০৯:০৮ পি.এম
কক্সবাজার, ৮ আগস্ট ২০২৬ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এ দ্বীপের প্রতিবেশ-পরিবেশ সুরক্ষা এবং দ্বীপের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে যা কিছু করা প্রয়োজন, সবকিছুই আমরা করব।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। জনগণের স্বার্থ, দেশের স্বার্থ, আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং দ্বীপের অস্তিত্ব সবকিছু সমন্বয় করে আমরা একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। এই পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ বা যা করা উচিত, সেটাই আমরা বাস্তবায়ন করব।
আজ সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে ২০ হাজার চারা গাছ রোপণ ও সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং এনরুট ফাউন্ডেশন সেন্টমার্টিন দ্বীপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
আরও পড়ুন: হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে যারা বসবাস করছেন তারা দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তাদের ব্যাপারটি আমাদের গুরুত্বের সাথে বিবেচনার মধ্যে রাখতে হবে। কারণ দ্বীপটা তারা লালন এবং ধারণ করছেন। তাই দ্বীপের সঙ্গে তাদের একটা মমত্ব গড়ে উঠেছে। অনেক প্রতিকূলতার ভিতরে তারা দ্বীপে অবস্থান করছেন।
মহেশখালীতে প্যারাবন কাটার ব্যাপারে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন করছি না। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা এসব অন্যায় কাজে প্রশ্রয় দিচ্ছি না। আমাদের কাছে তথ্য আসার সাথে সাথে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের একটি অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের বিরূপ প্রভাব থেকে এই দ্বীপকে সুরক্ষিত রাখতে বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র বৃক্ষ রোপণ করলেই হবে না, রোপণ করা গাছগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সেন্টমার্টিনকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই রাখতে সরকার, স্থানীয় জনগণ, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশসহ বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনরুট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. তারিকুল হক ও হেড অফ প্রোগ্রাম জুবায়ের ইবনে হাসনাত অভি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর কক্সবাজার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক, ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, উপজেলা কোর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়া, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।
আরও পড়ুন: বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
আয়োজকেরা জানান, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বিগত ৩ বছরে সারা দেশে ৩২ লক্ষ বৃক্ষ রোপণ সম্পন্ন করেছে।
সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করার জন্য আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ৭৫ লক্ষ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন