০৩:১৬ পি.এম
বৃহস্পতিবার কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) নেতা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে বাহিনীটিকে একীভূত করার ঘোষণা প্রদান করেছেন। এসডিএফ সিরিয়ায় স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি প্রশাসনের কার্যত সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এবং ওয়াশিংটনের সমর্থন পুষ্ট ছিল। জিহাদিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা ছিল সামনের সারিতে।
সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ২০১৫ সালে আইএসবিরোধী লড়াইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গঠিত হয় আরব-কুর্দি জোট হিসেবে। তবে ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে পরিবর্তন ও সামরিক বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতা থেকে সরে আসে। এর ফলে এসডিএফ একটি চুক্তিতে সম্মত হয় এবং দামেস্কের অধীন কেন্দ্রীয় সিরীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বেসামরিক ও সামরিক কাঠামোর একীভূতকরণ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এসডিএফ-এর নেতা বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে বাহিনীটির একীভূত হওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর দেশের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও সুসংগঠিত বাহিনী হিসেবে পরিচিত এসডিএফ-এর বিলুপ্তি দেশটির কুর্দিদের জন্য একটি যুগের অবসান সঞ্চার করবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী ৭টি সেনাবাহিনী ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করলেন
বৈরুত থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ২০২৪ সালে সিরিয়ার শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে দীর্ঘদিন ধরে কুর্দিরা স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন দেখেছে। আসাদের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের ছেড়ে দামেস্কের নতুন মার্কিনপন্থী কর্তৃপক্ষকে সমর্থন দেয়।
এসডিএফ গঠন করা হয়েছিল ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কোবানেতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে কুর্দি যোদ্ধাদের দক্ষতা ওয়াশিংটনকে মুগ্ধ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র তখন জিহাদিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একজন নির্ভরযোগ্য অংশীদার খুঁজছিল।
আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একসময় এসডিএফ নেতৃত্ব দেয়। চার বছর পরে সিরিয়ায় আইএসকে ভৌগোলিকভাবে পরাজিত করা হয়। একপর্যায়ে এসডিএফের যোদ্ধার সংখ্যা প্রায় এক লাখে পৌঁছাল। এই বাহিনীতে কুর্দি ও আরব উভয় সম্প্রদায়ের সদস্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাহিনীটি সিরিয়ার তেলসমৃদ্ধ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত।
তবে জানুয়ারিতে সংঘর্ষে কুর্দিরা সরকারি বাহিনীর কাছে বড় অংশের ভূখণ্ড হারানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। এই চুক্তির অধীনে কুর্দিদের সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত হওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুন: নাজরানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সৌদি আরবে দুই ক্রু নিহত
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার বাহিনী কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাক্কা ও দেইর ইজোর প্রদেশ দুটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এসডিএফের আরব সদস্যরাও ব্যাপকভাবে দলত্যাগ করতে শুরু করেন।
সিরিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিস বালানশের মতে, এতে এসডিএফের শক্তি আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমে আসে। বালানশে বলেন, এসডিএফের মূল শক্তি অক্ষত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার সদস্যের পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি) এবং সম্পূর্ণ নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত উইমেনস প্রোটেকশন ইউনিটস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এসডিএফের প্রধান মাজলুম আবদি বাহিনীটি এবং কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনী কীভাবে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সঙ্গে একীভূত হবে, সে সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি। দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল।
ওয়াশিংটনভিত্তিক কুর্দি-বিষয়ক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞ মুৎলু জিভিরওগ্লু এএফপিকে বলেন, ‘এসডিএফ বিলুপ্ত হওয়া কুর্দিদের জন্য তিক্ত পরিণতি। এটি ‘সিরিয়ায় কুর্দি শক্তির অবসান।’ ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তুরস্কের বারবার সামরিক অভিযানের মুখে পড়েছিল কুর্দি বাহিনী। আঙ্কারা জানায়, তারা এসব যোদ্ধাকে নিজেদের সীমান্ত থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়।
আরও পড়ুন: ইউরোপের ৪ দেশে বিক্ষোভকারীরা, উত্তাল রাস্তায়
তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে এসডিএফকে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করে। পিকেকে দেশটিতে কয়েক দশক ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়েছে। কারাগারে থাকা পিকেকে নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের আহ্বানের পর গত বছরের মে মাসে পিকেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিত্যাগ করে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চার দশকের সহিংসতার অবসান ঘটে, এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়।
বালানশে বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে পিকেকেই পর্দার আড়াল থেকে ওয়াইপিজিকে পরিচালনা করে।’ ওয়াইপিজি হলো এসডিএফের মূল ভিত্তি পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন