০৯:০২ পি.এম
“জনসেবার জন্য প্রশাসন”- এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে রাজশাহী জেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম সরাসরি মানুষের কথা শুনছেন। গণশুনানিতে আসা সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, কারণ অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার কথা শোনার পর তাৎক্ষণিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়।
বুধবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা, চিকিৎসা ব্যয়, চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষাভাতা, ঘর মেরামতসহ নানা ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে হাজির হন। জেলা প্রশাসক গণশুনানিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং যেসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
শামীমা সুলতানা স্বামীর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাইতে গণশুনানিতে আসেন। তিনি বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি এত সহজে ডিসি সাহেবের সঙ্গে দেখা করা যায়। তিনি আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন। এতে আমি খুবই উপকৃত হয়েছি।”
আরও পড়ুন: বিশ্বের ১০০ জনের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র নারী! ঠাকুরগাঁওয়ের বিলকিস ইতালিতে পেলেন আন্তর্জাতিক সম্মাননা
নিজের বসতঘরের সমস্যার কথা জানাতে আসেন মো. শাহজাহান আলী। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ছিল এবং বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও সমাধান না পেয়ে গণশুনানিতে বিষয়টি জানান। পরে তার ঘর মেরামতের জন্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে বই কেনার জন্য সহযোগিতা চাইতে আসে এক শিক্ষার্থী। জেলা প্রশাসকের কাছে নিজের সমস্যার কথা জানালে বই কেনার জন্য সহযোগিতা দেওয়া হয়। ওই শিক্ষার্থী জানায়, “আমি বইয়ের জন্য এসেছিলাম। ভাবতেই পারিনি স্যার আমার কথা শুনে সহযোগিতা করবেন।”
গণশুনানিতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা প্রশাসকের কাছে সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারায় তারা স্বস্তি পাচ্ছেন। পাশাপাশি দ্রুত সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি তাদের আস্থাও বাড়ছে।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা। একজন ব্যক্তি যখন তার সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কাছে আসেন, তখন তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং বিধি অনুযায়ী যতটা সম্ভব দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আগে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ
তিনি আরও বলেন, “গণশুনানির মাধ্যমে মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যার কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
গণশুনানিতে আসা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সরকারি সেবা পেতে তাদের হয়রানি ও ভোগান্তি আরও কমবে। এছাড়া গণশুনানিতে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাইসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন