১১:৪৮ পি.এম
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের কারণে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের ফলস্বরূপ ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সোয়া ৯টা থেকে রাজশাহীর সব রুটে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়।
এর আগে, সন্ধ্যায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ডিসি (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বাস শ্রমিকদের। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল নির্বাচন কমিটিতে থাকবেন না। উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর শ্রমিকেরা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন। তবে নির্বাচনকালীন আহ্বায়ক কমিটিতে ‘পাখি গ্রুপ’ ও ‘মোমিন গ্রুপ’ থেকে মোট আটজন সদস্য থাকবেন, চারজন করে।
আরও পড়ুন: দিরাই থানা রোডের বর্তমান অবস্থা বেশ ভালো, সামান্য যানজটেই মানুষের ভিড়
বাস শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যরা বেশ কিছু মাস ধরে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকেরা দুটো ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। নির্বাচন দাবিকারী শ্রমিকদের ওপর ২৩ এপ্রিল হামলার ঘটনাও ঘটে।
অভিযোগ করা হয়েছে, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি এবং তার অনুসারীরা সেদিন বাস টার্মিনাল এলাকায় বোমাবাজি করেন।
পরে, এই রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি করে ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণা করে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন। সাধারণ শ্রমিকেরা ওই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে এবং গত মে মাসে কয়েক দফা ধর্মঘট করেন। তখন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হস্তক্ষেপ করে ঈদের পর নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।
তবে নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম শ্রমিকদের দাবি নাকচ করে বলেন, ‘আমি নিজে নির্বাচনী কমিটি করার প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু শ্রমিকেরা সেই প্রস্তাব না মেনে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন, যা তারা করার অধিকার রাখেন না। তার পরেও বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
আরও পড়ুন: দুমকিতে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চান বিএনপি নেতা
খোঁজ নেওয়ার পর জানা গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ৮টা থেকে রাজশাহী থেকে আন্তজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকেরা। তবে যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ওই দিন রাতেই দূরপাল্লার কিছু বাস ছেড়ে যেতে দেওয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে সব রুটের বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, নির্বাচন আয়োজনের জন্য সোমবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সেই সভায় শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখির অনুগামী নজরুল ইসলাম হেলালও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিরোধী পক্ষের শ্রমিক নেতারা জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেন, সংগঠনের সাধারণ সভা ডেকে যাতে নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়।
কিন্তু জেলা প্রশাসক জানান, এই মুহূর্তে সাধারণ সভা করা সম্ভব নয়। এরপর তিনি নজরুল ইসলাম হেলাল এবং পুলিশ-প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেন। হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিকেরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের শ্রমিক নেতাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ঘটে এবং হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিকেরা ডিসির সামনেই বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। এরপর রাত থেকেই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে সোমবার রাতে ডিসির কার্যালয় থেকে দুই পক্ষের নেতারা শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় ফিরলে উত্তেজনা দেখা দেয়। বরাবর কিছু শ্রমিক নজরুল ইসলাম হেলালের ব্যক্তিগত চেম্বার ভাঙচুর করে। চেম্বারে লুটপাট চালানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে নজরুল ইসলাম হেলাল দ্বারা।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় কচাঁ নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ, প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিক নেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, ‘ডিসি স্যার একটি পক্ষের অবস্থান নিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমরা সাধারণ সভা করে নির্বাচনী কমিটি করার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি নজরুল ইসলাম হেলালকে কমিটিতে রেখে দিতে চান। হেলাল থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই সাধারণ শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাস বন্ধ করে দিয়েছিলেন।’
অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘মিটিংয়ে কথা-কাটাকাটি হতেই পারে। কিন্তু সেই কারণে বাস বন্ধ করে দেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত চেম্বারে হামলা চালানো কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। তারা বাস বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও আমরা মালিকপক্ষ থেকে বাস চালু রাখার পক্ষে ছিলাম।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন