০৭:৫৩ পি.এম
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে পরিচিতি পেয়েছেন হামজা আবদেলকরিম। সম্প্রতি এই টিনএজ তারকা বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন এবং মিশরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ অভিষিক্ত খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আবিষ্কার এই তরুণ ফরোয়ার্ড আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা দ্রুতই সবার নজর কেড়েছে।
চলমান বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলটির অন্যতম চমক হামজা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বদলি হিসবে নামার মধ্য দিয়ে মিশর জাতীয় দলে বহু প্রতীক্ষিত অভিষেক হয়েছে তার। চোত ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এবার এই ১৮ বছর বয়সীর সামনে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মাঠে নামছে তার দল মিশর।
আরও পড়ুন: শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ব্র্যাককে হারিয়ে সোনারগাঁওয়ের টানা দ্বিতীয় জয়
মেসির মতো সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে হামজা অবশ্য গোতা দলটিকে নিয়েই ভাবছেন। মেসিকে নিয়ে আলাদা করে ভাবতে নারাজ তিনি। হামজা বলেন, 'আমরা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলছি, শুধু মেসির বিপক্ষে নয়।'
মেসির মতো কিংবদন্তির মুখোমুখি হওয়ার চাপকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ আবদেলকরিম। তার মতে, প্রতিপক্ষকে একটি দল হিসেবেই দেখা উচিত।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
তার নতুন ক্লাব বার্সেলোনার সর্বকালের অন্যতম সেরা আইকন মেসির বিপক্ষে খেলবেন, এ কথা মনে করিয়ে দেওয়া হলে তিনি দৃঢ়ভাবেই নিজের অবস্থান জানান। পরে মুন্দো দেপোর্তিভোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমি যখন মাঠে নামি, তখন যা আমাকে আনন্দ দেয় সেটাই করি। মাঠের বাইরে কে কী বলল বা করল, সেটা নিয়ে আমি ভাবি না। আমার পুরো মনোযোগ থাকে মাঠের খেলায়।'
মিশরের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ফুটবলার হলেও দলের প্রকৃত নেতা ও সবচেয়ে বড় তারকা যে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ, তা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই তার। সালাহর প্রভাব সম্পর্কে আবদেলকরিম বলেন, 'শুধু আমার সঙ্গেই নয়, পুরো দলের সঙ্গেই তিনি থাকেন। নিজের সব অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেন, আর আমরা সেগুলো থেকে শেখার চেষ্টা করি। সালাহর মতো একটি ক্যারিয়ার গড়া ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার পাশে থাকা আমার জন্য স্বপ্ন এবং গর্বের বিষয়।'
আরও পড়ুন: দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা
কে এই হামজা আবদেলকরিম?
২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন হামজা আবদেলকরিম। ১.৮২ মিটার উচ্চতার এই স্ট্রাইকারের ফুটবল যাত্রা শুরু হয় মালয়েশিয়ায়। সে সময় তার বাবা, যিনি একজন সাবেক ভলিবল খেলোয়াড়, কুয়ালালামপুরের একটি একাডেমিতে কাজ করতেন।
আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
২০২০ সালে তিনি আল আহলির যুব একাডেমিতে যোগ দেন এবং দ্রুতই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মাত্র ১৭ বছর ১ মাস বয়সে আল আহলির সিনিয়র দলে অভিষেক হয় তার। এর মাধ্যমে তিনি এই শতাব্দীতে ক্লাবটির সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েন। এর মাধ্যমে তিনি রমাদান সোবহির রেকর্ডও ভেঙে দেন।
মিশরের বয়সভিত্তিক দলে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ইউরোপের একাধিক বড় ক্লাবের নজর কাড়ে। অনূর্ধ্ব-১৭ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস ও বিশ্বকাপে ২১ ম্যাচে ১২ গোল করে তিনি আলোচনায় চলে আসেন। ডাচ ক্লাব ফেইনুর্দ তাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখালেও আল আহলি দ্রুত তার চুক্তি নবায়ন করে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বার্সেলোনা তাকে ধারে বার্সেলোনা বি দলে নিয়ে আসে।
মিশরীয় সংবাদমাধ্যমে 'নতুন সালাহ' নামে পরিচিত এই তরুণ শুরুতে বার্সেলোনার যুব দলে সুযোগ পেতে কিছুটা সময় নিলেও অভিষেক ম্যাচেই সবাইকে চমকে দেন। মাত্র ১৫ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেন, আর তিনটি গোলই ছিল হেড থেকে। সেই ম্যাচেই দলকে লিগ শিরোপা জিততে সাহায্য করেন।
আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দাপট, ৩৩০ রান করে ১ রানের লিড
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১১ ম্যাচে ৮ গোল করার পর বার্সেলোনা তার চুক্তিতে থাকা ১৫ লাখ ইউরোর স্থায়ী কেনার অপশন কার্যকর করে। বিষয়টি আল আহলিও নিশ্চিত করেছে। এমনকি প্রথম দলের কোচ হান্সি ফ্লিকও জানিয়েছেন, আসন্ন প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে হামজা তার পরিকল্পনার অংশ।
স্পেনে স্থায়ীভাবে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পরই মিশরের কোচ হোসাম হাসান দ্রুত তাকে ২০২৬ বিশ্বকাপ দলে ডাকেন। যদিও তখনও তার সিনিয়র দলে অভিষেক হয়নি এবং প্রথম বিভাগে খেলার অভিজ্ঞতাও ছিল খুবই সীমিত।
বিশ্বকাপে মাঠে নামার মাধ্যমে তিনি মিশরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। বয়স কম হলেও তাকে ঘিরে প্রত্যাশা বিশাল। দলে তার সঙ্গে আছেন মোহাম্মদ সালাহ, ওমর মারমুশ ও ত্রেজেগে, যারা মূলত উইঙ্গার। ফলে স্বাভাবিক স্ট্রাইকার হিসেবে স্কোয়াডে হামজাই একমাত্র প্রকৃত 'নাম্বার নাইন'। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে এই মিশরীয় বিস্ময়বালককে ঘিরে আলোচনার শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন