০৫:৩৪ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে শান্তি আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার পাকিস্তানে বৈঠক করেছেন পাকিস্তান এবং লেবাননের সেনাপ্রধান।
এই সময় দুই দেশ একসঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। তবে, জানা গেছে, এই সফরের সাথে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার সম্বন্ধ রয়েছে।
কয়েক মাস ধরে চলতে থাকা সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। কিন্তু তেহরান বলছে, যেকোনো চুক্তির অন্তর্ভুক্ত লেবাননের বিষয়ও থাকতে হবে। যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।
আরও পড়ুন: মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা, তদন্তে কমিটি গঠন জামায়াতের
লেবাননের সেনাপ্রধান রোদলফ হাইকাল গত শনিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাতে উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেন। লেবাননভিত্তিক একটি সূত্র এএফপি-কে জানায়, এই সফরের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার যোগসূত্র রয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, দুই সামরিক প্রধান ‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্ক জোরদারের সম্ভাবনা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রাওয়ালপিন্ডিতে বৈঠকের আগে হাইকালকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বৈঠকে মুনির পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে চলা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে লেবানন পরিস্থিতি পরিণত হয়েছে। হাইকালের সফরের সময় সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে। তবে সোমবার ইরান ও ইসরাইল উভয়েই লড়াই বন্ধ করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরও পড়ুন: চীনা পণ্যে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
শান্তি আলোচনার ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, আলোচনা চালনাকারীরা একটি চুক্তির ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছেছেন।
গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হত্যার প্রতিশোধ নিতে লেবানন এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে। তার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হিজবুল্লাহর সঙ্গে গোলাগুলি ও হামলা-পাল্টা হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে ছিল। কিন্তু রোববার ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, গত ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে তাদের উত্তর সীমান্ত থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে কল্পিত একটি ‘ইয়েলো লাইন’ ঘোষণা করে। ওই এলাকায় তাদের স্থলবাহিনী হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহও ইসরাইলের দিকে রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে।
আরও পড়ুন: সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করবে: বিশিষ্টজনেরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন