শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১৮ এম
বরিশাল নগরবাসী তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন, যার ফলে বিদ্যুৎ বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। যখনই তারা বাড়ি বাড়ি মিটার রিডিং নিতে বা বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত করতে যান, তখনই গ্রাহকদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে। জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করেও অনেকে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের কর্মীরা আতঙ্কের সঙ্গে মাঠে কাজ করছেন।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব নগরীর হাসপাতালসহ জনজীবনে স্পষ্টভাবে পড়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন যে, দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে নগরীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে।
নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, "দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা যায় না।" তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎকর্মীরা যখন এলাকায় আসেন, তখন মানুষ তাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন।
সদর রোডের ব্যবসায়ী মো. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, "ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সময়েও লোডশেডিং হচ্ছে। এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।" তিনি বলেন, বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ঝুঁকিতে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিদ্যুৎকর্মী জানিয়েছেন, "লোডশেডিং হলে গ্রাহকদের ক্ষোভ আমাদের ওপর এসে পড়ে।" তিনি বলেন, মিটার রিডিং নিতে বা সংযোগের কাজ করতে গেলে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। কিছু গ্রাহক উত্তেজিত আচরণও করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বা লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হাতে নেই। লোডশেডিংয়ের কারণে নগরীর দুই সরকারি হাসপাতালেও দুর্ভোগ বেড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র শেবাচিম হাসপাতালে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। নতুন ভবনে বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট, ফ্যান ও বাতি বন্ধ হয়ে যায়। জেনারেটর থাকলেও পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে তা সার্বক্ষণিক চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অপারেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। একই অবস্থা ১০০ শয্যার বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে। হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের ভরসা হাতপাখা। রাতের অন্ধকার দূর করতে মোমবাতিও ব্যবহার করতে হয়।
হাসপাতালের রোগী মো. আলামিন জানিয়েছেন, "ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে এসেও গরমে কষ্ট পাচ্ছেন।" তিনি বলেন, টিনশেড ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ না থাকলে থাকা কঠিন হয়ে যায়।
জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানিয়েছেন, বিকল জেনারেটরটি সচলের চেষ্টা করেও চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে লোডশেডিংয়ের সময় আইপিএসের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার কক্ষ সচল রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। শেবাচিম হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন বলেছেন, নতুন ভবনের জন্য আরও একটি বিদ্যুৎ সংযোগ এবং জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওজোপাডিকোর পলাশপুর গ্রিড সাবস্টেশনের বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট আবু জাফর মো. সালেহ বলেছেন, মানবিক দিক বিবেচনায় জেনারেল হাসপাতালে তুলনামূলক কম লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১, ওজোপাডিকো বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানিয়েছেন, অভিযোগ এলে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, "গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে কাজ করা হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্যালসিয়াম মজবুত হাড় ও দাঁতের জন্য অপরিহার্য। দুধ ক্যালসিয়ামের সবচেয়ে ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত। তবে, রাগি, তিল, টোফু, শাকসবজি এবং কিছু নির্দিষ্ট মাছও প্রাকৃতিকভাবে ক্যালসিয়াম গ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। যেমন-
রাগী: রাগী হলো একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ক্ষুদ্র শস্যদানা যা ফিঙ্গার মিলেট নামেও পরিচিত। এটি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ শস্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। রুটি, দোসা, পরিজ বা খিচুড়ি হিসেবে এটি দৈনন্দিন খাবারে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম বাড়ানোর জন্য এটি একটি দারুণ বিকল্প।
সাদা এবং কালো তিল: স্বাস্থ্যকর চর্বিতে ভরপুর সাদা এবং কালো তিল ক্যালসিয়ামও সরবরাহ করে। এগুলো চাটনি, সালাদ, লাড্ডু বা সবজির উপরে টপিং হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেহেতু তিলে ক্যালোরি বেশি থাকে, তাই এটি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
টোফু এবং কিছু সয়া-ভিত্তিক পণ্য: যারা দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার একদমই খেতে পারেন না, তারা খাদ্যতালিকায় টোফু এবং কিছু সয়া-ভিত্তিক পণ্য রাখতে পারেন। তবে, বিভিন্ন পণ্যে ক্যালসিয়ামের মাত্রা ভিন্ন হয়, তাই প্যাকেটজাত সয়া খাবার কেনার সময় পুষ্টি তথ্যের লেবেল দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শাকসবজি: পাতাকপি, বক চয়, ব্রোকলি এবং বিভিন্ন পাতাযুক্ত শাক খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম যোগ করতে পারে। সরিষা পাতার মতো শাকও পুষ্টিগুণ বাড়াতে পারে। বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি দৈনন্দিন খাবারে অন্তর্ভুক্ত করলে তা আরও পুষ্টিগুণে ভরপুর হয়ে ওঠে।
পালং শাক: ক্যালসিয়াম থাকলেও, এই শাকে তুলনামূলকভাবে উচ্চ মাত্রার অক্সালেটও থাকে। এই যৌগগুলো শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। তাই, দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটানোর জন্য পালং শাককে একমাত্র সবজি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
ছোট মাছ: কাটাসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট মাছ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। খাবারে এই ধরনের মাছ অন্তর্ভুক্ত করলে ক্যালসিয়াম গ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করে।
বাদাম: অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সাথে বাদাম ক্যালসিয়ামও সরবরাহ করে। কেউ কেউ কেবল উদ্ভিজ্জ খাবার গ্রহণ করেন, এমন ক্ষেত্রে অবশ্যই উদ্ভিজ্জ উৎসের পরিমাণের দিকটা খেয়াল করতে হবে।
পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে ক্যালসিয়াম শোষণ এবং ব্যবহারে ভিটামিন ডি-ও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত দৈনিক প্রায় ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়, যদিও বয়স এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এর প্রয়োজনীয়তা বাড়তে পারে।
সূত্র : নিউজি এইট্টিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হার্ট বা হৃৎপিণ্ড মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা অবিরাম কাজ করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব পালন করে। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমানে হৃদরোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, সঠিক ও সুষম খাদ্য নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সহজেই আমাদের হার্টকে শক্তিশালী ও রোগমুক্ত রাখতে পারি। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ হার্টের জন্য খাদ্য তালিকায় সঠিক পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং চিকিৎসকদের নির্দেশিকা অনুসারে, চলুন জেনে নিই কী খেলে হার্ট ভালো থাকবে—
১. আঁশযুক্ত খাবার
আঁশযুক্ত খাবার রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) জমতে দেয় না এবং রক্তনালীকে পরিষ্কার রাখে। সাদা চাল বা ময়দার পরিবর্তে লাল চালের ভাত, ওটস (Oatmeal), লাল আটার রুটি, বার্লি ও কুইনোয়া খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এগুলো ধমনীর কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে সহায়তা করে। পালংশাক, পাতাকপি ও মেথি শাকে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রেট রয়েছে। নাইট্রেট রক্তনালীকে প্রসারিত ও শিথিল করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
২. অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার
অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও ইনফ্লামেশনের (প্রদাহ) কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তবে টমেটো ও রঙিন ফল এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। টমেটোতে লাইকোপেন নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে সক্ষম। আপেল, কমলা, পেয়ারা, জাম্বুরার পাশাপাশি স্ট্রবেরি ও ব্লুবেরি হার্টের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সহায়ক। এছাড়া রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামক উপাদানটি ধমনীতে প্লাক বা চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং উচ্চ রক্তচাপ কমায়।
৩. ওমেগা ৩ ও প্রোটিন
ইলিশ, রুই, কাতল, কিংবা সামুদ্রিক স্যামন, সার্ডিন বা ম্যাকেরেল মাছ সপ্তাহে অন্তত ২ দিন খাওয়া উচিত। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ট্রাইগ্লিসারাইড (রক্তের চর্বি) কমাতে সহায়তা করে। মাংসের পরিমাণ কমিয়ে খাদ্যতালিকায় ডাল, ছোলা, রাজমা (কিডনি বিনস) এবং শিমের বিচি অন্তর্ভুক্ত করুন। এগুলো কোলেস্টেরলমুক্ত প্রোটিনের সেরা উৎস।
৪.স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
সব ফ্যাট হার্টের জন্য খারাপ নয়। আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হার্টের জন্য উপকারী। প্রতিদিন এক মুঠো কাঠবাদাম (Almonds), আখরোট (Walnuts), চিয়া সিড বা তিসির বীজ খেলে শরীরে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায়। রান্নায় ডালডা, পাম অয়েল বা অতিরিক্ত সরষের তেলের পরিবর্তে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল বা রাইস ব্র্যান অয়েল সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত।
যা খাবেন না
দৈনিক লবণ খাওয়ার পরিমাণ ২০০০ মিলিগ্রাম (১ চা চামচ) এর নিচে রাখতে হবে। প্যাকেটজাত খাবার, চিপস ও আচার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। কোমল পানীয়, মিষ্টি, কেক-পেস্ট্রি ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এসব খাবার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তমকুমারকে সত্যিকার অর্থে একজন ‘আইকন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। মহানায়কের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা জানিয়ে এমনটি বলেন জয়া।
উত্তমকুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্টে অভিনেত্রী আহসান লিখেছেন, ‘আইকন’ শব্দটির যদি কোনো সার্থক বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজতে হয়, তবে সেই শব্দ বা নামটি অবশ্যই উত্তমকুমার। একশ বছর পরেও বাংলা সিনেমায় তার মতো উজ্জ্বল সর্বগ্রাসী উপস্থিতি নজিরবিহীন।
জয়া আহসান মনে করেন, উত্তমকুমার শুধু একজন অভিনেতা বা নায়ক ছিলেন না। তার ভাষায়, ‘একজন শিল্পীর যে বহুমাত্রিক সত্তা, তারই এক অনন্য সমন্বয় তার ব্যক্তিত্বে। পর্দায় তার অভিনয় যেমন দর্শককে মুগ্ধ করেছে, পর্দার বাইরেও তার ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছে এক স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক অভিঘাত।’
অভিনেত্রী আরও লিখেছেন, ‘জনপ্রিয়তা তাকে মহানায়ক করেছে; কিন্তু শুধু জনপ্রিয়তা তার পরিচয়ের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা নয়। তিনি বাঙালির মনের নায়ক; এমন এক প্রতীক, যার সঙ্গে বাঙালির পুরুষত্ব, ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাসের একটি বিশেষ আবেগ আজও জড়িয়ে আছে।’
কালজয়ী এই অভিনেতার প্রভাব নিয়ে জয়া আরও উল্লেখ করেছেন, ‘সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, বাংলা সিনেমার ভাষাও বদলেছে। কিন্তু উত্তমকুমার নির্মিত সেই মিথ এখনও অমলিন।’
সবশেষে মহানায়কের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা জানিয়ে জয়া বলেন, ‘ভালোবাসা ও নিরন্তর মুগ্ধতার এই ঋণ কখনও ফুরোনোর নয়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রীড়াঙ্গনে অর্থের চাহিদা এবং সরকারি সহায়তার দাবি বিদ্যমান, সেইসাথে বিভিন্ন প্রকল্প ও বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হচ্ছে। কিন্তু সেই অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়ে রয়েছে এক ধরনের অনীহা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নথিপত্র অনুযায়ী, ৫২টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন-অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও অডিট প্রতিবেদন জমা দিয়েছে মাত্র ১৪টি। ফুটবলসহ ৩৮টি ফেডারেশন-অ্যাসোসিয়েশন এখনও সেই হিসাব জমা দেয়নি। এনএসসি ২০১৮ সালের আইনে পরিচালিত হচ্ছে। ওই আইনের ২৩ নম্বর ধারায় প্রত্যেক জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার জন্য বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং অডিট প্রতিবেদন পরবর্তী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এনএসসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইন রয়েছে, সময়সীমা নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ কতটা হচ্ছে, এই পরিসংখ্যানই তার উত্তর দেয়। এর আগে হিসাব জমা দেওয়ার ব্যাপারে এনএসসি কড়াকড়ি করেছিল। তবে পরে সেই কঠোর অবস্থান শিথিল করা হয়। এখন আবার এনএসসি নড়েচড়ে বসেছে। পরিচালক (অর্থ) তনময় ইসলাম সব ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ব্যয় বিবরণী ও অডিট প্রতিবেদন অবিলম্বে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনও সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত হিসাব জমা দিয়েছে কাবাডি, সাঁতার, শুটিং, ভলিবল, বাস্কেটবল, কুস্তি, জিমন্যাস্টিক্স, শরীর গঠন, বিলিয়ার্ড, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, রাগবি, মাউন্টেনিয়ারিং, প্যারা অলিম্পিক ও ক্রিকেট বোর্ড। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব শুধুমাত্র বাংলাদেশ মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন জমা দিয়েছে।
ফুটবল নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়েছে। দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এই ফেডারেশন নিয়মিতভাবে সরকারের কাছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করে। কিন্তু এনএসসিতে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নেই। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তিনটি হোম ম্যাচের গেটমানির হিসাব চেয়েও এনএসসি তা পায়নি। ওই ম্যাচগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাবও প্রকাশ্যে আসেনি। ফুটবলের পাশাপাশি আরচারি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, কারাতে, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, সাইক্লিংসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফেডারেশনও এখনও হিসাব জমা দেয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ