০৩:০৭ পি.এম
প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর, উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম তেল রপ্তানি টার্মিনাল রাস তানুরা থেকে আবারও অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো।
শুক্রবার (২৬ জুন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটি পুনরায় চালু হওয়ার তথ্য জানা গেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, সৌদি আরবের শিপিং প্রতিষ্ঠান বাহরির নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ইতিমধ্যে রাস তানুরা বন্দরে অপরিশোধিত তেল লোড করছে। এছাড়াও, আরও একটি বিশাল জাহাজ বন্দরের কাছে নোঙর করে অপেক্ষা করছে। একেকটি ভিএলসিসি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করার সক্ষমতা রাখে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
সংশ্লিষ্ট মহল জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রত্যাশায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো সাম্প্রতিক সময়ে তাদের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবও উপসাগরের অভ্যন্তর থেকে পুনরায় নিজেদের তেল রপ্তানি শুরু করেছে।
তবে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ, যেটি তাইওয়ানের এভারগ্রিন মেরিনের অন্তর্ভুক্ত, অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর বাণিজ্যিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও প্রণালিতে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।
এদিকে, রয়টার্সের কাছে দুই মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ওই জাহাজটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। অন্যদিকে, ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নির্ধারিত আন্তর্জাতিক রুটের বাইরে চলাচলকারী কোনো জাহাজের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা তেহরানের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে না।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরবের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত রাস তানুরা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল রপ্তানি বন্দর। চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার আগে এই টার্মিনাল থেকে প্রতি দিন ৫০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে রপ্তানি হতো। এতে উল্লেখযোগ্য, এখানেই সৌদি আরবের দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন সক্ষমতার বৃহত্তম তেল শোধনাগারটি অবস্থিত, যা যুদ্ধ চলাকালে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: গাম্বিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১২, উদ্ধার অভিযান চলছে
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য অনুযায়ী, রাস তানুরা বন্দর থেকে সর্বশেষ গত ৮ মার্চ চীনের উদ্দেশে একটি তেলের চালান পাঠানো হয়েছিল। এরপর, ইরানের কঠোর অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে তাদের তেল রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাধ্য হয়েছে। দীর্ঘ এই সংঘাতের প্রভাবে গত তিন মাসে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা গত ফেব্রুয়ারিতেও দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেলের বেশি ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন