ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিক্ষোভ বন্ধের পরই ছাত্রদের উপর চড়াও বিজেপি! চড় থাপ্পড় কি আগুনে ঘি ঢাললো?


বিক্ষোভ বন্ধের পরই ছাত্রদের উপর চড়াও বিজেপি! চড় থাপ্পড় কি আগুনে ঘি ঢাললো?

গোটা ভারতে তীব্র দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়া ভারতের জেন-জি ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে মোদি সরকার তাদের সকল দাবি মেনে নিতে বাধ্য হওয়ায় ছাত্ররা আন্দোলনে ইস্তফা দিয়েছে। এর একদিন যেতে না যেতেই ঘটলো ভাইরাল ঘটনা। একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষ করে আজ-তাক বাংলায় খবরও প্রকাশ হয়েছে। ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায় ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে আন্দোলন বন্ধের পরদিন-ই বিজেপি নেতা চড়াও হচ্ছেন ছাত্রদের উপর। তিনি গাড়িতে বসেই দুই শিক্ষার্থী কে কাছে ডেকে নিয়ে প্রশ্ন করেন, "তোরা কি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে সমর্থন করেছিস?" তারা উত্তরে সমর্থন সূলক হ্যাঁ জবাব দেওয়ার পর বিজেপি নেতা তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে তাদের দুজনকেই চড় থাপ্পড় দিতে শুরু করেন।

 
মোদি সরকার যখন আন্দোলন থামাতে ছাত্রদের সব দাবি মেনে নিতে ব্যস্ত তখন বিজেপি নেতার এমন কাণ্ড কি আবার যে জেন-জি ছাত্রদের গড়া ককরোচ জনতা পার্টির নিভে যাওয়া বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালল? ভিন্ন মত দমন পীড়নে যদি বিজেপি এভাবেই গোটা দেশে ছাত্রদের উপর চড়াও হয় তার পরিণতি কি হবে তা হয়তো সময়ে বলবে। তবে আপাতত বলা যায় এটি আগুনে ঘি ঢালার সমান।

দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিনের ছাত্র-আন্দোলন আপাতত থেমেছে। দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলনের নেতৃত্ব কর্মসূচি স্থগিত করেছে। কিন্তু ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—কোনো আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি মানেই জনমতের সমাপ্তি নয়। অনেক সময় একটি মাত্র ঘটনা আবারও চাপা ক্ষোভকে বিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দেয়।

উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে দুই শিক্ষার্থীকে কথিতভাবে ছাত্র-আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের প্রশ্ন তুলে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। অভিযোগ সত্য হলে ঘটনাটি কেবল দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার নয়; এটি ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।

গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতের পার্থক্য থাকবে, বিতর্ক থাকবে, সমালোচনা থাকবে। কিন্তু কোনো তরুণ কেবল একটি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করায় যদি অপমান, ভয়ভীতি বা শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন, তবে সেটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। এমন প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

যে কোনো সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিরোধিতা নয়; বরং বিরোধিতার প্রতি তার আচরণ। সংলাপ যেখানে দুর্বল হয়, সেখানে ক্ষোভ জমতে শুরু করে। আর জমে থাকা ক্ষোভের জন্য কখনো কখনো একটি ঘটনাই যথেষ্ট—যা আবারও রাজপথকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

ছাত্রসমাজ সব সময়ই রাজনৈতিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে পরিচিত। ভারতেও বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-আন্দোলন জাতীয় রাজনীতির গতিপথে প্রভাব ফেলেছে। তাই যে কোনো সরকার, রাজনৈতিক দল কিংবা জনপ্রতিনিধির উচিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণে সর্বোচ্চ সংযম, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া।

গাজিয়াবাদের ঘটনাটি যদি প্রকৃতপক্ষে অভিযোগ অনুযায়ী ঘটে থাকে এবং এর পুনরাবৃত্তি দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, তবে সেটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন আইনশৃঙ্খলার বিষয় হয়ে থাকবে না; বরং নতুন করে ছাত্র-অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে। রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু অধ্যায়ই বলে, অনেক বড় আন্দোলনের সূচনা হয়েছে আপাতদৃষ্টিতে ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

অতএব, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং আইনের শাসন নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারকে সম্মান করা। কারণ গণতন্ত্রে ভিন্নমতকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে নয়, যুক্তি ও আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করাই রাষ্ট্র ও রাজনীতির পরিপক্বতার পরিচয়। 
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক দশক পর চট্টগ্রামে কাল শুরু হচ্ছে চায়না ইকোনমিক জোনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১০ পি.এম


এক দশক পর চট্টগ্রামে কাল শুরু হচ্ছে চায়না ইকোনমিক জোনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম

চট্টগ্রাম, ২৬ জুলাই, ২০২৬ : এক দশকের বেশি সময় স্থবির হয়ে থাকার পর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হচ্ছে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) নির্মাণ কাজ। আগামীকাল সোমবার (২৭ জুলাই) প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগভিত্তিক শিল্পাঞ্চল বাস্তবায়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

২০১৪ সালে এ প্রকল্প নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ও চীন। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয় ২০১৬ সালে। তবে ডেভেলপার নিয়োগ, অর্থায়ন চূড়ান্তকরণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়নি। গত ২২ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর প্রকল্পটিতে নতুন গতি আসে। সফরে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুন বেজা ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলটির ডেভেলপার চুক্তি হয়। এর আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠবে এ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল। 

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে শিল্পায়নের যে স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে লালিত হয়ে আসছিল, এবার তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। প্রতীক্ষিত ‘বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল (চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন)’-এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সূচিত হতে যাচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে আনোয়ারা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম কৌশলগত শিল্প হাব হওয়ার পথে। প্রকল্পটি কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নয়, এটি এই অঞ্চলের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং জীবনযাত্রার মান বদলে দেওয়ার চাবিকাঠি।

প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন প্রমুখ।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে, আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থাপনায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরের পর মূল অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হবে।

কর্ণফুলী টানেল থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) ঋণ থেকে আসবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে এক হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক সড়ক, এক হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ প্রধান সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, ৪.২৪ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, দৈনিক ৬০ টন সক্ষমতার সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, প্রায় ১২ কিলোমিটার বাউন্ডারি ওয়াল এবং দুটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন।

বেজার তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত এক লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কেমিক্যাল, অটোমোবাইল অ্যাসেম্বলি, গার্মেন্টস, ওষুধসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার প্রত্যাশা করছে।

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষায়িত এই অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। তার মতে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হেডিং নিষিদ্ধ করল ইতালিয়ান ক্লাব কোমো, ঘটনা কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


হেডিং নিষিদ্ধ করল ইতালিয়ান ক্লাব কোমো, ঘটনা কী

কর্নার কিক থেকে বল ভেসে আসছে এবং খেলোয়াড়েরা সেটি হেড করে ক্লিয়ার করছেন অথবা জালে পাঠাচ্ছেন—ফুটবলের এমন পরিচিত দৃশ্যকে আর দেখা যাবে না ইতালির সিরি ‘আ’র ক্লাব কোমোর একাডেমিতে।

কারণ হলো, নতুন নীতিমালার আওতায় ক্লাবটি ১১ বছরের কম বয়সী ফুটবলারদের জন্য হেডিং নিষিদ্ধ করেছে।

ফলস্বরূপ কর্নার কিকের ক্ষেত্রে বল বক্সে তুলে দেওয়া হবে না এবং বরং কর্নারের পরিবর্তে মাটিতে থ্রো-ইনের মাধ্যমে খেলা শুরু করতে হবে। এ নিয়ম শুধু ম্যাচ নয়, টুর্নামেন্টেও প্রযোজ্য হবে।

কোমো জানিয়েছে, তারা হেডিংয়ের পরিবর্তে ছোট বয়সের খেলোয়াড়দের বলের সংস্পর্শে বেশি সময় রাখার, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর এবং টেকনিক্যাল দক্ষতা গড়ে তোলার দিকে জোর দেবে। খুদে ফুটবলাররা শারীরিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পর ধাপে ধাপে তাদের হেডিং শেখানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

অতএব অনূর্ধ্ব–১২ পর্যায়ে গিয়ে সীমিত আকারে হেডিং অনুশীলনের সুযোগ রাখা হবে। মৌসুমের শেষ দিকে হালকা রাবারের বল দিয়ে এই প্রশিক্ষণ শুরু হবে। মাসে একবারের বেশি এমন অনুশীলন করা যাবে না এবং একটি সেশনে সর্বোচ্চ পাঁচবার হেড করার অনুমতি থাকবে।

একাডেমির বড় বয়সী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও হেডিং অনুশীলন নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হবে। কোচদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অপ্রয়োজনীয় ও বারবার হেডিং করানোর পরিমাণ কমাতে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বাতাস ভরা শক্ত বল ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

১৯০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, নতুন নির্দেশিকার উদ্দেশ্য হলো এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব এমন মাথার আঘাত কমানো, খেলোয়াড়দের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘ মেয়াদে তাদের কারিগরি দক্ষতার উন্নয়ন ঘটানো।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ পরিবর্তনের মূল ভাবনা খুব সহজ। প্রথমে তরুণ খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দেওয়া, পরে তারা প্রস্তুত হলে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এই কৌশল শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ছোট বয়সে মনোযোগ থাকবে বলের সাথে বেশি সময় কাটানো, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্যকর খেলার সময় বৃদ্ধি এবং ধাপে ধাপে আত্মবিশ্বাস ও টেকনিক গড়ে তোলার উপরে।

এ উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কোমোর বোর্ড অব এডুকেশনের সদস্য ও সাবেক ফরাসি ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানে। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফুটবলার এবং দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবলে মাথায় আঘাতের ঝুঁকি নিয়ে সরব রয়েছেন।

ভারান বলেছেন, ফুটবলে মাথায় আঘাতের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া এবং আমাদের শিশুদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমি আগেও বলেছি। ছোট খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে ভালো পথ হলো স্পষ্ট নিয়ম, ভাল কোচিং এবং একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে।

ভারান আরও জানিয়েছেন, এ পদ্ধতিতে সবচেয়ে কম বয়সের খেলোয়াড়দের জন্য অপ্রয়োজনীয় মাথার সংস্পর্শ কমানো হবে, যেখানে মস্তিষ্ক এখনো বিকাশমান। এরপর সঠিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে হেডিংয়ের কৌশল শেখানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় গৃহবধূ হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


খুলনায় গৃহবধূ হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় রাশিদা বেগম নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দেয়া হয়েছে।

এই রায়টি রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- দিঘলিয়া দক্ষিণপাড়ার মোছা. আনোয়ারা বেগম, তার ছেলে ইসমাইল শেখ ওরফে বাবু, জামাই শামিম শেখ, রাজু ওরফে রাজু মুন্সি এবং ইলিয়াস শেখ। উল্লেখযোগ্য হলো, শামীম ও আনোয়ারা ছাড়া বাকি তিন আসামি পলাতক অবস্থায় আছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায় যে, ২০১১ সালের ১৯ জুলাই দিঘলিয়ার দেয়াড়া উত্তরপাড়ায় বাড়িতে একা থাকার সময় বৃদ্ধা রাশিদা বেগমকে গলা কেটে হত্যা করে সংঘবদ্ধ চোরের দল। পরে তারা ঘর থেকে ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর নিহতের ছেলে নাসিরুজ্জামান দিঘলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১২ মার্চ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এটিএম মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একটি স্যান্ডেলের সূত্র ধরে প্রথমে শামীম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিদের শনাক্ত করা হয়। আদালতের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৪ পি.এম


শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ঢাকা, ২৬ জুলাই, ২০২৬ : সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, শিশুরা ফুলের মতো। তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই সম্ভাবনাময় সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভার বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। বাংলাদেশ জিয়া শিশু একাডেমি শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশে কাজ করছে এই লক্ষ্যেই।

আজ রোববার, রাজধানীতে চ্যানেল আইয়ে আয়োজিত জাতীয় শিশু শিল্পী প্রতিযোগিতা ‘শাপলাকুঁড়ি-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যারা প্রতিষ্ঠিত শিল্পী, তাদের অনেকেই বিভিন্ন প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজনের মাধ্যমে উঠে এসেছেন। নতুন প্রজন্মের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্ব সহকারে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘যেখানে প্রতিভা, সেখানেই আমরা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জিয়া শিশু একাডেমি ১৪তম বারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। ক্বেরাত, আবৃত্তি, অভিনয়, সংগীত, নৃত্য ও যন্ত্রসংগীতসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের ১২টি জোনে প্রাথমিক পর্যায়ের বিজয়ীরা চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ তিনটি একক এবং একটি দলীয় বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রতিটি বিষয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করে দুটি বিভাগে দুজনকে ‘শাপলাকুঁড়ি চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষণা করা হবে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্ব চ্যানেল আই-এ প্রচারিত হবে। আগামী ২৬ জুলাই থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত নিবন্ধন চলবে। নিবন্ধনের বিস্তারিত তথ্য চ্যানেল আই এবং বাংলাদেশ জিয়া শিশু একাডেমির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, বাংলাদেশ জিয়া শিশু একাডেমির মহাপরিচালক হুমায়ুন কবীর, নজরুলসংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা ও ফাতেমা তুজ জোহরা।

এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠশিল্পী বিউটি, লায়লা, মৌমিতা বড়ুয়া এবং প্রতিযোগিতার প্রকল্প পরিচালক রাজু আলীম।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রতিভাবান শিল্পীরা উঠে আসবেন, যা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%