০৭:৫২ এম
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক নেত্রীর করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরী এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে সাদাপোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এর আগে একই এলাকা থেকে আলী আকবর সুমনকেও তুলে নেওয়া হয়।
রাঙামাটি জেলা পুলিশ জানায়, শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক নেত্রীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ তাদের আটক করেছে। পরে তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মামলার বিস্তারিত তথ্য জেলা পুলিশকে জানানো হয়নি।
সিসিটিভিতে সাংবাদিককে গাড়িতে তোলার দৃশ্য
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ঘিরে ধরেন। কাছেই একটি মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়িটি চালু থাকা অবস্থায় কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর সৈকতকে ওই গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে গাড়িটি স্টেডিয়ামের দিকে চলে যায়।
প্রথমে তুলে নেওয়া হয় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে
রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন জানান, প্রথমে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমনকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদাপোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িতে তুলে নেন।
পরে সুমনের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক সৈকত। সেখানে সাদাপোশাকে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সৈকতকেও গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি।
কামাল উদ্দিন বলেন, সৈকতের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা তার জানা নেই। তবে মামলা থাকলেও দিনের বেলায় এভাবে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
‘মামলায় সৈকতের নাম আছে কি না জানি না’
রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াছ বলেন, সাংবাদিক সৈকতকে ডিবি পুলিশ নিয়ে গেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তার নাম রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
তিনি বলেন, জেলা পুলিশও তাদের বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি। সাংবাদিক নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।
আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে মামলা
জেলা ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেত্রীর একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ওই নেত্রী শাহবাগ থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
তবে মামলায় কারা আসামি, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানতে সংশ্লিষ্ট নেত্রীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী ও আলী আকবর সুমনকে আটকের ঘটনায় রাঙামাটির সাংবাদিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাদের আটকের আইনগত ভিত্তি এবং মামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন