শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৩ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন, যখন জাতীয় সংসদ কার্যকরভাবে কাজ করছে, তখন আন্দোলনের নামে রাজপথে লং মার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংসদের বিতর্ককে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকটি যৌথভাবে আয়োজন করে ‘সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ’ এবং ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস’ (বিসিএআই)।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে সংসদীয় বিতর্ককে অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লং মার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দেশের সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলো এসব বিষয় কতটা বুঝে করছে তা জানা নেই, কিন্তু এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি নানান অপশক্তি অপেক্ষা করছে।
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদের চর্চা, ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থা এবং দেউলিয়া অর্থনীতির চরম অচল অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে সরকার নতুন একটি সঠিক গতিমুখ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। সংকট এত গভীর ছিল যে, রাতারাতি কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়; তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি সুনিশ্চিত করতে সরকার ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভর ও ভুল নীতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো অপরিহার্য খাতে দেশ আজ হিমশিম খাচ্ছে।
তিনি বলেন, এতদিন ক্ষমতায় থেকেও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া কেবল দুর্নীতিই ছিল না, বরং এটি ছিল জাতির সঙ্গে এক দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা। বর্তমান সরকার সংকটের কথা বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে না, বরং প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে বিকল্প উৎস সন্ধান এবং নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন।
তিনি আরও বলেন, সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে চীন ও ভারতের পাশাপাশি পণ্য আমদানির নতুন উৎস তৈরি, আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার বিশেষ জোর দিয়েছে।
সংসদে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবলমাত্র সরকারি দলকে ফাঁদে ফেলার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংসদীয় রাজনীতি ধরে রাখা যায় না। কেবল কৃত্রিম ও ভাষাভাষা সমালোচনা না করে যেকোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ নিয়ে আসলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আলোচনাসভায় অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্তর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ বিশিষ্ট রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আজ (শনিবার) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
সেখানে বলা হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মতিঝিল থানা ৫ জন, পল্টন থানা ১০ জন, সবুজবাগ থানা ৫ জন, খিলগাঁও থানা ৬ জন, রামপুরা থানা ৮ জন, শাহজাহানপুর থানা ৯ জন এবং মুগদা থানার ৭ জন রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলার তজুমদ্দিনে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে মো. নজরুল ইসলাম মঞ্জু (৫২) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাসনভাঙ্গা চরের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
পরে অন্য জেলেরা তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নজরুল ইসলাম মঞ্জু তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেয়ামূল্যাহ গ্রামের মৃত বদিউজ্জামালের ছেলে।
শশীগঞ্জ মাছঘাটের আড়তদার জামাল উদ্দিন জানান, তার আড়তের জেলেরা মাছ ধরে ঘাটে ফেরার সময় চরের মধ্যে একজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি অন্য জেলেদের জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দিব্যেন্দু রায় রাজিব বলেন, বজ্রপাতে আহত অবস্থায় ওই জেলেকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের একাংশ ঝলসে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, বজ্রপাতে এক জেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘বড় ছেলে’ নাটকের আবেদন ৯ বছরেও কমেনি।
বাংলা নাটকের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য নাম হিসেবে পরিচিত ‘বড় ছেলে’। মিজানুর রহমান আরিয়ানের পরিচালনায় জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও মেহজাবীন চৌধুরী অভিনীত এই নাটকটি মুক্তির পর দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
ইউটিউবের ভিউয়ের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি নাটকের গল্প ও অভিনয়ের আবেগ অসংখ্য দর্শককে কাঁদিয়েছে।
দেখতে দেখতে, নাটকটি এখন নয় বছর পেরিয়ে গেছে। ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়া ‘বড় ছেলে’ আজ নয় বছর পূর্ণ করেছে। এই বিশেষ দিনে নাটকটির স্মৃতি নিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখেছেন অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব।
অপূর্ব তাঁর ফেসবুক পেজে ‘বড় ছেলে’র শেষ দৃশ্যের দুটি স্থিরচিত্র শেয়ার করেছেন। ছবিগুলোতে তাঁকে ও মেহজাবীনকে বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় কাঁদতে দেখা যায়।
ছবিটি পোস্ট করে অপূর্ব লিখেছেন, ‘৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সালে রিলিজ পেয়েছিল ‘বড় ছেলে’। দেখতে দেখতে আজ এই টেলিফিল্মের ৯ বছর পূর্ণ হলো।
এরপর তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে লেখেন, ‘এই ৯ বছরে নাটকটি কতবার দেখেছেন?’
অভিনেতার এই প্রশ্নের পর দর্শকদের আবেগ মন্তব্যের ঘরে নেমে আসে। কেউ জানিয়েছেন, নাটকটি অসংখ্যবার দেখেছেন। আবার কেউ শতাধিকবার দেখার কথাও জানিয়েছেন।
অনেকের মন্তব্যে উঠে এসেছে যে, ‘বড় ছেলে’ দেখার পর তাঁদের বাংলা নাটকের প্রতি নতুন করে ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল।
মুক্তির নয় বছর পরেও নাটকটির আবেদন যে একটুও কমেনি, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়াতেই পরিস্কার।
সময় পেরিয়ে গেলেও ‘বড় ছেলে’র গল্প, চরিত্র ও আবেগ এখনও দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে আছে।
এদিন নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ানও দর্শকদের উদ্দেশ্যে ভালোবাসা জানিয়েছেন। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বড় ছেলে’র ৯ বছর, “নেটওয়ার্কার বাইরে”-র ৫ বছর, “ব্যাচ ২৭”-এর ৯ বছর, “বুকের বা পাশে”-র ৮ বছর।
তবুও এই কাজগুলো আজও আপনাদের হৃদয়ে বেঁচে আছে। আমি সত্যিই নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে আপনারা আজও এত ভালোবাসা দিয়ে কাজগুলোকে স্মরণ করেন।
বর্তমানে ইউটিউবে ‘বড় ছেলে’ নাটকটির ভিউ ৫ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি ছাড়িয়েছে। অপূর্ব ও মেহজাবীন ছাড়াও এতে অভিনয় করেছেন খালেকুজ্জামান, শেলী আহসানসহ আরও অনেকে।
বাংলা নাটকের যে কয়েকটি সময়ের সীমানা পেরিয়ে দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে, ‘বড় ছেলে’ নিঃসন্দেহে তার অন্যতম উদাহরণ। নয় বছর পরও সেই গল্পের আবেগে দর্শকদের চোখ ভিজে ওঠা যেন তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নামজারির সময় জমির বাস্তব শ্রেণি যাচাই করে তা রেকর্ডে হালনাগাদের ব্যবস্থা ই-মিউটেশন সিস্টেমে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, জমির যথাযথ মূল্য নির্ধারণ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স অনুবিভাগ থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার অন্যতম সমস্যা হলো জমির রেকর্ডীয় শ্রেণি নিয়মিতভাবে হালনাগাদ না হওয়া। প্রাকৃতিক কারণে কিংবা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে জমির শ্রেণি পরিবর্তিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তিত শ্রেণি সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
ফলে ভূমি রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সময় জমির প্রকৃত ও যথাযথ মূল্য নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এর কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে নিয়মিতভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং রেকর্ডীয় শ্রেণি হালনাগাদের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ই-মিউটেশন সফটওয়্যারেও নামজারির সময় জমির রেকর্ডীয় শ্রেণি হালনাগাদের কোনো সুবিধা নেই।
এ অবস্থায় ভূমি মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে, কোনো ব্যক্তি জমি নামজারির আবেদন করলে তা মঞ্জুরের সময় জমির বাস্তব শ্রেণি যাচাই করে সেটিকে রেকর্ডীয় শ্রেণি হিসেবে নামজারি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
মন্ত্রণালয় মনে করছে, ই-মিউটেশন সিস্টেমে এ সুবিধা চালু হলে জমির প্রকৃত ব্যবহার ও শ্রেণি সরকারি রেকর্ডে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে। এর মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ ও আদায় আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি জমির যথাযথ মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
এ উদ্যোগের ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে আশা করছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ সংক্রান্ত চিঠিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাদেকুর রহমান স্বাক্ষর করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ