রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২১ পি.এম
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, "জাতির প্রকৃত পরিচয় তার সংস্কৃতি।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে না, বরং এটি ঐক্যবদ্ধ করে। তিনি বলেন, "সাংস্কৃতিক ঐক্যই সম্প্রীতির সবচেয়ে বড় শক্তি।"
আজ বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সংস্কৃতি মন্ত্রীর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন, নজরুল বর্ষ উদযাপন, শিল্পী ও গবেষক বিনিময়, ক্ল্যাসিক্যাল সংগীত, লোকসংস্কৃতি, তরুণ প্রতিভা বিকাশ এবং সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আরও বলেন, "বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নয়, এটি আত্মার সম্পর্ক।" তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মানুষের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, লোকঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে যে গভীর সেতুবন্ধন রয়েছে, সেটিই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী মোহাম্মদ রফি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অলকা ইয়াগনিক ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের শিল্পকর্ম দুই দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়েছে। তিনি বলেন, "তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান প্রমাণ করে যে শিল্প ও সংস্কৃতি সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ের ভাষায় কথা বলে।"
চলমান নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভারতের খ্যাতিমান নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিবিদদের অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান তিনি। একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ এবং বাংলা লোকসংগীতকে দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। তিনি বলেন, সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির চর্চা জোরদার করতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সাক্ষাতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, দুই দেশের মধ্যে একটি ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত থেকে দুইজন ক্ল্যাসিক্যাল শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বাংলাদেশে কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব করেন। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, নবনিযুক্ত সংস্কৃতি সচিব মিজ ইয়াসমিন বেগমসহ, ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের ডিরেক্টর এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেন, দুই দেশের ' ইয়াং ট্যালেন্টদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ, রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম চালু করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন, "এছাড়া বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে কনজারভেশন অব মেরিটাইম কালচার বা সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ গবেষণা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গ্রহণেরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আত্মার সম্পর্ক। খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহু ক্ষেত্রে আমাদের গভীর অভিন্নতা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংগীত ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হাইকমিশনার কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান চুরুলিয়ায় আরো ব্যাপক পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সেই আয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যৌথ অনুষ্ঠান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এএনএম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে গুগলের গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসি ম্যানেজার কাইল গার্ডনার এবং গুগল ফর এডুকেশনের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্পেশাল প্রজেক্ট চিফ টিম পাওলিনিও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ১৯ মে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কুইন এলিজাবেথ টু সেন্টারে অনুষ্ঠিত এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬-এর সাইডলাইনে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
সেই বৈঠকে গুগল ফর এডুকেশনের প্যাসিফিক রিজিয়ন ডিরেক্টর কলিন মারসন এবং হেড অব সলিউশন্স ইঞ্জিনিয়ারিং অলি ট্রাসেলও উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রী একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে গুগলের কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
এ সময় বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুগল কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুগলের সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শুক্রবার বলিভিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর কোচাবাম্বায় শতাধিক কোকা চাষি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকরা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছেন।
এএফপির প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, তারা সরকারের ডিজেলের দাম দ্বিগুণ করার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি বলিভিয়ার কোচাবাম্বা থেকে এই খবরটি জানায়।
জুন মাসে, কেন্দ্র-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট রড্রিগো পাজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর তিনি এই জরুরি অবস্থা জারি করেন। শুক্রবারের বিক্ষোভ এই পরিস্থিতির মধ্যে অনুষ্ঠিত হলো।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই আদিবাসী এবং তারা পাজের জারি করা একটি ডিক্রি বাতিলের দাবি জানান। ওই ডিক্রির অধীনে কৃষকসহ অধিক পরিমাণে ডিজেল ক্রয়ের জন্য প্রতি লিটারের দাম ৮০ সেন্ট থেকে ১ ডলার ৫০ সেন্টে উন্নীত করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্যান্য দেশে জ্বালানি পাচার প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই পাচারের ফলে বলিভিয়ায় জ্বালানির সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
এক বিক্ষোভকারী দড়ি দিয়ে একটি ট্রাক্টর টানতে টানতে চিৎকার করে বলেন, ‘ডিজেল নেই, ডিজেল নেই!’
৪০ বছর বয়সী কৃষক এলেনা আইনে জানান, দাম বৃদ্ধির ফলে ‘সবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।’
জরুরি অবস্থার আওতায় এ ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেনি।
বুধবার সরকার ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সহায়তার ঘোষণা দেয়।
তাদের প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি আগের দামেই, অর্থাৎ প্রতি লিটার ৮০ সেন্টে কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারের এই ছাড়েও বিক্ষোভকারীরা সন্তুষ্ট হননি।
গত বছর, আন্দিজ অঞ্চলের দেশ বলিভিয়ায় চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময় পাজ ক্ষমতায় আসেন। তখন দেশটিতে জ্বালানি ও ডলারের তীব্র সংকট চলছিল।
ক্ষমতায় এসে, তার প্রথম পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি ছিল বিদায়ী সমাজতান্ত্রিক সরকারের চালু করা জ্বালানি ভর্তুকি বাতিল করা। এই ভর্তুকির কারণে বলিভিয়ার মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে দেশের কিছু এলাকায় পেট্রল পাম্পে জ্বালানির জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি এখনও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে।
বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট মোরালেস ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পাজের অন্যতম কট্টর সমালোচক।
মোরালেস শুক্রবার রেড আমেরিকা টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে বলেন, ‘এই সরকারের ভবিষ্যৎ খুব বেশি দিন নেই। রাজনীতিবিদ হিসেবে রড্রিগো পাজের ভবিষ্যৎ আরও কম।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বিজ্ঞাপনের বাজার থেকে আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে জানুয়ারিতে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত পিএসএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে পিসিবি এবং আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টুর্নামেন্টের মিডিয়া স্বত্বাধিকারী ওয়ালি টেকনোলজিস আগামী বছরের শুরুতে পিএসএল আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, রমজানের পর এপ্রিল-মে মাসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিপণন ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের বাজেট তুলনামূলকভাবে কমে যায়। এই কারণে, ওই সময়ে পিএসএল আয়োজন করলে বিজ্ঞাপন থেকে প্রত্যাশিত আয় পাওয়া কঠিন হতে পারে।
তবে সময় পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে কিছু উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। যে সময়েই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হোক, সম্প্রচার স্বত্ব থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাদের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি পাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ওয়ালি টেকনোলজিসের বিজ্ঞাপন বাজেট নিয়ে মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ সম্প্রচার স্বত্ব থেকে প্রত্যাশিত আয় না হওয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী, পিএসএলের আটটি দল কেন্দ্রীয় রাজস্ব তহবিল থেকে সম্প্রচার আয়ের ৯৫ শতাংশ পেয়ে থাকে।
২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পিএসএলের প্রথম নয়টি আসর ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে গত দুই মৌসুমে টুর্নামেন্টটি এপ্রিল-মে মাসে আয়োজন করতে হয়েছে। এর ফলে পিএসএলকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আসর আইপিএলের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে হয়েছে।
আইপিএলের সময় পিএসএল আয়োজনের একটি সুবিধা ছিল খেলোয়াড়দের সহজলভ্যতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তুলনামূলক কম থাকায় বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওয়া সহজ হয়। পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আইপিএলে অংশ না নেওয়ায় পিএসএলের স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়েও বড় কোনো সমস্যা দেখা দেয় না।
অন্যদিকে জানুয়ারিতে পিএসএল আয়োজন করা হলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। ওই সময় অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ চলবে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের দলে ভেড়াতে এসব লিগের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে পিএসএলকে।
জানুয়ারিতে টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে আবহাওয়াও পিসিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। পাঞ্জাবে এ সময় প্রচণ্ড শীতের পাশাপাশি কুয়াশার কারণে ম্যাচ আয়োজন ও দৃশ্যমানতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পিএসএলের চারটি প্রধান ভেন্যুর মধ্যে লাহোর, মুলতান, রাওয়ালপিন্ডি ও পাঞ্জাবে অবস্থিত।
এ কারণে করাচি থেকে টুর্নামেন্ট শুরু করার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। শীতকালে করাচির আবহাওয়া তুলনামূলক সহনীয় হওয়ায় সেখানে শুরু করে পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ হলে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো পাঞ্জাব ও পেশোয়ারে আয়োজনের পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
জানুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানের কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নির্ধারিত নেই। অক্টোবর-নভেম্বরে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনের পর মার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলার কথা রয়েছে পাকিস্তানের।
ওয়ালি টেকনোলজিস ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে পিএসএলের সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্বের মালিক। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ২০২৬ সালের আসরের আন্তর্জাতিক মিডিয়া স্বত্বও ছিল। এ ছাড়া চলতি বছর পিএসএলে যুক্ত হওয়া দুটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির একটির মালিকানাও ওয়ালি টেকনোলজিসের হাতে রয়েছে।
এদিকে পিএসএলকে শুধুমাত্র ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরজুড়ে এর পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও গভর্নিং কাউন্সিল আলোচনা করেছে। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানের দ্রুত বর্ধনশীল ই-স্পোর্টস খাতে প্রবেশের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে পিএসএলের প্রতি দর্শক আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ই-স্পোর্টসের মতো নতুন খাতে পিএসএলের সম্পৃক্ততা তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ও সম্প্রচারকারীদের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় বছরের মাঝামাঝি সময়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করেছে গভর্নিং কাউন্সিল। এর মাধ্যমে দল ও সম্প্রচারকারীদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে পিসিবির।
তবে জানুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা, আবহাওয়া, সম্প্রচার আয় ও লজিস্টিক সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্র: ক্রিকইনফো
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোর, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার সাতটি উপজেলার অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় দুই টন মাছের পোনা অবমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ।
জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে এবং রাজস্ব খাতের আওতায়, আজ রোববার নাটোর পুলিশ লাইন্স পুকুরে ২৫ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকতা মো. ওমর আলী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতে খায়ের আলম।
পুলিশ সুপার মন্তব্য করেন, "সকল জলাশয়গুলো পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের আওতায় নিয়ে আসা হলে দেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করা খুব সহজেই সম্ভব হবে।"
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাসসকে জানান, জেলা মৎস্য বিভাগের নেয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চলতি অর্থ বছরে অবমুক্ত করা হচ্ছে এসব পোনা। তিনি বলেন, "এ উদ্যোগ আগামীতে মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করবে। গড়ে উঠবে বুদ্ধিদীপ্ত মেধাবী জাতি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ