কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১১:৩৭ পি.এম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার এবং নিয়মিত অফিসে আসা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্পের কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করে সরকারি সেবা নিতে আসা লোকজনকে সেখানে যাওয়ার জন্য প্রভাবিত করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে সরেজমিনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, ডা. মো. আব্দুস সালাম নির্ধারিত কক্ষে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলছেন। এ সময় দপ্তরের বাইরে তাঁর ব্যবহৃত সরকারি মোটরসাইকেলটি পার্ক করা ছিল।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, এলডিডিপি প্রকল্পটি ১ জানুয়ারি ২০১৯ সালে শুরু হয়, যা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন ধাপে মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রকল্পটির মেয়াদ ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে ৩০ জুন চূড়ান্ত ইমপ্যাক্ট রিপোর্ট হস্তান্তর করা হয়।
জানা গেছে, ডা. মো. আব্দুস সালাম ২০ অক্টোবর ২০২০ সালে আলফাডাঙ্গায় এলডিডিপি প্রকল্পের প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি নিয়মিত অফিসে আসছেন এবং সরকারি মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মূল ফটকের সামনেই ‘আলফাডাঙ্গা ভেট কেয়ার প্লাস’ নামে একটি ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করছেন ডা. আব্দুস সালাম। সরকারি দপ্তরে প্রাণিসম্পদ-সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে বিভিন্নভাবে তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বারে নিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
পৌর এলাকার কুসুমদি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ আলী এবং নাওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামানসহ একাধিক সেবাগ্রহীতা বলেন, “আমরা প্রাণিসম্পদ-সংক্রান্ত সেবা নিতে সরকারি অফিসে গেলে তাঁকে ব্যক্তিগত চেম্বারে যাওয়ার কথা বলা হয়। সেখানে গেলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। এতে আমরা বিভ্রান্তিতে পড়ি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া সরকারি মোটরসাইকেল প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সরকারি যানবাহনটি কেন এখনও তাঁর কাছে রয়েছে এবং কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
@
আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রভাস চন্দ্র সেন বলেন, প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হলেও ডেইরি ফার্মারদের সমিতির নিবন্ধনসংক্রান্ত কিছু কাজ চলমান রয়েছে। ওই কাজের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে সরকারি মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন এবং অফিসে আসেন।
ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আসজাদ বলেন, সরকারি গাড়ি বা মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অফিসের কাজে ব্যবহার করতে হলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রকল্প শেষ হলে সরকারি যানবাহন জমা দেওয়ার বিষয়টিও নিয়ম অনুযায়ী হওয়ার কথা। কেন এখনও জমা দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. মো. আব্দুস সালামের বক্তব্য জানতে তাঁর কক্ষে গেলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যান। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য ২১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে কামরুজ্জামান টুটুল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পাপ্পু মাহমুদ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে সমন্বয় কমিটির সভায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম লিটন। সভায় উপস্থিত ছিলেন সমন্বয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মুন্সী মোহাম্মদ মনির, সদস্যসচিব অধ্যাপক এসএম চিশতি, সদস্য গাজী সালাউদ্দিন এবং কাজী হারুনুর রশিদ। এছাড়া প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম ও সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মজুমদারও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য ২১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান টুটুল দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ব্যুরো ইনচার্জ এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ ও ৭১ টিভির হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু মাহমুদ দৈনিক দেশ রূপান্তরের হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি এবং দৈনিক শপথের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—সহসভাপতি মো. মেহেদী হাছান সর্দার ও মো. সাইফুল ইসলাম সিফাত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মিরাজ মুন্সী ও মো. মঞ্জুর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মহিন উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক মো. হাবীব উল্যাহ, দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, প্রচার সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুজন দাস।
কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. আরিফ ইমাম মিন্টু, খালেকুজ্জামান শামীম, মহিউদ্দিন আল আজাদ, হাছান মাহমুদ, এনায়েত মজুমদার, খন্দকার আরিফ, কাউছার আহমেদ রিপন, রেজাউল করিম নয়ন ও মুনছুর আহমেদ বিপ্লব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘প্রকৌশলী অধিকার দিবস’ উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মোমবাতি প্রজ্বলন ও মৌন মিছিল করেছে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতির দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারকে প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে এবং আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের স্মরণ করেন।
আয়োজকরা জানান, ২৭ আগস্ট প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। সেই ঘটনার স্মরণে এবং প্রকৌশলীদের অধিকার আদায়ের দাবিকে সামনে রেখে দিনটিকে ‘প্রকৌশলী অধিকার দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
কর্মসূচিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফি বলেন, “আমরা প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতির দাবিকে আরও শক্তিশালী করতে এখানে এসেছি। একই সঙ্গে ঢাকার লং মার্চ কর্মসূচিতে আহত আমাদের সহযোদ্ধাদের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আজকের এই কর্মসূচি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকৌশলী শুধু একটি পদবি নয়; একজন প্রকৌশলী দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম কারিগর। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শিল্প ও অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, পানি ও জ্বালানিসহ প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার দাবিকে উপেক্ষা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের আন্দোলন কারও বিরুদ্ধে নয়, আমাদের আন্দোলন বৈষম্যের বিরুদ্ধে।”
রাফি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ঐক্যবদ্ধ থেকে যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকৌশলীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”
একই বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াহিদুর রহমান বলেন, “গত বছর ডিপ্লোমা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সারা দেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২৭ আগস্ট ঢাকায় লং মার্চ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ওই কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা চালায় এবং আমাদের অনেক সহযোদ্ধা আহত হন। তাঁদের স্মরণে আমরা আজকের দিনটিকে প্রকৌশলী অধিকার দিবস হিসেবে পালন করছি এবং মৌন মিছিলের আয়োজন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানদের অবৈধ পদোন্নতির কারণে প্রকৌশল খাতে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে আমরা মনে করি। প্রয়োজনীয় উচ্চতর ডিগ্রি ও যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতির মাধ্যমে তাঁরা প্রকৌশলীদের বিভিন্ন পদ দখল করে রেখেছেন। এর ফলে প্রকৃত প্রকৌশলীরা তাঁদের যোগ্য পদে কাজ করার সুযোগ থেকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।”
ওয়াহিদুর রহমান আরও বলেন, “একটি দেশের সমৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য দক্ষ ও স্বচ্ছ প্রকৌশল খাত প্রয়োজন। তাই এ খাতকে অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং থাকবে।”
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিন তাসদীদ বলেন, “আমরা যেটিকে প্রকৌশলী সেক্টর বলি, সেখানে যারা বিএসসি পাস করে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন, তাঁদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতেই আমরা ২৭ আগস্ট যমুনার মুখে আন্দোলন করতে চেয়েছিলাম। সেই আন্দোলনে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা পরিশ্রম করছি ও আন্দোলন করছি।”
তিনি বলেন, “এবারই আমরা প্রথমবারের মতো ২৭ আগস্টকে প্রকৌশলী অধিকার দিবস হিসেবে পালন করছি। আন্দোলনের সময়ের হামলার একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যেটিকে সরকার এআই-নির্মিত ছবি বলে দাবি করেছে। পাশাপাশি প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের অনেক সহযোদ্ধা আহত হয়েছেন এবং বুয়েটের শিক্ষার্থীরাও রক্তাক্ত হয়েছেন।”
মাহিন আরও বলেন, “এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে আমরা আজকের দিনটিকে প্রকৌশলী অধিকার দিবস হিসেবে পালন করছি। আমাদের মূল আন্দোলন ঢাকাকেন্দ্রিকভাবে চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলিল টেক্সটাইল মিলসের জমি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর চুক্তি সই
চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী এলাকায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) অধীনে জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের (জেটিএমএল) ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের জন্য একটি চুক্তি সই করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ) সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এই চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিউএমজি লে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। স্বাগত বক্তব্যের পর আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। বিটিএমসির চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম ইস্টার্ন সার্কেলের মিলিটারি এস্টেট অফিসার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এরপর বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান; সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় জনাব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী; সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান; প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম; বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বক্তব্য রাখেন।
সেনাবাহিনী প্রধান তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান এবং তাঁদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথি বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা সামগ্রীসহ দেশে উৎপাদিত সব ধরনের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করতে চায়।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনী প্রধানের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ সশস্ত্র বাহিনী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া, রাষ্ট্রের একমাত্র অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিওএফ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আধুনিক সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো সুসংহত হবে। এই উদ্যোগ সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমান্ড্যান্ট, বিওএফ; ভারপ্রাপ্ত জিওসি, আর্টডক ও কমান্ড্যান্ট, বিএমএ; কমান্ড্যান্ট, ইবিআরসি; জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া; সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়; বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম; ডিআইজি, চট্টগ্রাম; চেয়ারম্যান, সিডিএ এবং সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের মধুপুরে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে, মধুপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায়, উপজেলার ২ নম্বর মহিষমারা ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
র্যালিটি স্থানীয় সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে মহিষমারা ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কর্মকর্তাগণ, মধুপুর থানা পুলিশের সদস্যগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এর ভয়াবহ প্রভাব থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
সমাবেশ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ