রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২০ পি.এম
সাতক্ষীরায় বিচার বিভাগের জটিলতা কাটিয়ে কার্যক্রমে গতি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ রবিবার সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় আদালত কেন্দ্রিক যে সংকটগুলো তিনি শুনেছেন, সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করেই সরকার অগ্রসর হবে।
এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণ নিয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন আইনমন্ত্রী।
সভাটি জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্বে বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে আইনমন্ত্রীর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায় না। তিনি উল্লেখ করেছেন, হুতিরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে।
শনিবার আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘হুতিরা আমাদের ফোন করেছে। তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না। তারা চায় না আমরা তাদের বিরুদ্ধে যাই।’
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে, সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে হামলার জন্য ট্রাম্প ইরানকে দায়ী করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানই সম্ভবত এই হামলার জন্য দায়ী।
হামলার পর সৌদি আরবের পূর্ব পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যায়। এটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য অন্যতম প্রধান পথ।
ইরান হামলার জন্য দায়ী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, সম্ভবত তারাই।’
তিনি জানান, এ বিষয়ে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প যুবরাজকে ‘ভালো বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেন।
তবে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইরান নয়, ইরাক থেকে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন এই হামলার জন্য দায়ী। রিয়াদ জানিয়েছে, এসব হামলায় মানুষ আহত হয়েছেন এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদি আরব বলেছে, তারা এখনই পাল্টা ব্যবস্থা নেবে না। এর মাধ্যমে ইরাক সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই সঙ্গে বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, স্থাপনা ও জনগণকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
ইরাক সরকারও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তদন্তে হামলাটি ইরাক থেকে হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্তের কথা জানিয়েছে।
ইরাকের দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরান সীমান্তের শালামচেহ সীমান্তপথ বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক। হামলাকারীদের ধরতে বড় ধরনের অভিযানও চলছে।
লোহিত সাগরের উপকূলে হুতিদের অগ্রগতি
এদিকে, গত সপ্তাহের টানা অভিযানের পর শুক্রবার ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল দখলে নেয় হুতিরা। এর আগে তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনটি কৌশলগত দ্বীপও দখল করে। এতে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দেব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।
সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য বাব আল মান্দেব এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় উপসাগরীয় পথ দিয়ে সৌদির তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
সৌদি আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ। হরমুজ প্রণালির অবরোধের পর দেশটি বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরের ওপর আরও বেশি নির্ভর করছে।
ট্রাম্প বলেছেন, হুতিরা বেশির ভাগ জাহাজকে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে। তবে একটি দেশের জাহাজ নিয়ে তারা অসন্তুষ্ট। সেটি নিয়ে তিনি সমাধানের কথা বলেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেছিলেন। তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ করেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা।
মোখায় সরকারি বাহিনীর হামলা
অন্যদিকে, সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী শনিবার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত কৌশলগত বন্দরনগরী মোখায় হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, মোখা বন্দরের কাছে হুতিদের কয়েকটি যান ও অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, কয়েকজন হুতি সদস্য নিহত হয়েছেন।
সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল নাজিলি বলেছেন, মোখা ধুবাব সড়কেও হুতিদের যান ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই এলাকা মোখা শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
শুক্রবারও মোখায় গোলাবর্ষণ শুরু করার কথা জানিয়েছিল সরকারি বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছিল, তাইজ মোখা ও মোখা ধুবাব সড়ক ব্যবহার না করতে।
বৃহস্পতিবার মোখা দখল করে হুতিরা। তাদের হামলার পর বহু মানুষ শহর ছেড়ে এডেনে চলে যান। এডেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রধান ঘাঁটি।
শুক্রবার হুতি সমর্থিত গণমাধ্যম জানিয়েছে, সৌদি বাহিনী মোখা বিমানবন্দরে দুটি হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শহরের সমুদ্রবন্দরে অজ্ঞাত উৎস থেকে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
৫০০ জনের বেশি নিহত
গত সপ্তাহে শুরু হওয়া হুতিদের এই অভিযানে ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষের সূত্র জানিয়েছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। বর্তমান সংঘাত সেই যুদ্ধেরই নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠা।
শুক্রবার হুতিদের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লোহিত সাগরের উপকূলে তারা আরও অগ্রসর হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে ‘হামলার জবাব হামলা দিয়ে’ উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছে তারা।
একই সঙ্গে হুতিরা বলেছে, সৌদি জাহাজ ছাড়া সব কোম্পানির জন্য সমুদ্রপথ নিরাপদ।
তেলের বাজারে উদ্বেগ
তবে পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা হুতিদের কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত অনিশ্চিত বলে মনে করছেন। চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এতে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
জুলাইয়ে অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা। সৌদি আরবের ভেতরের তেল স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে।
হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর ওপর সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবরোধের জবাবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, মোখা দখল ঠেকাতে সৌদি বিমানবাহিনী কোনো বড় হামলা না চালানোর বিষয়টি তাদের বিস্মিত করেছে। তাঁর মতে, বড় ধরনের বিমান অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি পায়নি সৌদি আরব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্র বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল। এই সুযোগই কাজে লাগিয়েছে হুতিরা।
বাব আল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল কমেছে
২০২৩ সালের শেষ দিকে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা শুরুর পর থেকে বাব আল মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তখন থেকে হুতিরা বিভিন্ন জাহাজে হামলা শুরু করে।
চলতি বছর সৌদি আরব হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে বাব আল মান্দেব ব্যবহার বাড়িয়েছিল। তবে নতুন করে হুতিদের হুমকির কারণে সেই চলাচল আবার কমেছে বলে জানিয়েছে লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স।
এখন সৌদি আরবকে আরও একটি বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে। লোহিত সাগরের উত্তর দিক দিয়ে ভূমধ্যসাগরে তেল পাঠানোর চেষ্টা করছে তারা। এ জন্য সুয়েজ খাল বা মিসরের একটি পাইপলাইন ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে তেল পৌঁছাতে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
এই পথও হুতিদের হুমকির বাইরে নয়। আগস্টের শেষ দিকে লোহিত সাগরের উত্তর অংশে একটি সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়েছিল হুতিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের সাহেব বাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসানের সরকারি গাড়ি।
জানা গেছে, মহাসড়কের সাহেব বাড়ি নামক স্থানে ইউএনওর সরকারি গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে দুর্ঘটনায় ইউএনও মো. মেহেদী হাসান অল্পের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বিস্তারিত তথ্য জানালে তা জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, পুতুলের ওই পদে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছিল না। তিনি আরও বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং সেখান থেকে দুর্নীতির দুর্গন্ধ বের হয়ে এসেছে।
এছাড়া, ডব্লিউএইচওর পরবর্তী নিয়োগে মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বক্তব্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, এই সফরে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
এই সফরের বিভিন্ন তথ্য ও সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিউইয়র্ক সফরকালে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হবে, পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে দেশের ভিশন তুলে ধরা হবে।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ভারতের সঙ্গে একটি নতুন ও কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও এ-সংক্রান্ত জটিলতার সুরাহা কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনার মাধ্যমে করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশেষ সাইডলাইন মিটিং আয়োজনের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বড় গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করা টাকা ফেরত আনতে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডকে একীভূত করার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আয়ারল্যান্ডের একীভূত হওয়া হবে ‘চমৎকার’ একটি ঘটনা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের পাশে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই কথা বলেন। তবে, লন্ডনের মন্ত্রীরা তার এই মন্তব্যকে ভালোভাবে গ্রহণ করেননি।
ট্রাম্প বলেন, "আমি কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে চাই না। তবে আমি আপনাদের বলব, আমি আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চাই। শেষ পর্যন্ত এটি ঘটবে... আমার মনে হয়, এটি একটি চমৎকার বিষয় হবে।"
এ সময়, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের একজন মুখপাত্র জানান, আয়ারল্যান্ডের একীভূত হওয়ার বিষয়ে বার্নহামের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
বুধবার, পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে উত্তর আয়ারল্যান্ডে সম্ভাব্য গণভোট নিয়ে বার্নহাম বলেছিলেন, "আরেকটি গণভোটের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমর্থন রয়েছে—এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। আর যতক্ষণ না পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো গণভোট হবে না।"
১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি, যা বেলফাস্ট চুক্তি নামেও পরিচিত, অনুযায়ী উত্তর আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা ব্রিটিশ সরকারের হাতে রয়েছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত প্রায় তিন দশকের সহিংসতার অবসান ঘটে। ওই সাম্প্রদায়িক সংঘাতে মূলত একদিকে ছিল ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের দাবিতে ক্যাথলিক জাতীয়তাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকতে চাওয়া প্রোটেস্ট্যান্ট ইউনিয়নিস্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী। সংঘাতে ব্রিটিশ সেনারাও জড়িত ছিল।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান ইউনিয়নিস্ট দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) নেতা গ্যাভিন রবিনসন মন্তব্য করেন, "উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়টি ট্রাম্পের নয়, সেখানকার জনগণের।"
তিনি আরও বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্যদের চেয়ে ভালো জানেন যে নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন সেখানকার জনগণ, লন্ডন, ডাবলিন বা ওয়াশিংটনের কোনো মন্তব্য নয়।"
জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ এখনো যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে রয়েছে, তবে ব্যবধান কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পর আয়ারল্যান্ডের একীভূত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
সফরে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। গত বছর রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হওয়া কনলি ২০১৯ সালে ট্রাম্প যখন সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আয়ারল্যান্ড সফর করেছিলেন, তখন পশ্চিমাঞ্চলের শ্যানন বিমানবন্দরে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন।
এবারও ট্রাম্পের সফরের সময় তার কয়েকজন সমর্থক বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং আয়ারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা রক্ষার আহ্বান জানান।
এদিকে, ট্রাম্পের সফরকে কেন্দ্র করে ডাবলিনে যুদ্ধবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। পশ্চিম আয়ারল্যান্ডে ট্রাম্পের ডুনবেগের গলফ কোর্সের কাছেও বিক্ষোভের পরিকল্পনা ছিল।
আলজাজিরার প্রতিবেদক জানান, ট্রাম্পের সফরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ‘অনেক কারণ’ রয়েছে বলে মনে করেন ডাবলিনের বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বিশ্বে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ট্রাম্প দায়ী এবং গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে তিনি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন, পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলেছেন।
ট্রাম্পের সফর ও নিরাপত্তার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই অর্থ স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা যেত।
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ