১২:৩২ এম
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ গ্রহণ ও নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করেছেন হাসিব নামে এক অভিযোগকারী।
দুদকে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রধান সহকারী পদে দায়িত্ব পালন করলেও মো. জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব নিয়ন্ত্রণ করছেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি হিসাব-সংক্রান্ত বই নিজের কাছে রেখে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করছেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাসপাতালের এক স্বাস্থ্য সহকারীর কাছ থেকে জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থ নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত কাজ না করে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। একইসঙ্গে উচ্চতর পদে পদোন্নতি, সার্ভিস বইয়ের পাতা ছিঁড়ে ফেলা এবং অন্যান্য বিষয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তিনি করেছেন।
আরও পড়ুন: ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে পরিচিত কাজী জাহিদ অভি? পূজামণ্ডপে অনুদান, ক্যানসার আক্রান্ত হাফেজকে সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন
হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং পুরোনো আসবাবপত্র বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এছাড়া, কর্মচারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য টাকা নেওয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ এসেছে।
এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর বরাত দিয়ে আবেদনে বলা হয়েছে, পেনশনের টাকা পেতে প্রথমে তার কাছে ৪ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ২ লাখ টাকায় বিষয়টি সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই অভিযোগে।
অতিরিক্তভাবে, স্বাস্থ্য সহকারীদের দুর্গম টিকা কেন্দ্রের ভাতা, ফ্রি মোবাইল মেডিকেল ক্যাম্প, ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন ও জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে। নার্সিং কর্মকর্তাদের বেতন বিল, সিলেকশন গ্রেডের বকেয়া বিল, জিপিএফ, শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা ও অফিসের বিভিন্ন কাজ করার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
দুদকে দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত সরকারি আউটডোর টিকিটের মূল্য ৩ টাকা হলেও সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৫ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতার পরও পাকা হয়নি সড়ক, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মো. জাহাঙ্গীর আলমের ভাই হাফিজ একই হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চাকরি করেন এবং তারা পারস্পরিক যোগসাজশে রোগী ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট, মৃত্যুসনদসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অবৈধ অর্থ আদায় করছেন।
চরফ্যাশন হাসপাতালের প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে দুদকে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমার সম্মান নষ্ট করার জন্য দরখাস্তে উল্টাপাল্টা লিখেছে।”
দুর্নীতি দমন কমিশনের বরিশালের সহকারী পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান বলেছেন, “আমরা কমিশনের অনুসন্ধানের অনুমতি চাইব। অনুমতি পেলেই আমরা তদন্ত শুরু করব।”
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা পাহারায় বিএনপির নেতাকর্মীরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন