০৪:১৬ পি.এম
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাব করেছেন আগামী ৫ বছরের জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর। ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত ৫ অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে সব পর্যায়ের ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আয়োজিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাবটি তুলে ধরেন।
সংসদে রাজস্ব সংক্রান্ত পরিকল্পনার সময় তিনি বলেছেন, বাজেটের আকার ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, যেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৮৬ শতাংশ রাজস্ব আহরণ করে। বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতার মধ্যেও আমাদের রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রাজস্ব আহরণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসার ক্ষেত্র বৃদ্ধি, দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ।
আরও পড়ুন: ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে চাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যমেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। এটি অর্জনের জন্য ন্যায্য, প্রযুক্তিনির্ভর ও পূর্বানুমানযোগ্য রাজস্ব কাঠামো প্রয়োজন, যা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সহযোগিতা করবে এবং বিনিয়োগ-উৎপাদন-কর্মসংস্থান-ভোগ-কর চক্রকে আরও গতিশীল করবে।
এরপর অর্থমন্ত্রী মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি বিবেচনায় আগামী ৫ বছরের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমার প্রস্তাব করেন।
২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমার পরিমাণ বিদ্যমান ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে এই করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকার প্রস্তাব দেন। পরিশেষে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা দাঁড়াবে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অর্থমন্ত্রী বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্য আলাদা সুবিধার প্রস্তাব রেখেছেন। অনুযায়ী, নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের সিনিয়র সিটিজেনরা ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা আয় পর্যন্ত করমুক্ত থাকবেন। ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তাদের করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা হবে ও ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা করমুক্ত আয়সীমা হবে।
আরও পড়ুন: এনসিপি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না: আখতার হোসেন
এছাড়া, তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা এবং প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য আরও বেশি করমুক্ত আয়সীমার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা আয় পর্যন্ত এই শ্রেণীর জন্য কর দিতে হবে না। ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তাদের করমুক্ত আয়সীমা হবে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হবে।
অর্থমন্ত্রী গেজেট করা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেট কৃত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা কর মুক্ত আয়সীমার প্রস্তাব দেন। ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তাদের জন্য সুবিধা ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা হবে। ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তাদের করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ হবে।
এদিকে, প্রতিবন্দী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবক প্রতি প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত করমুক্ত আয়সীমা পাবেন।
বর্তমানে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হিসেবে ধরা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় বাজেট। মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি হতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আপিল শুনানি ১৭ নভেম্বর
এই বিশাল বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।
বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন