বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০৪ এম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি বের করা হয়। এর আগে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে শহরে এসে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন, লাল টুপি এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
ঢোল-ঢাকের তালে নাচ-গান ও বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ। দলীয় নেতৃবৃন্দকে ঘিরে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নারী নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ শোভাযাত্রায় ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহরের আলফাত স্কয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হোসেন বখত চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
শোভাযাত্রায় যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বিএনপি
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠার দিন নয়; এটি দেশের গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও মানুষের কল্যাণের জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামেরও একটি স্মরণীয় দিন। এ দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। একই সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে বিএনপি একটি শক্তিশালী ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন। অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এ জেলার নেতাকর্মীরা সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাজপথে ছিলেন। জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন আরও বলেন, জনগণের ভোটে দায়িত্ব পাওয়ার অর্থ শুধু ক্ষমতায় থাকা নয়; এর সঙ্গে মানুষের প্রতি জবাবদিহিতা, দায়িত্ববোধ এবং তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার জড়িয়ে রয়েছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন, শ্রমিক তার শ্রমের মর্যাদা পাবেন, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারবেন।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা নিশ্চিত করাসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জের উন্নয়নকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জের উন্নয়ন শুধু শহরকেন্দ্রিক হলে হবে না। জেলার প্রত্যন্ত হাওর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, হাওর রক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি আমাদের অগ্রাধিকার।
“আমরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বকে কোনোভাবেই ক্ষমতার বিষয় হিসেবে দেখি না; বরং এটি জনগণের সেবা করার একটি সুযোগ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, আগামী দিনে একটি কল্যাণকামী, গণতান্ত্রিক, উন্নয়নবান্ধব ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে। সুনামগঞ্জের উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “আমরা চাই সুনামগঞ্জ হোক উন্নয়ন, শান্তি ও সম্ভাবনার একটি মডেল জেলা।”
ঐক্যবদ্ধ বিএনপির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে
সমাবেশে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মী এবং সুনামগঞ্জবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে সফল করেছেন। তাদের এই উপস্থিতিই প্রমাণ করে সুনামগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও জনগণের সঙ্গে দলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের সুদৃঢ় নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় বিএনপি আজ ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র ও সাম্য রক্ষা এবং দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
সমাবেশে বিএনপি নেতারা বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দলটির সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ সময় পর মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে এমন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন।
নেতারা বলেন, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র ও সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে ধারণ করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
নেতারা আরও বলেন, আগামী দিনে জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে একটি কল্যাণমুখী, জনবান্ধব ও উন্নয়নবান্ধব সরকার পরিচালনায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যারা উপস্থিত ছিলেন
শোভাযাত্রা ও সমাবেশে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈনুদ্দিন সোহেল, আকবর আলী, জেলা আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাদীর আহমদ, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, রেজাউল হক, নজরুল ইসলাম, মুনাজ্জির সুজন, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমদ লিলু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জুনেদ আহমদসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত ত্যাগ করে দুবাইয়ে গিয়েও শান্তি পাচ্ছেন না ইরানি মডেল ও বলিউড অভিনেত্রী মান্দানা করীমী। তার পুরনো আতঙ্ক এখনও তাকে তাড়া করছে। দুবাইয়ে পাড়ি দেওয়ার পরেও তার পরিচিত মহলে রহস্যময় ই-মেল পৌঁছাচ্ছে।
এই ই-মেলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এবং কখনও কখনও অর্থ চাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে চলা এই সাইবার হেনস্থার বিষয়ে এবার মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী।
সাবেক ‘বিগ বস’ প্রতিযোগী হিসেবে মান্দানা দাবি করেছেন, তার বিচ্ছেদের পর থেকেই অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিয়মিতভাবে তাকে অনুসরণ করছে। শুধু তিনি নয়, তার সঙ্গে কাজ করা প্রযোজক, সহ-অভিনেতা এবং পরিচিতদের কাছেও বার্তা পৌঁছাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য একটাই— তার কাজ, সম্পর্ক এবং সামাজিক পরিচিতি নষ্ট করে দেওয়া।
মন্দানার কথায়, ছুটিতে থাকাকালীনও একই ঘটনা ঘটেছে। কয়েক বছর আগে বিষয়টির উৎস খুঁজতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদন্তের চেষ্টা করেছিলেন। তার দাবি, তখন তাকে জানানো হয়, এক পেশাদার হ্যাকারকে ব্যবহার করে তার সামাজিক মাধ্যমের কার্যকলাপ নজরে রাখা হচ্ছে। ‘মীনাক্ষী’ নামে একটি ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির কাছে ই-মেল পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান অভিনেত্রী।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ভারত ত্যাগের পরেও সেই যোগাযোগ থামেনি। মন্দানার দাবি, তার বন্ধুদের কাছেও এখনও ওই ই-মেল পৌঁছাচ্ছে। ফলে দেশ বদলালেও আতঙ্কের ছায়া যেন একই রয়ে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পরিচিতদের উদ্দেশে অভিনেত্রীর স্পষ্ট বার্তা হলো, তাকে ঘিরে কোনও ই-মেল এলে তাতে বিশ্বাস না করতে। টাকা পাঠানো তো নয়ই, কোনওরকম যোগাযোগ না করে বরং বার্তাটি সংরক্ষণ করতে, স্ক্রিনশট নিতে এবং তার কাছে পাঠাতে বলেছেন তিনি।
মন্দানার অভিযোগ, ভারতে থাকাকালীন একাধিক বার সাইবার অপরাধের অভিযোগ দায়ের করেও বিশেষ সুরাহা পাননি। তাই এবার প্রকাশ্যে প্রমাণ উপস্থাপন করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে চেয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে চলা এই হয়রানির বিরুদ্ধে আর নীরব থাকতে রাজি নন।
মন্দানার ব্যক্তিগত জীবনে টানাপড়েন নতুন নয়। ব্যবসায়ী গৌরব গুপ্তের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের পর ২০১৭ সালে তাদের বিয়ে হয়। কয়েক বছরের দাম্পত্যের পর ২০২১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরে একাধিক অনুষ্ঠানে সেই সম্পর্কের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও প্রকাশ্যে এনেছিলেন তিনি। এর মধ্যেই চলতি বছর ভারত ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন মন্দানা। প্রায় ১৬ বছর ভারতে থাকার পর আবেগঘন বার্তায় দেশকে বিদায় জানান তিনি। নতুন দেশ, নতুন বাড়ি, নতুন জীবন— এই আশাতেই দুবাইয়ে পাড়ি দিয়েছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জানা যায়, গুরুতর হুমকি ও হত্যার আশঙ্কার কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নেতানিয়াহু এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, ইরান তার এক সন্তানের হত্যার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক পোস্টের
একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত জানিয়েছে যে, ৩৫ বছর বয়সী ইয়ার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একটি ‘গুরুতর হুমকি’ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তারা আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এর আগে ২৪ আগস্ট, ইসরায়েলি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। ইরান তাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, তার দুই ছেলের মধ্যে কাকে এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৩ সালে মিয়ামিতে চলে যান। এরপর গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের বেশিরভাগ সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। জুলাই মাস থেকে ইয়ার, তার মা সারা এবং ভাই আভনের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে শিন বেত।
ইয়ার নেতানিয়াহু তার বাবার অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার পক্ষে সক্রিয় থাকার জন্য পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন মন্তব্যও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
২০২৫ সালে তিনি পডকাস্টার জো রোগানের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষকে উসকে দেয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে তার জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর জন্য সমালোচনা করেন।
এক্সে তিনি লিখেছিলেন, ‘তিনি এই গ্রহের প্রত্যেক নব্য নাৎসি ইহুদিবিদ্বেষীকে প্ল্যাটফর্ম দিয়েছেন, কিন্তু তিনি আমার বাবাকে তার অনুষ্ঠানে আনতে রাজি হননি, কারণ সে জানে যে আমার বাবার সঙ্গে সে কোনোভাবেই টিকতে পারবে না এবং বছরের পর বছর ধরে চালানো ইহুদিবিদ্বেষী প্রচারণা ব্যর্থ হয়ে যাবে।’
এর আগে পডকাস্টার জো রোগান কেলেঙ্কারিতে জড়ানো হান্টার বাইডেনের প্রশংসা করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য বলে মন্তব্য করলে তারও সমালোচনা করেন ইয়ার। তিনি লিখেছিলেন, ‘রক্ষণশীলদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা যে, জো রোগান কোনো রক্ষণশীল নন।’ মুসলিম ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে একাধিক পোস্ট দেয়ার কারণে ২০১৮ সালে ইয়ার নেতানিয়াহুর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনি কি জানেন কোথায় কোনো হামলা হয় না, আইসল্যান্ড এবং জাপানে। তার কারণ হলো সেখানে কোনো মুসলিম নেই।’ অন্য একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ‘১৯৬৪ সাল থেকে ‘ফিলিস্তিনি’ নামে পরিচিত মানবাকৃতির দানবদের সঙ্গে কখনো শান্তি হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা বাজারের জামাল মার্কেটে রাতে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডটি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় ঘটে। মার্কেটে আগুন লাগার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
পরে, কিছুটা দেরিতে হলেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে মালিহা এন্টারপ্রাইজসহ অনেক দোকান, রেস্টুরেন্ট, এজেন্ট ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
হ্নীলা বাজার পরিচালনা কমিটির অধ্যাপক জহির আহমদ ও আল মাসুদ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের সূত্রপাত প্রথমে ছেহের মিয়ার একটি রঙের দোকান থেকে হয়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঠিক কী কারণে রঙের দোকানে আগুন লেগেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত হওয়া দোকানে অনুমোদনহীন কেমিক্যাল ছিল।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে সার্ফিংয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক অভিযানে দেশের প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন কক্সবাজারের দশম শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা আক্তার। আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০তম এশিয়ান গেমসে লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে ধরার জন্য এখন দিন-রাত উত্তাল সমুদ্রে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করছেন এই তরুণী।
ফাতেমা বর্তমানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সার্ফিংয়ে বাংলাদেশের পদক জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নিবিড় অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার এই কঠোর যাত্রায় সহ-সার্ফার মোহাম্মদ মান্নান তাকে সমর্থন প্রদান করছেন। 'বাংলাদেশ সার্ফ গার্লস অ্যান্ড বয়েজ ক্লাব'-এর মূল প্রশিক্ষক রাশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে তারা নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
পড়ালেখার পাশাপাশি নিজের ক্রীড়া স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ফাতেমার এই নিরলস প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। কোচ রাশেদ আলমের নির্দেশনায় ফাতেমার গতি, ভারসাম্য এবং কৌশলগত দক্ষতার উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে, যাতে এশিয়ান গেমসের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশ্বমানের সার্ফারদের চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব হয়।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সার্ফিং দলের এই অভিষেক এবং ফাতেমার একক সাফল্য দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ফাতেমার এই অর্জন শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণই নয়, বরং বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি নতুন অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য নতুন ইতিহাস লেখার লক্ষ্য নিয়ে ফাতেমা আক্তার জাপানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ