ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বাবাকে হারানোর শোক সত্ত্বেও লিজার জিপিএ ৫


বাবাকে হারানোর শোক সত্ত্বেও লিজার জিপিএ ৫

যে বাবার হাত ধরে জীবনের পথচলা শুরু হয়েছিল, যে মানুষটি সন্তানের ভালো ফলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন, সেই বাবাই আজ নেই। এইচএসসি পরীক্ষার মাত্র কয়েক দিন আগে বাবাকে হারান লিজা আক্তার। শোকের ভারে চারপাশ থমকে গিয়েছিল, স্বপ্ন ও প্রস্তুতি এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। তবুও বাবার স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে, চোখের জল মুছে পরীক্ষার হলে বসেছিলেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে লিজা পেয়েছেন জিপিএ ৫। জীবনের এই আনন্দের দিনে সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে পাশে না পাওয়ার বেদনা তার আনন্দকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

লিজা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া এলাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বাবার মৃত্যুর শোক সামলে তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ, জেমসের কনসার্টসহ নানা আয়োজন

লিজার বাড়ি আখাউড়া পৌর এলাকার মসজিদপাড়া এলাকায়। তার বাবা মৃত রেজাউল ইসলাম (ছায়েদ) এবং মা রোজিনা আক্তার গৃহিণী। লিজা দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়। এর আগে এসএসসি পরীক্ষাতেও সে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। পড়াশোনায় মেধাবী লিজার সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা ও যত্ন ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।

কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষার কয়েক দিন আগে বাবার মৃত্যুতে লিজার চেনা জীবন হঠাৎ বদলে যায়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে লিজা। বই খুললেই বাবার কথা মনে পড়ত। পড়ায় মন বসত না। এমন পরিস্থিতিতে স্বজনদের সাহস ও পরামর্শে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। বাবার স্বপ্ন পূরণের তাগিদেই নিজেকে সামলে নেয়। বুকের ভেতর জমে থাকা শোক নিয়েই একে একে শেষ করে পরীক্ষাগুলো।

ফল প্রকাশের পর জিপিএ ৫ পাওয়ার খবর শুনে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী আনন্দিত হয়েছেন। তবে এই আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে এক গভীর অপূর্ণতা। লিজার বিশ্বাস, বাবা বেঁচে থাকলে তার এই ফলাফলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। হয়তো সবার আগে মেয়েকে বুকে টেনে নিতেন। অথচ আজ সেই মানুষটিই নেই।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে লিজা বলেন, ‘বাবা সব সময় চাইতেন আমার ফল ভালো হোক। পরীক্ষার আগে বাবাকে হারানো ছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবেই নিজেকে সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। বাবার মৃত্যুর পর কোনো কিছুই ভালো লাগত না। বারবার বাবার মুখ মনে পড়ত, পড়াশোনায় মন বসত না। বাবা বেঁচে থাকলে আমার এই ফল দেখে অনেক খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চাই।’

আরও পড়ুন: চলতি বছরে উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন

আখাউড়া নাছরীন নবী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক খোরশেদ আলম জানান, আখাউড়া ক্যামব্রিয়ান কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পুরো আখাউড়া উপজেলায় একমাত্র জিপিএ ৫ পেয়েছে আমাদের শিক্ষার্থী লিজা। পরীক্ষা শুরুর অল্প কিছুদিন আগে তার বাবা মারা যান। তারপরও সে ভেঙে পড়েনি। সে তার বিশেষত্ব ধরে রেখেছে। সে এখন ঢাকায় রেটিনাতে কোচিং করছে। সেখানে তার মন টিকতে চায় না। সময়ে অসময়ে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করে। তাকে মোটিভেট করার চেষ্টা করা হয়।

ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক হাজারী বলেন, ‘লিজা শুরু থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তার ভালো ফলের ব্যাপারে শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল। তবে পরীক্ষার কিছুদিন আগে বাবার মৃত্যুতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এসময় কলেজের শিক্ষকরা তাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাবাকে হারানোর মতো বড় শোক সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ অর্জন করা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তার এ সাফল্যে কলেজের সবাই আনন্দিত। আশা করি, ভবিষ্যতেও সে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে।’

লিজার হাতে আজ জিপিএ ৫-এর সাফল্য, সামনে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু এই অর্জনের গল্পে যে মানুষটির সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল, তিনি নেই। তাই ফলাফলের আনন্দের মাঝেও লিজার কাছে সবচেয়ে বড় হয়ে আছে বাবার শূন্যতা।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৭ জন ফেল, ছাত্রদলের প্রতিবাদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যালন ডি’অর: স্বর্ণের বলের সাত দশকের গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ এম


ব্যালন ডি’অর: স্বর্ণের বলের সাত দশকের গল্প

একটি সোনালি বল। এটি ফুটবলারের কাছে শুধুমাত্র একটি পুরস্কার নয়, বরং স্বপ্নের চূড়ান্ত স্বীকৃতি। মাঠে অসংখ্য গোল, ট্রফি এবং ব্যক্তিগত কীর্তির মাঝে যে সম্মান একজন খেলোয়াড়কে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যায়, সেটি হল ব্যালন ডি’অর। কিন্তু এই পুরস্কারের সূচনা হয়েছিল একটি ছোট পরিসরে। ১৯৫৬ সালে ফ্রান্সের ফুটবল সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ইউরোপের সেরা ফুটবলারকে স্বীকৃতি দিতে এই আয়োজন শুরু করে। প্রথমবার পুরস্কারটি জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউস, যিনি তখন ৪১ বছর বয়সী ছিলেন।

ছোট পরিসরের সেই আয়োজন আজ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত স্বীকৃতিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। সাত দশকের ইতিহাসে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি, রোনালদো নাজারিও, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিদের নাম।

শুরুর দিকে ব্যালন ডি’অরের জন্য শুধুমাত্র ইউরোপীয় নাগরিকত্ব থাকা ফুটবলাররাই বিবেচিত হতেন। ফলে পেলে কিংবা ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিরা ইউরোপের ক্লাবে খেললেও পুরস্কারটির জন্য যোগ্য ছিলেন না। ১৯৯৫ সালে নিয়ম পরিবর্তন করে ইউরোপের ক্লাবে খেলা সব দেশের ফুটবলারদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়। সেই বছর প্রথম নন-ইউরোপীয় হিসেবে পুরস্কারটি জিতেছিলেন লাইবেরিয়ার জর্জ উইয়াহ। ২০০৭ সালে যোগ্যতার পরিধি আরও বাড়িয়ে বিশ্বের যেকোনো লিগে খেলা ফুটবলারদের জন্য ব্যালন ডি’অর উন্মুক্ত করা হয়।

২০১০ সালে ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অর ও ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার একীভূত হয়ে ‘ফিফা ব্যালন ডি’অর’ নাম ধারণ করে। ছয় বছর পর আবারও দুই আয়োজন আলাদা হয়ে যায়। ফিফা চালু করে ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কার। ২০২৪ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর আয়োজনে ফ্রান্স ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উয়েফা।

কীভাবে হয় ভোটিং?

ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্ধারিত হন সাংবাদিকদের ভোটের মাধ্যমে। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, পুরুষদের বিভাগে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের একজন করে সাংবাদিক ভোট দেন। নারীদের বিভাগে ভোট দেন শীর্ষ ৫০ দেশের সাংবাদিক। ফ্রান্স ফুটবলের সম্পাদকীয় দল প্রথমে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে। এরপর ভোটাররা সেখান থেকে নিজেদের পছন্দের সেরা ১০ জনকে নির্বাচন করেন।

প্রথম পছন্দের জন্য ১৫ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে, দ্বিতীয় পছন্দে ১২, তৃতীয়তে ১০। এরপর যথাক্রমে ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট দেওয়া হয়। সব ভোটের পয়েন্ট যোগ করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। পয়েন্ট সমান হলে প্রথম স্থানে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া খেলোয়াড়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বিচারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও মাঠে প্রভাব। এরপর বিবেচনায় আসে দলীয় সাফল্য এবং খেলোয়াড়সুলভ আচরণ। অর্থাৎ, শুধুমাত্র গোল অথবা শিরোপা জিতলেই ব্যালন ডি’অর নিশ্চিত হয় না।

রেকর্ডের শীর্ষে মেসি

ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আটবার পুরস্কার জিতেছেন লিওনেল মেসি। ২০০৯ সালে প্রথমবার জয়ের পর তিনি ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে টানা চারবার সেরা হন। এরপর ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালেও পুরস্কারটি তার হাতে ওঠে। তার পরেই পাঁচবার পুরস্কার জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তিনবার করে পুরস্কার জিতেছেন ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি এবং মার্কো ফন বাস্তেন।

নারীদের ব্যালন ডি’অর ২০১৮ সালে চালু হয়। প্রথম পুরস্কারটি জিতেছিলেন নরওয়ের আডা হেগারবার্গ। এরপর স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস এবং আইতানা বোনমাতি একাধিকবার এই সম্মান অর্জন করেছেন। ২০২৬ সালে নারীদের পুরস্কারটি জিতেছেন পুতেয়াস।

২০২৬ সালে নতুন বিজয়ী কেইন

২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। প্রথমবারের মতো সোনালি বল হাতে তুলেছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, তৃতীয় স্থানে লামিন ইয়ামাল। একই আয়োজনে কোপা ট্রফি, ইয়াশিন ট্রফি, গের্ড মুলার ট্রফিসহ বিভিন্ন বিভাগে দেওয়া হয় স্বীকৃতি।

বিতর্ক, ভোটের হিসাব কিংবা তারকাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা; সবকিছুর মধ্যেও ব্যালন ডি’অরের আবেদন অটুট রয়েছে। ১৯৫৬ সালে ইউরোপের সেরা ফুটবলার খোঁজার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এখন বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। প্রজন্ম বদলাবে, নতুন তারকা আসবেন, কিন্তু সোনালি বল হাতে তোলার স্বপ্ন ফুটবলারের কাছে চিরকাল রয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ও বাহরাইনের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ এম


বাংলাদেশ ও বাহরাইনের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাহরাইন ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধিয়াব বিন সাকর আল নুয়াইমির।

২২তম মানামা ডায়ালগ ফোরাম ২০২৬-এ অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ ২৯ অক্টোবর বাহরাইনে পৌঁছান। সফরের সময়, গত ৩১ অক্টোবর তিনি বাহরাইন ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অব স্টাফের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি সম্পন্ন করেন।

রোববার (১ নভেম্বর) সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সাক্ষাৎকালে বাহরাইনের চিফ অব স্টাফ তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং মানামা ডায়ালগ ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফের এই সফর ফলপ্রসূ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের ছায়ায় থাকলে এনসিপি পরগাছা হবে: রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ এম


জামায়াতের ছায়ায় থাকলে এনসিপি পরগাছা হবে: রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতের ছায়ায় দীর্ঘকাল অবস্থান করলে এনসিপি চারাগাছ থেকে পরগাছায় পরিণত হবে এবং বটবৃক্ষ হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।

তিনি বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সোয়া ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, "জনসভা থেকে শিবির নেতা সাদিক কায়েম যেভাবে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদকে বেইমান আখ্যায়িত করেছে এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ‘ঠিক’ বলে চিল্লায়ে সমর্থন জানিয়েছে, এরপর নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদসহ এনসিপির নেতাকর্মীদের ন্যূনতম গাটস্ থাকলে এর প্রতিকার ছাড়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কোনো বৈঠক কিংবা সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে পারে না।"

তিনি আরও লেখেন, "দেখা যাক, গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের সেই শক্তি আছে, নাকি জামায়াতের কাছে ৮ আসনের বিনিময়ে নিজেদের পুরোপুরি সঁপে দিয়েছে। আমরা চাই, এনসিপি চারাগাছ থেকে বটবৃক্ষ হোক। কিন্তু দীর্ঘসময় জামায়াতের ছত্রছায়ায় থাকলে চারাগাছ থেকে এনসিপি পরগাছায় পরিণত হবে, বটবৃক্ষ হওয়ার আর সুযোগ থাকবে না। কিন্তু ৮ আসন পাওয়াকে তারা সবচেয়ে বড় সুযোগ মনে করলে, এটা আর ৮০ হবে, কখনো ১৫০ প্লাসও হবে না! এনসিপি হবে আরেকটি খণ্ডবিখণ্ড জাসদ!"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখে এসএসসি-এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন রাব্বির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ এম


দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখে এসএসসি-এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন রাব্বির

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর তরুণ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাব্বি দুর্ঘটনায় দুই হাত হারিয়েও পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। প্রথমে মুখে কলম ধরে লেখার চেষ্টা করে, পরে পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম রেখে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলে। এভাবে পা দিয়ে লিখে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি—দুই পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে রাব্বি। তার উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত সংগঠন এসবিএস অ্যাসোসিয়েশন।

রোববার সন্ধ্যায় ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জালিল গেট এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাব্বিকে সংবর্ধনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

এসময় এসবিএস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাব্বি দেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলে ভর্তি প্রস্তুতির কোচিং থেকে শুরু করে স্নাতক সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাব্যয় বহন করবে সংগঠনটি। সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী ও সমিতি ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরা সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী ফুটওভারব্রিজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় রাব্বি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার দুই হাত কেটে ফেলতে হয়।

এরপরেও সে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। প্রথমে মুখে কলম ধরে লেখার পর, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এইভাবে লেখার পর পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম ধরে লেখার কৌশল আয়ত্ত করে। দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে পা দিয়ে লেখায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে রাব্বি।

২০২৪ সালে ভাটিয়ারীর হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। পরে ভর্তি হয় চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে।

বিভিন্ন সময়ে রাব্বির পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীরা। গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌসী কাদরী তার শিক্ষার ব্যয়ে সহায়তা করেছেন বলে জানা গেছে। শিক্ষক ওসমানও বিনা পারিশ্রমিকে তাকে পড়িয়েছেন। পরিবারের সমর্থন ও এসব সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে।

রাব্বির স্বপ্ন হচ্ছে বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা এবং ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়া। পাশাপাশি সরকারি চাকরি করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করার ইচ্ছা তার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%