০৯:৫৪ পি.এম
অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং অফুরান প্রাণশক্তির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ভারতের কলিতা মাজি। এক সময় অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে ভাত জুটানোর জন্য সংগ্রাম করতে যিনি বাধ্য হয়েছিলেন, আজ তিনিই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিয়েছেন।
গত সোমবার (১ জুন) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কলিতা মাজি। জীবন নামক বইয়ে তার এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের আউশগ্রাম (সংরক্ষিত) আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন কলিতা।
আরও পড়ুন: অভিজিতের পর আটক হলেন নেহা বোরা, দিল্লি পুলিশের হাতে
একসময় গৃহপরিচারিকা হিসেবে মাসে মাত্র আড়াই থেকে চার হাজার রুপি উপার্জন করতেন তিনি। সমাজের একেবারে তলানি থেকে উঠে আসা এই নারীর হাতেই আজ জনগণের ভাল-মন্দ দেখার দায়িত্ব। কলিতার এই রাজনৈতিক সফলতাকে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরছে বিজেপি নেতৃত্ব।
অতিসাধারণ একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন কলিতা মাজি। আর্থিক সংকটের কারণে তিনি অল্প বয়সেই বিয়ে করেন এবং কাজের সন্ধানে নামেন। তার স্বামী পাইপ লাইনের মিস্ত্রী। সংসারে অনটন থাকায় তার কাজের যোগান যথেষ্ট ছিল না। ফলে একসময় বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে তাকে সংগ্রাম করতে হয়। তারপর শ্বশুর ও শাশুড়ির উৎসাহে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন।
যাহোক, দারিদ্র্যের কষাঘাত থামিয়ে দিতে পারেনি তার স্বপ্নকে। যেন লটারি কিংবা ভোজবাজির মতো চোখের পলকে দৃশ্যপটের পরিবর্তন! প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর কলিতা যখন নিজের বাড়ি নিজের আউশগ্রামে ফিরে এলেন, তখন আকাশে কনফেত্তি উড়ছিল। তাকে স্বাগত জানানোর জন্য শুভানুধ্যায়ীরা দাঁড়িয়ে ছিলেন, বরমাল্য হাতে দেখা গেলো প্রান্তিক মানুষের মিছিল।
কলিতার এই অবিশ্বাস্য গল্প শুধু তার ব্যক্তিগত সফলতার পরিচায়ক নয়, বরং সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্যও এক অনুপ্রেরণার নাম।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন