মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৮ পি.এম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শামীম রেজা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন।
তিনি সৌদি আরবের Qassim University-তে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এই স্কলারশিপের আওতায় তিনি বৃত্তি ও মাসিক ভাতা লাভ করবেন। মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স বাদে বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য সব খরচ বহন করবে।
এছাড়া, সৌদি আরবের King Fahd University of Petroleum and Minerals (KFUPM)-এ Direct Ph.D in Material Science and Engineering-এর জন্যও তিনি ইন্টারভিউ দিয়েছেন। ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
শামীম রেজা তার এই পথচলা শুরুর বিষয়ে বলেন, “আমার একাডেমিক জীবনের চতুর্থ বছর থেকেই Renewable Energy ও Perovskite Solar Cell নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আছি।” তিনি আরও জানান, “পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি peer reviewer হিসেবেও কাজ করেছি।”
তিনি তার সাফল্যের জন্য কৃতিত্ব জানিয়ে বলেন, “আমার এই সফলতার পেছনে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ছিল আমার মায়ের দোয়া। তবে সবচেয়ে বড় আফসোস, আজকের এই সুখবরটি আমি আমার মা’কে নিজ মুখে শুনাতে পারলাম না। মায়ের দোয়া সবসময় আমার পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল।” তিনি আরও বলেন, “সেইসঙ্গে আমার পরিবার, স্ত্রী, বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের ভূমিকাও অপরিসীম।”
দীর্ঘ সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সফলতার কোনো শর্টকাট নেই। প্রায় দুই বছর ধরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য চেষ্টা করে আসছি। জাপান, রোমানিয়া, আমেরিকা ও মালয়েশিয়াসহ অনেকগুলো সুযোগে প্রত্যাখ্যাত হয়েছি, কিন্তু কখনো হাল ছাড়িনি। আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে আমার পরিশ্রমের ফল পেয়েছি।”
তিনি বিশ্বাস করেন যে, সফলতার জন্য তাহাজ্জুদ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “আমার জীবনে এই বিষয়গুলো আমাকে প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেয়ের পড়াশোনার খরচের জন্য শাড়ি পরে খালি পায়ে ম্যারাথনে অংশ নিয়ে তরুণদের পেছনে ফেলেছেন ৪৭ বছর বয়সী এক মা। এই ম্যারাথনটি ভারতের মহারাষ্ট্রের বিড জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় শিক্ষা প্রসারক সংস্থার খোলেশ্বর এডুকেশনাল কমপ্লেক্সের অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে ‘অমৃত দৌড়’ নামে একটি ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়।
ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ চৌক থেকে শুরু হয়ে ভাগ্যনগর চৌকে গিয়ে শেষ হওয়া এই প্রতিযোগিতায় স্থানীয় অনেক তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন। আম্বাজোগাইয়ের বাসিন্দা রমাবাই রণবীরও ছিলেন তাদের মধ্যে, সাধারণ একটি শাড়ি ও পায়ে চপ্পল গলিয়ে প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিলেন।
দৌড় শুরু হওয়ার পর কিছু দূর যেতেই বিপত্তি ঘটে, অসমান রাস্তায় তার চপ্পল দুটি বারবার খুলে যাচ্ছিল। গতি কমতে দেখে তিনি এক মুহূর্তও দেরি না করে চপ্পল দুটি হাতে তুলে নেন। এরপর পাথর আর রুক্ষ রাস্তায় খালি পায়ে শুরু করেন স্বপ্নের দৌড়।
পায়ের নিচে তীক্ষ্ণ পাথর এবং ব্যথার তোয়াক্কা না করে একের পর এক তরুণ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে রমাবাই প্রথম হয়ে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করেন।
৪৭ বছর বয়সী এই নারীর অদম্য দৌড় ও জয় দেখে উপস্থিত দর্শক ও আয়োজকরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। খালি পায়ে জয়ী হয়ে তিনি পুরস্কার হিসেবে পাওয়া ৩ হাজার রুপি পুরোপুরি মেয়ের পড়াশোনার খরচে তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রমাবাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) বলেছেন- মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রতিটি মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব। নবীঁজী (সাঃ)-এর সম্মানেই মুমিনের মর্যাদা ও পরিচয়ের প্রকাশ ঘটে। শুধু মুখে নবীপ্রেমের কথা নয়, তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শকে জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, মানবিকতা, ক্ষমা ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিক অবক্ষয় দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নবীজির আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে নবীপ্রেম সৃষ্টি করতে হবে এবং ঘরে ঘরে তাঁর জীবন ও আদর্শের আলোচনা করতে হবে। বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠের পাশাপাশি সুন্নাহ অনুসরণকেই নবীপ্রেমের প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। নবীঁজী (সাঃ)-কে ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা। নবীপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে তাঁর আদর্শ অনুযায়ী জীবন গড়াই হোক প্রতিটি মুমিনের অঙ্গীকার।
সোমবার, ৩১ আগষ্ট ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থাণাধীন খেজুববাগ সাতপাখি খানকায়ে ছালেহিয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে আয়েজিত ইছালে ছাওয়াব ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান অতিথির আলোচনায় হযরত পীর ছাহেব কেবলা একথা বলেন।
মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে আরও আলোচনা করেন- বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ হেমায়েত বিন তৈয়্যেব, ছারছীনা দারুচ্চুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারীয়া দীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মোঃ মামুনুল হক, হযরত পীর ছাহেব কেবলার সফরসঙ্গী মাওলানা মোঃ মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমূখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় কাউখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলার ৩৩ জন অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের চেক ও ঢেউটিন বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর।
ত্রাণ বিতরণের পূর্বে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন। পরবর্তীতে তিনি উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যের নির্ধারিত কক্ষটি পরিদর্শন করেন। কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সকল কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর।
সহায়তা বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বলেন,
"বর্তমান সরকার প্রান্তিক ও অসহায় জনগোষ্ঠীর মুখে হাসি ফোটাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই কাউখালীর একটি পরিবারও যেন মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়। আমরা ৩৩ জন দুস্থ ও অসহায় মানুষের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দিতে পেরে আনন্দিত। স্থানীয় খাস জমি উদ্ধার, গৃহহীনদের আবাসন সুনিশ্চিত করা এবং কাউখালী উপজেলাকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া বিকেল সাড়ে চারটার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী। কাউখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এস এম আহসান কবিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজি বৃষ্টি মুখার্জির মৃত্যু রহস্যজনকভাবে ঘটেছে। বীরভূম জেলার নিজ বাড়ির দোতালায় উদ্ধার হয়েছে মমতা ব্যানার্জির ভাতিজির ঝুলন্ত মরদেহ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে বীরভূমের রামপুরহাট থানার কুসুম্বা গ্রামে নিজের বাড়ির দোতলায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বৃষ্টি মুখার্জির মৃতদেহ। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখার্জীর মেয়ে। উল্লেখ্য, রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামারবাড়ি অবস্থিত। নীহার মুখোপাধ্যায় রামপুরহাটের ১ নং ব্লকের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় কাপড়ের ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। আজ সকাল নয়টার দিকে তার বাড়ির দোতলার ঘর থেকে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তার আত্মহত্যার নিশ্চিত কারণ এখনও জানা যায়নি।
বৃষ্টি মুখার্জির বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির কারণে গ্রুপ সি-র চাকরি হারিয়েছিলেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পর বৃষ্টি মুখার্জির নাম উঠে আসে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, গ্রুপ সি পরীক্ষার ওএমআর শিটে ৯০ শতাংশ গরমিল ছিল। অর্থাৎ, কারচুপি করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হয়েছে অনেককে। তদন্তে বৃষ্টির নাম উঠে আসার পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাকরি হারান তিনি।
সম্প্রতি, বৃষ্টির স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং তার চিকিৎসা চলছিল। তিনি প্রায় সময় একা থাকতেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খুব কম কথা বলতেন।
বৃষ্টিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হলে, রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা আত্মহত্যা। রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছে। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ