০৬:৩৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ বেড়ে গেছে। বিভিন্ন সংঘাতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলস্বরূপ অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউসে বড় কিছু প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
মার্কিন প্রশাসন জানায়, দেশটির সামরিক মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে মিত্র দেশগুলোকে। পাশাপাশি, বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যাপকভাবে গোলাবারুদ ও উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এই বৈঠক অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিরক্ষা খাতের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় বড় আলোচনা হবে। চলতি বছরের মার্চে একই ধরনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে বিশ্ববাজারের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল- বিএই সিস্টেমস, লকহিড মারটিন, নর্থরপ গ্রুম্যান, আরটিএক্স করপোরেশন, বোয়িং, হানিওয়েল অ্যারোস্পেস এবং এল৩হ্যারিস টেকনোলজিস। বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: এবার বিআরটি ভাঙতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি টাকা
সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপারে কিছু প্রাথমিক চুক্তি করা হয়েছিল। তবে পেন্টাগনের আলোচনাকারীরা বর্তমানে এসব চুক্তির বাস্তবায়ন আরও দ্রুত করার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং উচ্চ প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নিরাপত্তা চাহিদার কারণে এসব অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবেলার জন্য শুধু বর্তমান অস্ত্র মজুতের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। এজন্য প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারেও একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর এই পদক্ষেপ নতুন করে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে বিতর্কও সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
আরও পড়ুন: স্পিকার: আওয়ামী লীগের নেতারা মদ খায়, কর্মীরাও খায়, সব বাটপারের কারখানা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন