ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিক্ষামন্ত্রী জানালেন শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে থাকার কারণ


শিক্ষামন্ত্রী জানালেন শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে থাকার কারণ

দেশে বিভিন্ন মামলা জটিলতার জন্য হাজার হাজার শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন।

তিনি বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া একটি বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া ছাড়াও আরো ২ হাজার ৬০০ এবং ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও মামলার কারণে ঝুলে রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম সপ্তাহ থেকেই এসব মামলার জটিলতা নিরসন করতে আদালতপাড়ায় গিয়ে চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু এখনও আপিল বিভাগে মামলাগুলো কার্যতালিকায় আসছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন : হুমায়ুন কবীর

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শুধুমাত্র শিক্ষক নিয়োগ নয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ এবং কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগও মামলার কারণে আটকে আছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দপ্তরি-কাম-নাইটগার্ড নিয়োগ কার্যক্রমও একই কারণে স্থগিত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বর্তমানে হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সারা বাংলাদেশে এমন অনেক শিক্ষক আছেন, যারা প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। মামলার জটিলতার কারণে এই বিষয়গুলো সমাধান করা যাচ্ছে না।

মন্ত্রী বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে বিচারাধীন মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে টেক সিটি গড়তে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩৫.৮০ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


দেশের রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩৫.৮০ বিলিয়ন ডলার

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে বর্তমানে ৩৫ হাজার ৮০২ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য উল্লেখ করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, ১৭ জুনের হিসাবে দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৮০২ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৩৯ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

এদিকে গত ১৬ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভেরচূড়ান্ত পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৭৬৬ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া বিপিএম-৬ পদ্ধতির আওতায় রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ২১৬ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলার।

নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপের ভিত্তিতে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে নিট কিংবা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়া ১৮ বাংলাদেশিসহ ২৮ জন বিদেশিকে ফেরত পাঠালো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


মালয়েশিয়া ১৮ বাংলাদেশিসহ ২৮ জন বিদেশিকে ফেরত পাঠালো

মালয়েশিয়ার কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে, দেশটির পার্লিস রাজ্য অভিবাসন বিভাগ ২৮ জন বিদেশী নাগরিককে তাদের নিজ নিজ দেশগুলোতে প্রত্যাবাসন করেছে।

এই তথ্য বুধবার (১৭ জুন) পার্লিস অভিবাসন বিভাগের একটি বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানা গেছে, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি, ৬ জন ইন্দোনেশীয়, ৩ জন ভারতীয় এবং ১ জন পাকিস্তানি রয়েছেন।

পার্লিস রাজ্য অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করার কারণে যেসব বিদেশী নাগরিক শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে নিজ দেশের দিকে ফেরত পাঠানোর ধারাবাহিক কর্মসূচি চলছে।

বিভাগটি আরও পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, দেশের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাশ দেখতে যাওয়ার পথে নিজেই লাশ হলেন মো. কাশেম মিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


লাশ দেখতে যাওয়ার পথে নিজেই লাশ হলেন মো. কাশেম মিয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় স্বজনের লাশ দেখতে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তি ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে যাওয়ার সময় একটি ট্রাকের সাথে সংঘর্ষের ফলে এই মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে আখাউড়া পৌরসভার খড়মপুর বাইপাস মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তি মো. কাশেম মিয়া (৫৫), যিনি উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি নূরপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালবেলা মো. কাশেম মিয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বিজয়নগরে যাওয়ার সময় খড়মপুর বাইপাস চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছান। এই মুহূর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আখাউড়াগামী একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এই ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী কাশেম মিয়া গুরুতর আহত হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায় যে, তিনি এক নিকটাত্মীয়ের মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার লাশ দেখতে বিজয়নগর যাচ্ছিলেন। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি জীবন হারান। দুর্ঘটনার পর সিএনজিচালক এবং ঘাতক ট্রাকের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল থেকেই বাড়িতে নিয়ে গেছেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকসহ চালক পালিয়ে গেছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগের প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঞ্চিত হাওর-চরাঞ্চলে বাজেট বেড়েছে পানি-স্যানিটেশনে, সেবা ঘাটতি গ্রামে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:২২ পি.এম


বঞ্চিত হাওর-চরাঞ্চলে বাজেট বেড়েছে পানি-স্যানিটেশনে, সেবা ঘাটতি গ্রামে

পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) খাতে আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট বেড়েছে। টানা তিন বছর নিম্নমুখী থাকার পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এতদুর সত্ত্বেও, বরাদ্দ বৃদ্ধির এই ইতিবাচক চিত্রের মধ্যেও পুরনো প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে— যেখানে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, সেই গ্রামীণ, হাওর, চর ও উপকূলীয় অঞ্চলে কি পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে?

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশের যৌথ বাজেট বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তবতা এখনো উল্টো। ওয়াশ খাতে মোট এডিপি বরাদ্দের প্রায় ৭২ শতাংশই যাচ্ছে শহরাঞ্চলে। এর মধ্যে বড় অংশ ব্যয় হবে ওয়াসাভিত্তিক বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে।

বাড়লেও আগের শীর্ষ অবস্থান থেকে অনেক দূরে, কারণ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ওয়াশ খাতে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ২২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। পরে টানা তিন বছর বরাদ্দ কমেছে। তবে এবার বরাদ্দ বেড়ে পৌঁছেছে ১৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকায়। গত অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৯০১ কোটি টাকা।

গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, জাতীয় বাজেট ও মোট এডিপির তুলনায় ওয়াশ খাতের অংশীদারি খুব বেশি বাড়েনি। ফলে বরাদ্দ বৃদ্ধির সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে কতটা পৌঁছাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চারটি ওয়াসা মিলে পেয়েছে ৬ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা, যা মোট ওয়াশ বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক। শুধু ঢাকা ওয়াসার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার ১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ পুরো ওয়াশ এডিপি বরাদ্দের প্রায় ৩৭ শতাংশ যাচ্ছে একটি সংস্থার কাছে।

গবেষকরা বলেন, এসব অর্থের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৃহৎ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, ব্যয় বৃদ্ধি এবং সেবার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৪২৮ কোটি টাকার বেশি। আগামী অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪০৮ কোটি টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ১ হাজার ২০ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ পানি সরবরাহ, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ডিপিএইচইর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বরাদ্দ কমে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের এমআইসিএস ২০২৫ জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ এখনও নিরাপদ খাবার পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। একই সঙ্গে ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত স্যানিটেশন সুবিধার বাইরে রয়েছে।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সেবা ঘাটতি থাকা এলাকাগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন গবেষকেরা।

দুর্গম অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ বিশ্লেষণে বৈপরীত্য দেখা গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের বরাদ্দ ২০৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। তবে হাওর অঞ্চলের জন্য কোনো পৃথক বরাদ্দ দেখা যায়নি। একইভাবে চরাঞ্চলের জন্যও নির্দিষ্ট অর্থায়নের চিহ্ন নেই। উপকূলীয় এলাকার জন্য বরাদ্দও কমেছে, যদিও লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সেখানে ক্রমেই বাড়ছে।

ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে পুরো চিত্রই নেতিবাচক নয়। জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বরাদ্দ বেড়ে ৩ হাজার ১৪৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফিক্যাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট (এফএসএম) খাতে বরাদ্দ ১ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। সক্ষমতা উন্নয়ন খাতেও বরাদ্দ বেড়ে ১ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এসব উপখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ইতিবাচক উদ্যোগ।

ওয়াশের তিনটি প্রধান উপাদানের একটি হলো হাইজিন বা স্বাস্থ্যসম্মত আচরণ। কিন্তু বাজেটে এটি এখনো পৃথক খাত হিসেবে দৃশ্যমান নয়। ফলে হাইজিন উন্নয়ন, আচরণ পরিবর্তন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার স্পষ্ট হিসাব পাওয়া যায় না। এ কারণে পৃথক ও ট্র্যাকযোগ্য বাজেট লাইন চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যাডভোকেসি প্রধান অ্যাডভোকেট ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ বলেন, নিরাপদ পানি ও নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত স্যানিটেশন থেকে এখনো প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী বঞ্চিত। এখন মূল চ্যালেঞ্জ নীতিমালা প্রণয়ন নয়, বরং সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, সেই অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং তার জবাবদিহিতা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্প ও পরিচালনা-রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কসের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ ওয়াশ অর্থায়ন বৃদ্ধি, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য পৃথক অর্থায়ন ব্যবস্থা, বর্জ্য পানি ও ফিক্যাল স্লাজ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানো, দরিদ্র পরিবারের জন্য ওয়াশ ভাতা চালু এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক ও আইনগতভাবে শক্তিশালী করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বরাদ্দ বৃদ্ধি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে সেবা বঞ্চনা, জলবায়ু ঝুঁকি ও আঞ্চলিক বৈষম্যের বাস্তবতা বিবেচনায় না নিলে বাড়তি অর্থও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না। ওয়াশ খাতের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বরাদ্দের অঙ্কের চেয়ে সেই অর্থ কতটা ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%