০২:২৯ পি.এম
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৫টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তিনি শপথ নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতির বেতন, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে খুবই আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রপতির বেতন ও সুবিধা ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা আয়করমুক্ত। বেতনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন ও বিনোদনের জন্য বার্ষিক ভাতা থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন হলো বঙ্গভবন। বঙ্গভবনের সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতি সরকারি গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধা পান। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতির জন্য স্বেচ্ছাধীন তহবিল রয়েছে। এ তহবিলে বছরে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা প্রদানের জন্য এ অর্থ ব্যয় করা যেতে পারে। রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। তাঁরা দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে যদি বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তবে সে ব্যয়ও সরকার বহন করে। রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে এ সুবিধার পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এই সুবিধা ছিল ১৫ লাখ টাকা। এর মানে হল, রাষ্ট্রপতির জন্য সরকারি বাসভবন, গাড়ি ও পরিবহন, চিকিৎসা, বিদেশ সফরের ভাতা, আপ্যায়ন এবং বিমানভ্রমণের মধ্যে যে রাষ্ট্রীয় সুবিধাগুলো রয়েছে, সেগুলো অর্থ সহায়ক। রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বাধ্য নন দুটি বিশেষ ক্ষেত্রে, যা হলো প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তাহলে সাধারণত ওই দলের সংসদীয় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। তবে যদি কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করে, তবে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখেন। রাষ্ট্রপতি যদি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পাঠাতে চান, তবে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আদালত তদন্ত করতে পারে না। রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ডকে মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে। তাঁর কার্যকাল চলাকালীন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তাঁকে গ্রেপ্তার কিংবা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানা জারি করা যায় না। তবে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণ অপসারণের বাইরে নন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাঁকে অভিশংসন করা যেতে পারে। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে তাঁকে অপসারণের বিধানও রয়েছে। অভিশংসনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করা হয়। এরপর সংসদ সদস্যদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়ে যায়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর, তবে উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকতে থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ পরপর দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন