মোঃ হুমায়ুন কবির,গৌরীপুর প্রতবনিধি
০৬:১০ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটনার জন্য ইরান যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিকে দায়ী করেছে। ইরান বলছে, এভাবে কুয়েতের কাছ থেকে উত্থাপিত অভিযোগটি, যেটি 'ইরানি ড্রোন হামলা' দাবি করেছে, সেটিকে সরাসরি তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা থেকে জানা যায়, ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেন মহবি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই দাবি করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি জনিত কারণে হয়েছে, কোনোভাবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে নয়।
যদিও ইরানের এই দাবি কুয়েতের সরকারী কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিবৃতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। কুয়েতের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পূর্বে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, বুধবার একটি ইরানি ড্রোন বিমানবন্দরে সরাসরি আঘাত করছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় বিমানবন্দরের ভেতর ও বাইরের দুটি সন্ত্রাসী আক্রমণের মুহূর্ত এবং এর ফলে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যও উপস্থিত রয়েছে।
কুয়েতি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ড্রোন হামলার ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে।
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙনের মুখে, দলপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের একের পর এক পদক্ষেপের কারণে কার্যত বেসামাল হয়ে পড়েছে দলটি।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মমতা-হীন ‘আসল তৃণমূল’ গঠনের বিষয়টি। মহারাষ্ট্র মডেলে জোট বেঁধে বিদ্রোহী শিবির নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছে বলে জানা যাচ্ছে।
মমতার সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে ৫৮ জনের বেশি বিদ্রোহী বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও জমা দেওয়া হয়েছে।
অঙ্কের হিসাবে বিরোধী দলনেতা হতে প্রয়োজন ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন। সেখানে ঋতব্রতের পক্ষে রয়েছেন ৫৯ জনের বেশি তৃণমূল বিধায়ক। তাই তাদের পক্ষ থেকে তাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। তবে চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলীয় নেত্রী হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোটে পরাজয়ের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। পরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিধায়কদের স্বাক্ষরিত একটি প্রস্তাব বিধানসভায় জমা দেন, যেখানে তাকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল।
তবে সেই চিঠিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে সিআইডি তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশও দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আনেন তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এরপরই দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়।
এরপরই বিদ্রোহী শিবিরের তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। ৩১ মে কালীঘাটে মমতার বাসভবনে ডাকা বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১৭ জন। ফলে বৈঠকটি ভেস্তে যায়।
অন্যদিকে একই দিনে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক কলকাতার একটি হোটেলে প্রায় ৫০ জন বিদ্রোহী বিধায়ককে নিয়ে বৈঠক করেন বলে জানা যায়। তখনই দল ভাঙনের স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে বিদ্রোহী বিধায়কেরা সরাসরি স্পিকারের কাছে গিয়ে নিজেদের স্বাক্ষরিত চিঠি জমা দেন এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা করেন। জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহাকে ডেপুটি লিডার এবং আখরুজ্জামানকে মুখ্য সচেতক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে। দলত্যাগবিরোধী আইন এড়াতে বিদ্রোহী শিবিরের অন্তত ৫৩ জন বিধায়কের প্রয়োজন ছিল। বর্তমানে তাদের সংখ্যা সেই সীমা ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ১০ বছরের এক মক্তব শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায়, কোনো মোটরসাইকেল বা অন্য ধরনের যানবাহন ছাড়াই পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় তার ১২ বছরের বড় বোন গুরুতর আহত হয়েছে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার ভাদুড়িয়া বাজার এলাকায় ঘটেছে।
নিহত আল আমিন ওই এলাকার শামীম হোসেনের ছেলে। আহত বড় বোন সুমনাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে আল আমিন ও তার বড় বোন সুমনা ভাদুড়িয়া বাজার এলাকার একটি মসজিদে (মক্তবে) আরবি পড়ার জন্য যাচ্ছিল। যখন তারা ভাদুড়িয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে, তখন একটি দিনাজপুরগামী সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাদের দুজনকে ধাক্কা দেয়। ফলে তারা সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে এবং ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই আল আমিনের মৃত্যু ঘটে। এ সময় তার বোন সুমনা মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় পড়ে যায়।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজিত হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে সেই ঘাতক ট্রাকের চালক ও সহকারী (হেলপার) আটক করে এবং তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। আহত সুমনা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ইরানি জনগণকে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক দীর্ঘ লিখিত বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে খামেনি বলেন, শত্রুদের এই বৈরী নীলনকশা মোকাবিলায় সমাজের সব স্তরের মানুষকে অবিচলতা, স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, পারস্পরিক বিশ্বাস ও ঐক্য বজায় রাখতে হবে। একইসঙ্গে শত্রুর প্রচারণায় কান না দিয়ে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেন তিনি। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে দেশ শাসন করা ইরানি শাসনব্যবস্থা এই যুদ্ধকে অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখছে।
তবে এই চরম সংকটের মাঝেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে সশরীরে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না, যা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার পরিবর্তে ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতার নাম দিয়ে তৈরি বিবৃতিগুলো জাতীয় টেলিভিশনে পড়ে শোনানো হচ্ছে অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে।
অবশ্য খামেনির এই অনুপস্থিতির মধ্যেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহের শুরুতে দাবি করেছেন, খামেনি জীবিত আছেন এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা বাড়ছে। মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটিতে রুবিও বলেন, খামেনি কোনো না কোনো স্তরে আগের চেয়ে বেশি যুক্ত হচ্ছেন, এমন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে যুদ্ধকৌশল নির্ধারণে পর্দার আড়ালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন মোজতবা খামেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ