বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৮ পি.এম
কুমিল্লা জেলা জুড়ে কিশোর গ্যাং এবং বখাটেদের কার্যকলাপ রোধে একটি নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতের এই বিশেষ অভিযানে একযোগে জেলার ১৮টি থানায় অভিযান চালানো হয় এবং মোট ৬২৪ জনকে আটক করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের কার্যকলাপ নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সেই হত্যাকাণ্ডের পর জনদাবির মুখে পুলিশ এই ধরপাকড়ের বিশাল অভিযানে নেমে ৬২৪ জনকে আটক করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে জেলাজুড়ে উঠতি বয়সের কিশোর-তরুণদের মধ্যে ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাজিক নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ১৮টি থানা ও ডিবি পুলিশ একযোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং প্রতিটি থানার বখাটে অধ্যুষিত ও চিহ্নিত আস্তানাগুলোতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অভিযানের তদারকি করেন।
কোতোয়ালি থানায় সর্বোচ্চ আটক:
অভিযানের অংশ হিসেবে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। এই থানা এলাকা থেকে ৭৫ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া দাউদকান্দি থানা এলাকা থেকে ৫৯ জন, বুড়িচং থানায় ৫০ জন, সদর দক্ষিণ থানায় ৪৬ জন, মনোহরগঞ্জ থানায় ৪১ জন এবং লাকসাম থানায় ৩৫ জনকে আটক করা হয়। বাকি ১২টি থানায় আটক ৩১৮ জনের যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।
দাউদকান্দি থানায় স্বজনদের হট্টগোল:
এদিকে, জেলাজুড়ে পুলিশের এই কঠোর অভিযানের মধ্যে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় একটি তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৯টার দিকে কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক হওয়া সন্তানদের ছাড়িয়ে নিতে দাউদকান্দি থানায় বিপুলসংখ্যক স্বজন ভিড় জমায়। একপর্যায়ে তারা থানায় হট্টগোল ও ভাঙচুর চালিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, এই সুযোগে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কয়েকজন আটক হওয়া কিশোর পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্বজনদের একাংশ পুলিশ স্টেশনে উত্তেজনা সৃষ্টি করে জোরপূর্বক আটকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ঘটনার পর থানার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
সাঁড়াশি অভিযানের পেছনে রয়েছে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ড:
গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংস হামলায় নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লা ফুঁসে ওঠে এবং বখাটেদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের প্রতি তীব্র জনদাবি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ এই মেগা সাঁড়াশি অভিযান শুরু করতে বাধ্য হয়।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের জিরো টলারেন্স অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সমাজ থেকে কিশোর গ্যাংয়ের অপসংস্কৃতি দূর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের বিষয়ে পূর্ব অপরাধের রেকর্ড বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও স্ক্রিনিং শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ‘অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর যেন কাউকে রাজপথে রক্ত দিতে না হয় সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ-উল আমীন অডিটরিয়ামে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
কায়সার কামাল উল্লেখ করেন, ‘ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। গবেষণা ও শিক্ষার পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনে তারা রাজপথেও নেমেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে, ব্যবস্থাকে বারবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সে কারণে বলছি, এনাফ ইজ এনাফ। আমরা ভবিষ্যতে আর রাজপথে গিয়ে বুলেটকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে মেধার মূল্যায়ন হবে, প্রত্যেকের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।’
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘ওই আন্দোলন কোনো একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছিল।’ অতীতে মেধার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পাওয়া এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রভাব ও দলীয়করণের কারণে সুযোগবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
কায়সার কামাল বলেন, ‘নেত্রকোনার গারো পাহাড়ের পাদদেশের একটি এলাকা থেকে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলাম। আমাদের চোখের সামনে কোনো সীমানা রাখা যাবে না। আপনারা প্রত্যেকেই মেধাবী। কিন্তু সেই মেধার বিকাশের জন্য নিয়মিত অনুশীলন ও চর্চা প্রয়োজন। আমরা কেউ জানি না, ভবিষ্যতে কে কোথায় পৌঁছাব।’
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের তুলনায় পরে স্বাধীনতা পেলেও দেশটির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। শুধু স্বাধীন দেশ, পতাকা ও পাসপোর্ট পাওয়ার গর্বের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে প্রশ্ন করতে হবে, নিজের জায়গা থেকে দেশের জন্য কতটা কাজ করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেফালী বেগমসহ শিক্ষক ও নবীণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
করাচি, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (এএফপি) : পাকিস্তান এশিয়ান গেমসে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। তবে, তাদেরকে কিছু ঘাটতি পূরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন। সেমিফাইনালের সম্ভাব্য এই লড়াইয়ের আগে পাকিস্তানকে কোয়ার্টার ফাইনাল অতিক্রম করতে হবে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে সহজ দলই রয়েছে।
ভারতের পুরুষ দল দুটি বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে এবং তারা বর্তমানে এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন। গত বছরের মে মাসে হেসন পাকিস্তানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে, ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে তিনবার এবং চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একবার ভারতের কাছে হেরেছে পাকিস্তান।
দলের জাপান যাত্রার আগে করাচিতে হেসন বলেন, “এই মুহূর্তে সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতই মানদন্ড। তাদের পর্যায়ে পৌঁছানোই আমাদের চ্যালেঞ্জ।”
জাপানে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের প্রতিযোগিতা আজ থেকে শুরু হয়েছে। এশিয়ান গেমসে পাকিস্তান ও ভারত কখনো মুখোমুখি হয়নি। তবে, ১ অক্টোবর নাগোয়ায় সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত বছরের দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে হেসন বলেন, “আমরা যতটা সম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভারতের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেলে আমরা অবশ্যই তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করব, যেমনটা এশিয়া কাপের ফাইনালে করেছিলাম।”
পাকিস্তান প্রথমে ২৮ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে পুল বি-এর চ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি হবে। পুল বি-তে রয়েছে হংকং, ওমান ও মালয়েশিয়া।
হেসন বলেন, পাকিস্তানকে শুরুটা ভালো করতে হবে। তিনি বলেন, “এখন থেকে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাওয়া পর্যন্ত দুই দলেরই অনেক ক্রিকেট খেলতে হবে। তাই আমরা নিজেদের নিয়ে খুব বেশি দূর আগেভাগে ভাবছি না।”
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে পাকিস্তান এখন পর্যন্ত কোনো পদক জিততে পারেনি। ২০১০ ও ২০২৩ সালে তারা ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে হেরেছে। ২০১৪ সালের আসরে তারা অংশ নেয়নি।
ভারত এশিয়ান গেমসের জন্য পূর্ণশক্তির দল পাঠালেও পাকিস্তান দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয় রয়েছে। দলের অধিনায়ক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশ মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের জন্য সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর উদ্দেশ্যে ১২টি নির্দেশনা প্রদান করেছে। সম্প্রতি, বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোটরসাইকেল চালক এবং আরোহীদের হেলমেট পরিধান করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, গাড়ির চালক ও যাত্রীদের সিট বেল্ট ব্যবহার করার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেলে চালকসহ সর্বোচ্চ দুজন চলাচল করতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে।
গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার এবং অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল যথাযথভাবে অনুসরণ করার কথাও বলা হয়েছে।
বড় ও ভারী যানবাহনের ‘ব্লাইন্ড স্পট’ সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি, লেন পরিবর্তন বা মোড় নেওয়ার পূর্বে ইন্ডিকেটর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য যানবাহনের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গাড়ি চালানোর কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
কুয়াশা, বৃষ্টি বা প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যানজট বা অন্য চালকের ভুলের কারণে ধৈর্য হারানো থেকে বিরত থাকার এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখার কথাও বলা হয়েছে।
মাদক সেবন করে, তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় অথবা উল্টো পথে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং না করে নির্ধারিত লেন অনুসরণের নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ যানবাহনের প্রয়োজনীয় সব হালনাগাদ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কে চলাচলের সময় এসব নির্দেশনা মেনে চলার জন্য চালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাগোয়া (জাপান), ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : চীনের ১৩ বছর বয়সী সাঁতার প্রতিভা ইউ জিদি এশিয়ান গেমসে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের জন্যও প্রতিপক্ষদের জন্য একটি সতর্কবার্তা রেখে গেছেন।
এই স্কুলছাত্রী চলতি সপ্তাহে টোকিওতে অনুষ্ঠিত তিনটি ব্যক্তিগত ইভেন্টে এশিয়ান গেমসের নতুন রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ পদক অর্জন করেছেন। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তার বয়সের তুলনায় সত্যিই অবিশ্বাস্য।
সুইমিং পুলের বাইরে, তিনি সাধারণ কিশোরীদের মতোই। সতীর্থদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করেন, তবে যখন নিজের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন।
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের সময় ইউয়ের বয়স হবে ১৫ বছর। তখন তিনি বিশ্ববাসীর নজরে বড় পদকের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠতে পারেন।
ইউয়ের ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে পরাজিত সতীর্থ কে ওয়েনসি মন্তব্য করেন, “সে কোনো কারণ ছাড়াই এত দ্রুতগতির হয়ে ওঠেনি। আমি তার অনুশীলনে কতটা পরিশ্রম করতে দেখেছি। জাতীয় দলের এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে, আমি প্রতিদিন তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে দেখেছি।”
এই সপ্তাহে ইউ ২০০ মিটার বাটারফ্লাই এবং ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতেও জয় লাভ করেছেন। তার সময়গুলো চলতি বছরের বিশ্বের দ্রুততম সময়গুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। ২০০ মিটার মিডলেতে তার সময় বিশ্ব রেকর্ডের চেয়ে মাত্র ০.৪ সেকেন্ড পিছিয়ে ছিল। কানাডার সামার ম্যাকিনটোশের দখলে রয়েছে বিশ্বরেকর্ডটি। লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনি ইউয়ের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন।
অলিম্পিক নিয়ে ইউ বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তিনি কেবল বলেছেন, তিনি “কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে” চান।
এতে তার পরিণত মানসিকতা এবং সাফল্যের পথে মনোযোগ ধরে রাখার দৃঢ় ইচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “এই এশিয়ান গেমস থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, তবে কিছুটা আফসোসও আছে। আমি ফিরে গিয়ে যেসব জায়গায় ভালো করতে পারিনি, সেগুলো পর্যালোচনা করব এবং আশা করি পরেরবার আরও ভালো করতে পারব।”
চলতি সপ্তাহে প্রতিযোগিতা করা সহজ ছিল কি না জানতে চাইলে ইউ কিছুক্ষণ বিস্মিত চোখে তাকিয়ে থেকে বলেন, “অবশ্যই নয়।”
সতীর্থদের সঙ্গে তিনি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন, বিশেষ করে ১৫ বছর বয়সী কে-এর সঙ্গে।
টোকিওতে একই কক্ষে থাকা ইউ ও কে ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় হওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশের সময় হাত দিয়ে হৃদয়ের আকৃতি তৈরি করেন এবং আনন্দের সঙ্গে গল্প করেন।
কে বলেন, “আমাদের ঘরে তিনটি বিছানা আছে, দুটি পাশাপাশি জোড়া দিয়ে একটি বড় বিছানা বানানো হয়েছে, আরেকটি ছোট। আমি তাকে বড় বিছানাটি দিয়েছি, কারণ ছোটটিই আমার জন্য যথেষ্ট ছিল। আমি চেয়েছিলাম, সে যেন আরাম করে ঘুমানোর জায়গা পায়।”
ছয় বছর বয়সে একটি ওয়াটার পার্কে সাঁতার কোচের নজরে আসার পর থেকেই তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালিয়ে আসছেন।
জানুয়ারিতে তিনি বলেছিলেন, “সারাদিন ক্লাস করার পরও প্রশিক্ষণ নিতে হতো, যা সত্যিই ক্লান্তিকর ছিল।”
এশিয়ান গেমসের অভিজ্ঞতাকে তিনি “চ্যালেঞ্জিং” বলে অভিহিত করেছেন। অলিম্পিকের পথে তার জন্য পরিস্থিতি সহজ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে ইউ লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসের অন্যতম তারকা হয়ে উঠতে পারেন।
প্রতিযোগিতা শুরুর আগে কী নিয়ে ভাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি অন্য কিছু নিয়ে ভাবি না। শুধু ছোট ছোট বিষয় এবং আমার গতিবিধি নিয়ে ভাবি।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ