ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান, গ্রেফতার ৫৮


রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান, গ্রেফতার ৫৮

রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন থানার এলাকায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫৮ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ অভিযান চালিয়ে। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানিয়েছেন, শনিবার (১৯ জুলাই) তারিখে তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকার মধ্যে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ৫৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানা থেকে আটজন, শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ১০ জন, মোহাম্মদপুর থানা থেকে ১৫ জন, আদাবর থানায় ১১ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আওতায় পাঁচজন এবং হাতিরঝিল থানা থেকে নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া ৫৮ জনের নামের মধ্যে রয়েছে- মো. রফিকুল ইসলাম (৩২), মো. রকি (২৫), মো. রবিউল ইসলাম (২২), মো. কামাল বিশ্বাস (৩০), মো. সজীব বিশ্বাস (২৪), মো. সাবিকুর রহমান যা সোহান খান নামে পরিচিত (৩০), মো. রুবেল যা হাড্ডিদ রুবেল নামেও পরিচিত (৩৩), মো. শাহাদাৎ হোসেন সোহান (৩৮), মো. জয়নাল (৪০), মো. শাহিন মিয়া (৩৫), মো. রবিউল আউয়াল যা রবি নামে পরিচিত (২৬), মো. সুজন সিকদার (২৮), মো. সাফিদ (২৬), মো. শামীম (২৯), মো. মিলন (২৯), নিজাম উদ্দিন যা সেন্টু নামেও পরিচিত (৪০), মো. হাফিজুল ইসলাম (২৬), মো. রায়হান ইসলাম (১৮), মো. শরিফ (২২), দিলীপ চন্দ্র দাস (৩০), মো. মোরশেদ (৩০), মিস্টার যা পাগলা নামে পরিচিত (৫০), মো. হানিফ (২৩), রাজীব (২৮), মো. সাদ্দাম খান মীম (৩৩), রিফাত সুলতানা অনি (৩৩), মো. মিঠু মিয়া (৪২), মো. ইসলাম (৩৫), মো. শফিকুল ইসলাম (৩৮), মো. রমজান আলী (২৯), মো. জাহিদুল ইসলাম (২৫), মো. সোহেল রানা (৬৫), মো. রুমন মিয়া (৩৬), বশির মোল্লা যা মো. ওয়াসি আলম নামে পরিচিত (৫৫), মো. কোরবান আলী, ইকরাম যা তোতা মিয়া নামে পরিচিত, মো. সুজন হোসেন মৃধা, মো. টিপু সুলতান, রাসেল বাবু (৩৮), মো. আলমগীর (৩০), আল মামুন (৩৫), আসিফ আজিম (৩৮), মো. হসিব মিয়া (২৭), মো. সুমন (২৩), মো. হাসান যা চম্পা নামে পরিচিত (৩০), নূরআলম (৩৮), মো. সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. ইয়াছিন (২৫), মো. শাকিল (২৫), মো. নয়ন মাতুব্বর (২৮), মো. আশিক হোসেন (২৫), মো. শহিদুল ইসলাম (৪৫), মো. সাব্বির হোসেন (১৮), মো. ইসমাইল হোসেন (৩২), মো. রাকিব গাজী (১৮), মো. সাব্বির হোসেন (২৫), মো. মিজানুর রহমান রাকিব (১৮) এবং মো. লুৎফর রহমান। আইনানুগ প্রক্রিয়ার পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিজেপি অফিসের সামনে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার হুমকি পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কের

ডিএমপি জানিয়েছে, নিয়মিত অপরাধ দমন কার্যক্রমের আওতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুর আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে গেলেন ডাকাতি মামলার আসামি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৯ এম


গাজীপুর আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে গেলেন ডাকাতি মামলার আসামি

গাজীপুরে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ডাকাতি মামলার এক আসামি পালিয়ে গেছে। রবিবার রাতের সময় গাজীপুর সদর মেট্রো থানা পুলিশের হাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে সোমবার দুপুরের দিকে ওই আসামিকে গারদখানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় কৌশলে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যায়।

পালিয়ে যাওয়া আসামির নাম সম্রাট (২৭)। তিনি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার তাত্তাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে গাজীপুরসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করার জন্য বিশেষ অভিযান যাতে অব্যাহত রয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রবিবার রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুর ২টার দিকে আদালতে হাজির করার জন্য তাকে গারদখানা থেকে নেওয়া হয়। সেই সময় কৌশলে হাতকড়া থেকে হাত বের করে তিনি দ্রুত পালিয়ে যান।

ওসি আমিনুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আসামি সম্রাটকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতিকালে সে কৌশলে হাতকড়া থেকে হাত বের করে পালিয়ে যায়। তার হাত চিকন হওয়ায় তিনি এই সুযোগটি কাজে লাগান। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেছেন, ‘ডাকাতি মামলার এক আসামি কৌশলে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি, খুব দ্রুত তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ব্যাংক কর্মকর্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ এম


বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ব্যাংক কর্মকর্তার

ফরিদপুরের মধুখালীতে এক শিল্পপতির বাড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে মো. রহমত আলী (৪৩) নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃতদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উদ্ধার করে মৃত্যুর কারণ জানার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ। সেখানে ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়ে যাওয়া হয়।

মারা যাওয়া রহমত আলী নাসিরনগর উপজেলার খাগালিয়া গ্রামের বাসিন্দা দেওয়ান আলীর ছেলে। তিনি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নরসিংদী সদর উপজেলার একটি শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম কাকন বেগম। তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে, যারা ষষ্ঠ ও প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে।

স্বজনদের বরাতে জানা যায়, রহমত আলী মধুখালী উপজেলার শিল্পপতি লোকমান হোসেনের বাড়িতে পরিচিত কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে গত রবিবার ঢাকা থেকে বেড়াতে যান। দিনভর ঘোরাঘুরি করার পর রাতে খাবারের পর তাঁরা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বিশ্রামের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রহমত। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যুর ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

রহমত আলীর বড় ভাই মরম মিয়া জানান, তিনি নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহানের নিমন্ত্রণে ফরিদপুরে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নাসিরনগর সরকারি কলেজের প্রভাষক মাইনউদ্দিন শান্ত, সাংবাদিক নেহারেন্দু চক্রবর্তী এবং কলিকুন্ডা গ্রামের হোসাইন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘কীভাবে কী হয়েছে জানি না।’ রহমত আলীদের সঙ্গে ছিলেন সাংবাদিক নেহারেন্দু চক্রবর্তী। ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ফরিদপুরে পান্না গ্রুপের মালিক লোকমান হোসেনের ফ্যাক্টরি ও বাংলোবাড়িতে সাজ্জাদ মোর্শেদের নৈমন্ত্রণে তাঁরা গিয়েছিলেন। রহমতও সেখানে গিয়েছিলেন।

নেহারেন্দু বলেন, ‘রাতে আমরা একসঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সন্ধ্যায় গানের আয়োজনে রহমত অনেক নাচানাচি করেছিল। এর পর উপরে থেকে নেমে দেখি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’

পান্না গ্রুপের মালিক লোকমান হোসেন দাবি করেন, মোট আটজন গতকাল বিকেলে তাঁর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তার মধ্যে সোহান নামের একজন ব্যবসায়ীর পরিচিত। বাকি সাতজন সোহানের বন্ধু। পরিচয়ের সূত্রে সোহান তাদের নিয়ে আলতু খান জুটমিলসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে এসেছিলেন। রাতের কোনো এক সময়ে রহমত আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্রেতা জানান, সবার সঙ্গে রহমত মদ পান করেছিলেন। রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তার বুকে ব্যথা শুরু হয়। তখন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

উপজেলা কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক জ্যোতি প্রকাশ জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই রহমত আলী নামের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। তিনি কিছু খেয়ে অসুস্থ ছিলেন কি না, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া জানা সম্ভব নয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রহমত আলী অসুস্থ হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান।

ঘটনা সম্পর্কে জানার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রহমত আলীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকদেব রায় বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুরতহাল করার সময় মরদেহের মুখ থেকে কোনো গন্ধ পাওয়া যায়নি। তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পল্লবী থানার ওসির বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ, আটকের শিকার ভুক্তভোগীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ এম


পল্লবী থানার ওসির বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ, আটকের শিকার ভুক্তভোগীরা

ডিএমপির পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসিরের ফাইল ছবি সংযুক্ত।

আহসান হাবিব, যিনি প্রতারণার স্বভাবে অভ্যস্ত। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে খাদ্যপণ্য সাপ্লাই ব্যবসার মাধ্যমে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করে লাপাত্তা হয়ে যান। নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে কাউর কাছ থেকে এক কোটি টাকা নিতে পারলেই কেল্লাফতে। এরপর ৩০ লাখ টাকা খরচ করে পুলিশ ও আইনজীবীদের পেছনোশ। এতে উদ্দেশ্য হলো পাওনাদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ ও আইনজীবীদের সহায়তায় হয়রানি করা।

এর ফলে, গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটকে রাখা হয়। যাতে নির্বিঘ্নে টাকা আত্মসাৎ করা যায়। প্রথমে পুলিশের সঙ্গে সমঝোতা করে সেই মামলায় ভুক্তভোগীদেরই গ্রেপ্তার করানো হয়। এরপর শুরু হয় টানা হয়রানি-পর্ব।

এমন ভয়ংকর প্রতারক আহসান হাবিব। পল্লবী থানা পুলিশ শনিবার বিকেল বেলায় তার পরিকল্পনার পথ বেছে নেয়।

দৈনিক যুগান্তরের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, এই প্রতারক কয়েকজন পাওনাদারকে টাকা পরিশোধের কথা বলে শনিবার বিকেল বেলায় ডেকে নিয়ে যান রাজধানীর ইসিবি চত্বরে। এরপর যথারীতি পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজানো অপহরণ মামলায় পল্লবী থানা পুলিশ ভুক্তভোগীদের কয়েকজনকে আটক করতে থাকে।

তাৎক্ষণিকভাবে পল্লবী থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে, তাও সত্ত্বেও ভুক্তভোগীদের থানায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের ছাড়া হয়নি।

ভুক্তভোগীদের আটককারীদের বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট এসআই সাইফুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ডিএমপির পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির বলেন, 'ভাই, আমি বুঝতে পারছি ওনারা (আটক তিনজন) প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ওনাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাটিও সঠিক নয়। আমি মামলার ফাইনাল রিপোর্ট (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) দেব। তবে যেহেতু মামলা হয়েছে, তাই আমি আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখাব।'

মিথ্যা মামলা হলেই কোনো ধরনের অনুসন্ধান ছাড়া গ্রেপ্তার করা যায় কিনা, জানতে চাইলে ওসি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার বলেন, 'আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। বিস্তারিত জানতে আমি পল্লবী থানায় যাচ্ছি।'

সূত্র জানায়, বেলা ২টার দিকে আট ভুক্তভোগীর মধ্যে রোমেল নামে এক ব্যক্তি আহসান হাবিবের স্ত্রী ফোনে বলেন, আপনাদের টাকাটা ধীরে ধীরে দিয়ে দেব। আজ ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি অংশ ফেরত দেওয়ার কথা জানান এবং যে আপাকে টাকা দেওয়ার পরিবর্তে জমি লিখে দিয়েছি, সেটাও বিক্রি করে দেব। আপনাদের ইসিবি চত্বরে ৩টার সময় আসতে হবে। এই কথায় বিশ্বাস করে রুমেল তার স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট আরো একজন ভুক্তভোগীকে বিষয়টি জানান। এরপর তারা তিনজন সেখানে যান। কিন্তু যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ইসিবি চত্বরে আহসান হাবিব স্ত্রীসহ আসার কথা বললেও তখনও আসেননি। বৃষ্টির জন্য পথে আটকা পড়েছেন বলে সময়ক্ষেপণ করেন। এক পর্যায়ে তাদের সামনে হাজির হয় পল্লবী থানা পুলিশের একটি টিম। এসআই সাইফুলের নেতৃত্বে পুলিশের টিম তাদের ওয়ারেন্ট আছে বলে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

সূত্র জানায়, এই আটক নাটকের আগে আসামি আহসান হাবিবকে নিয়ে থানার ভিতরে একাধিক বৈঠকও করেন পল্লবী থানার ওসি। পল্লবী থানায় মাত্র দুই মাস হলো তার পোস্টিং হয়েছে। আর এর মধ্যেই তিনি নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আটকের সময় ভুক্তভোগীরা জানান, তারা আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলাও করেছেন। এর মধ্যে একটিতে আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে চার্জশিটও হয়েছে।

এদিকে আটকের পর ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, প্রতারক আহসান হাবিব তাদের বিরুদ্ধে ১৫ জুলাই পল্লবী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেছেন। কিন্তু ভিক্তভোগীদের বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই।

সূত্র বলছে, প্রতারক আহসান হাবিব সম্প্রতি ৮ ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে ডিএমপির গুলশান থানায় (এফআইআর নং-২, তারিখ: ৬ এপ্রিল, ২০২৩; জিআর নং-৮৩), চট্টগ্রামের পটিয়া যুগ্ম দায়রা জজ আদালত (মামলা নং-৫৪৩৩৯, সিআর নং-৪০৯/২২, তারিখ: ৩ ডিসেম্বর ২০২৪), রাজশাহী মহানগর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ (সিআর নং-১০৪/২৫, তারিখ: ১ ডিসেম্বর, ২০২৫), ঢাকার বিজ্ঞ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৬ (সিআর নং-১৫১/২১, তারিখ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫) এবং সাভারের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-০২ (সিআর নং-১১৮৬/২৫, তারিখ: ২ মার্চ ২০২৬)-সহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে। প্রতারক আহসান হাবিবের বাবার নাম হাতেম আলী। বাড়ি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাইকরহাটি পশ্চিমপাড়া গ্রাম। এছাড়া তার বর্তমান ঠিকানা সাভারের রামনগর। তবে এই প্রতারক একাধিক ঠিকানা ব্যবহার করেন।

সূত্র জানায়, আত্মগোপনে থাকা এই আহসান হাবিবকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় এক সপ্তাহ আগে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ভুক্তভোগীরা ধরতে সক্ষম হন। থানায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পুলিশকে দেখানোর পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ না করে রহস্যজনক কারণে সালিশ করে। পুলিশের একজন এসআই প্রথমে প্রতারক আহসান হাবিবের সঙ্গে আলাদা কথা বলার নাম করে ১০ মিনিট আলাপ করেন। এরপর তিনি বেরিয়ে এসে বলেন, সাতদিনের মধ্যে আহসান পাওনাদারদের সব টাকা বুঝিয়ে দেবে। এভাবে আশ্বাস দিয়ে একজন ব্যক্তির জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী টাকা না দিয়ে গোপনে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে এভাবে হয়রানির পথ বেছে নেন। যার অন্যতম সহযোগী হচ্ছেন পুলিশের কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা। এছাড়া নৌবাহিনীর একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পেছন থেকে তাকে সহায়তা করছেন। যিনি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর উপদেষ্টা হিসাবে আহসান হাবিবের কথিত সাপ্লাই ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। মূলত বেশিরভাগ ভুক্তভোগী এই কর্মকর্তাকে দেখে অর্থ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, মামলা দুই ধরনের হয়, একটি কগনিজেবল (আমলযোগ্য) এবং আরেকটি নন-কগনিজেবল (আমল অযোগ্য)। কগনিজেবল অফেন্স হলে পুলিশের দায়িত্ব এফআইআর রেজিস্টার হওয়ার আগে তদন্ত করে দেখা ঘটনাটি সঠিক কিনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২১ জুলাই: দেশে স্বর্ণ ও রুপার সর্বশেষ দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ এম


২১ জুলাই: দেশে স্বর্ণ ও রুপার সর্বশেষ দাম

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমানো হয়েছে শেষ সমন্বয়ে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেশের বাজারে সর্বশেষ সমন্বয়কৃত দামেই মূল্যবান এই ধাতু বিক্রি করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এদিনে ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকায় কমানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমে গিয়েছে। এর ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। অপরদিকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ০৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত রয়েছে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তাছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে।

এর আগে, গত ১৩ জুলাই সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। এদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা, যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকে।

এই বছরের এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৯১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ৪৪ দফা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৪৬ দফা কমেছে, পাশাপাশি ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আগের বছর, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল আর ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বর্তমানে চলতি বছর ৫৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২৮ দফা বেড়ে গেছে; এবং বাকি ২৮ দফা কমে যায়। আর গত বছর, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%