছে বিবিসি ওয়েলস-এর এক অনুসন্ধানী দল। 

তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ উপায়ে বন্ধ্যাত্ব বা ফার্টিলিটি চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে অনেক ব্রিটিশ নারী বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিকল্প খুঁজছেন, যা তাদের সামাজিক বাস্তবতা। ফলে বড় ধরনের অনিয়ন্ত্রিত বাজার তৈরি হচ্ছে, যেখানে কেউ কেউ শুক্রাণু খোঁজার জন্য ‘টিন্ডার ফর স্পার্ম’-এর মতো ওয়েবসাইটের দিকেও ঝুঁকছেন।

অনুসন্ধানী দলটি অনলাইনে শুক্রাণুর বিজ্ঞাপন দেওয়া একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ডেলিভারির শর্তে ১০০ পাউন্ডের বিনিময়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। ওই ব্যক্তি অনলাইনে তার এ নমুনাকে ‘বেবি ব্যাটার’ হিসেবে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন এবং সেটি টমেটো পাতার হিমায়িত এক কার্টনের সঙ্গে এক বাক্সে ভরে পাঠিয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের ফার্টিলিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, নারীরা এখানে ‘শিকারী ও সুবিধাবাদী দাতাদের মাধ্যমে নিপীড়নের’ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিবিসি দেখেছে অনলাইনে শুক্রাণু সংগ্রহ করা অনেক সহজ এবং সেখানে সেবা দিতে আগ্রহী পুরুষের কোনো অভাবও নেই।

অনলাইনের এক বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডাকযোগে ডেলিভারির জন্য ‘জো ডোনার’ নামের এক ব্যক্তির ওপর ‘ভরসা’ করতে। ‘জো ডোনার’ একজন অতি-সক্রিয় দাতা এবং তার দাবি, সরাসরি শারীরিক সম্পর্ক ও কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার ১৮০টি সন্তান রয়েছে।

অনিয়ন্ত্রিত শুক্রাণু দানের বিপদ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করতে কার্ডিফের এক ফ্যামিলি কোর্টের বিচারক ব্যতিক্রমী একটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি জনস্বার্থে এ ব্যক্তির আসল নাম ‘রবার্ট অ্যালবন’ বলে প্রকাশ করেছেন। এক ছদ্মনাম ব্যবহার করে বিবিসি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তার কাছ থেকে পরদিনই ডেলিভারি নিশ্চিত করতে বিবিসির কেবল কয়েকটি ইমেইল ও সংক্ষিপ্ত এক ফোন কলের প্রয়োজন হয়েছে।

এক্ষেত্রে বিবিসির পরিচয় যাচাইয়ের কোনো প্রয়োজন মনে করেননি ওই ব্যক্তি। এমনকি তিনি এমন কোনো হেলথ চেক বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টও নিজে থেকে বিবিসিকে দেখাননি। তিনি ডাকযোগের মাধ্যমে নগদ ১০০ পাউন্ড চার্জ করেছিলেন এবং এক সিরিঞ্জ করে শুক্রাণু পাঠিয়েছিলেন, যা ঠাণ্ডা রাখার জন্য বরফের টুকরার বদলে টমেটো পাতার বক্স ব্যবহার করেছেন।

নমুনাটি পাওয়ার চার ঘণ্টা পর লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্লিনিকে তা পরীক্ষা করিয়েছে বিবিসি। চিকিৎসকেরা বলেছেন, এর ভেতরের সব শুক্রাণু কোষ মৃত।

শুক্রাণু খুঁজছেন এমন নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অ্যালবন এবং আরও শত শত পুরুষ ফেইসবুক ব্যবহার করছেন, সেখানকার কিছু কিছু দলের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার পর্যন্ত।

এ ধরনের এক ডোনার দলে যোগ দিয়ে বিবিসি দেখেছে, সেখানে কিছু মেসেজ বেশ আন্তরিক হলেও অনেকেই সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব, নমুনার জন্য অর্থ দাবি, অন্তরঙ্গ ছবি ও দেখা করার ব্যবস্থা করতে অনবরত মেসেজ পাঠান।

কিছু পুরুষ ক্রমাগত শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকে এবং বোঝানোর চেষ্টা করে, এটাই গর্ভধারণের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর উপায় হবে।

ওই দলে একজন নারীকে পোস্টে সতর্ক করতে দেখা গিয়েছে, যেখানে তিনি লিখেছেন, নর্থ ওয়েলসের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি শুক্রাণু নিয়েছিলেন। তবে পরে জানতে পারেন যে ওই ব্যক্তি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী।

‘হিউম্যান ফার্টিলাইজেশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজি অথরিটি’ বা এইচএফইএ বলেছে, তাদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানির বাইরে যে কোনো ধরনের শুক্রাণু দানই অনিয়ন্ত্রিত ও যুক্তরাজ্যের আইন অনুসারে তা ফৌজদারি অপরাধ।

সাউথ ওয়েলসের তিয়ানা ও তার স্ত্রী নিকিও এ অনিয়ন্ত্রিত প্রজনন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকেছিলেন। তারা বলেছেন, এনএইচএস থেকে সরকারি অর্থায়নের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য তারা ছিলেন না, আর বেসরকারিভাবে এ চিকিৎসা করানো তাদের জন্য ব্যয়বহুল।

তিয়ানা বলেছেন, ‘এখানে আপনি এমন কিছু অদ্ভুত মানুষের মুখোমুখি হবেন যারা সম্পূর্ণ ভুল ও অনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব কাজ করছে।’

এ দম্পতি কৃত্রিম প্রজনন খুঁজছিলেন তবে তারা বলেছেন, পুরুষেরা প্রায়শই সবচেয়ে ভালো উপায় হিসেবে সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের পরামর্শ দিতেন।

তিয়ানা ও নিকি শেষ পর্যন্ত ‘কো-প্যারেন্টিং’ নামের ওয়েবসাইটে এমন একজন দাতার সন্ধান পান যাকে তাদের নিরাপদ মনে হয়েছে। পরবর্তীতে তারা একটি চুক্তি করেন, যাতে যোগাযোগ ও অভিভাবকের অধিকার সংক্রান্ত পরিকল্পনার বিষয়ে সব পক্ষই স্পষ্ট ধারণা পায়।

তবে, এমনটা কোনো আইনি চুক্তি নয়। তিয়ানা বলেছেন, ভবিষ্যতে এমন একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়, দাতা ভবিষ্যতে এসে সন্তানের ওপর নিজের দাবি করে আমাদের আদালতের মুখোমুখি করতে পারেন। তবে আমি মনে করি এমনটা বন্ধের জন্য আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করে রেখেছি এবং আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি তিনি আমাদের সঙ্গে এমন করবেন না।

এ অনিয়ন্ত্রিত দাতারা বিভিন্ন উপায়ে তাদের সেবা দিয়ে থাকে; যার মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়, আবার কেউ কেউ কৃত্রিম প্রজননের জন্য বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়ে যাওয়ার যাতায়াত খরচ দাবি করে বসে।

২৫ বছর বয়সী ড্যানিয়েল বায়েন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। তবে, কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে শুক্রাণু দান করতে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে তিনি যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন। তার দাবি, এ সফরের ফলে চারটি শিশুর জন্ম হয়েছে।

বিবিসি তিন দিন ধরে ড্যানিয়েলের তথ্যচিত্র ধারণ করেছে। ড্যানিয়েল তার অনলাইন ভিডিওগুলোতে নিজেকে একাধারে ‘সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া দাতা’ ও ‘অলাভজনক’ উদ্দেশ্যে কাজ করা ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেছেন।

তবে, তার ভাষ্য, যুক্তরাজ্যের গ্রাহকদের কাছ থেকে তিনি কেবল যাতায়াত খরচই চেয়েছেন। তবে অন্য জায়গায় ডোনেশনের জন্য তাকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত অফার করা হয়েছিল বলে দাবি করেন ড্যানিয়েল।

যাদের খরচ করার মতো অর্থ আছে, তাদের এই দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার বিষয়ে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, অন্য লোকে কী ভাবল তা নিয়ে আমি সত্যিই পরোয়া করি না। আমি যাদের সঙ্গে কাজ করি, সেসব শিশু ও পরিবারের জন্য কোনটা সবচেয়ে ভালো আমি কেবল সেটাই ভাবি।

নিজেকে একজন ‘ওপেন ডোনার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ড্যানিয়েল বলেছেন, অবশ্যই, আপনার স্বাস্থ্য ও এসডিআই বা যৌনবাহিত রোগ পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে মিথ্যা বলা উচিত নয়। তবে আপনি কোথায় কাজ করেন, কী করেন বা গ্রহীতাদের মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়াটা একদম ঠিক আছে। যেমন ধরুন আপনার পুরো নাম বা ঠিকানা।

ড্যানিয়েলের দাবি, যুক্তরাজ্যে শুক্রাণু দেওয়ার সময় তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি।

যুক্তরাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিভিন্ন ক্লিনিক এইচএফইএ-এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে বিশেষ এক পেইজ তৈরি করেছে, যেখানে মানুষ এ সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।

এইচএফইএ বলেছে, তারা বেশ কয়েকজন অতি-সক্রিয় অনিয়ন্ত্রিত দাতাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। মানুষের ব্যবহারের জন্য ডিম্বাণু বা শুক্রাণু ‘ব্যবহার, সংরক্ষণ, সংগ্রহ, পরীক্ষা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ’ করা সম্পূর্ণ অবৈধ, যদি না এসব কাজ এইচএফই-এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো ক্লিনিকে হয়।

এইচএফইএ-এর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর ক্লেয়ার এটিংহাউসেন বলেছেন, আইন একেবারে স্পষ্ট যে, এইচএফইএ-এর লাইসেন্স ছাড়া আপনি শুক্রাণু প্রক্রিয়াজাত বা বিতরণ করতে পারবেন না। ডাকযোগে পাঠিয়ে সে আসলে এ আইনটিই লঙ্ঘন করছেন ড্যানিয়েল।

এর জবাবে অ্যালবন বলেছেন, এসব নিয়ম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ তার ধারণা, ব্যক্তিগতভাবে শুক্রাণু দান করা, যার মধ্যে এর জন্য চার্জ করাও অন্তর্ভুক্ত তা সম্পূর্ণ আইনি ও বৈধ। তিনি কোনো অসহায় বা দুর্বল নারীর জন্য ‘সরাসরি কোনো হুমকি’ নন।

এটিংহাউসেন বলেছেন, ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা ‘আইন ভাঙার এ প্রক্রিয়াটিকে সহজতর করে তুলছে’। মার্চে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের একটি সিলেক্ট কমিটিতেও তিনি এ বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।

এইচএফইএ বলেছে, তারা এ বিষয়ে সরাসরি মেটার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। তবে বাস্তবতার নিরিখে এটিংহাউসেন বলেছেন, এ ধরনের সামাজিক মাধ্যম দলগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে এ অনৈতিক চর্চাটি হয়ত অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হবে।

তিনি নারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য, এসব দাতার মধ্যে কেউ কেউ কেবল ন্যাচারাল ইনসেমিনেশন বা সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে শুক্রাণু দানের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, যা কিছু ক্ষেত্রে নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তাদের শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য বা প্ররোচিত করার শামিল।

ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা বলেছে, তারা ‘তাদের সঙ্গে শেয়ার করা যে কোনো গ্রুপ বা পোস্ট পর্যালোচনা করবে এবং তাদের নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে এমন কনটেন্ট সরিয়ে দেবে’। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর জন্য আমাদের নির্দিষ্ট রিপোর্টিং প্রক্রিয়া রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা এমন কনটেন্ট চিহ্নিত করতে পারে, যা হয়ত আমাদের পলিসি ভাঙছে না তবে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করছে। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%