১১:১৯ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার থেকে ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলার সময় উল্লেখ করেছেন, বিগত ১৭ বছরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উন্নয়ন করা হয়নি। বিএনপি সরকার যেভাবে রেখে গিয়েছিল, সেইভাবে সড়কের উন্নয়ন এখনো রয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রাণ হলো কৃষকরা। বিগত বিএনপি সরকার গঠনের পর সেই কৃষকদের কথা বিবেচনা করা হয়নি। তিনি লবণ চাষীদের জন্য একটি মূল্য নির্ধারণ করার কথা বলেন, যাতে চাষীরা লাভবান হতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী 'করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ'— এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে মাটি কেটে পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে তিনি রাত ৭টা ৫০ মিনিটে চকরিয়ায় জনসভায় ভাষণ দেন।
সকালের পথসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল জনতার উদ্দেশে যে, সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে দেশের জন্য কাজে লেগে যাব—এমন প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, এই কথাটি তিনি উল্লেখ করেন। তিনি মৌলিকভাবে বলেন, পাতলী খাল পুনঃখনন একটি প্রকল্প নয়, কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
তার ভাষায়, খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সদ্যঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা পাবেন।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তালাক বন্ধ: চিফ হুইপ
তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।
এছাড়া, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ইনানীর রিসোর্টে আগুন: নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা
তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যেন সহজে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেই জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট দেয়ার পর পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কর বাড়ানো হয়েছে শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর। কারণ, এগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বিরোধী দল সেটি নিয়েও সমালোচনা করছে। তাদের উদ্দেশ্য জনগণ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণের জন্য সরকারের সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন