ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পীরগাছায় স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে উপজেলা প্রশাসন


পীরগাছায় স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে উপজেলা প্রশাসন

রংপুরের পীরগাছায় নির্মাণাধীন উপজেলা স্টেডিয়াম প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ ও সড়ক অবরোধের ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন নির্মাণাধীন স্টেডিয়াম এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা, নির্মাণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

পরিদর্শনকালে ইউএনওর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জেমি, উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সানোয়ার মোর্শেদ, পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক এবং আমিনুল ইসলাম রাঙাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

স্থানীয় বাসিন্দারা ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন, স্টেডিয়াম নির্মাণকাজের জন্য নিম্নমানের ইট, ভিটি বালু, চিকন রড এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি যে, প্রকল্পের শুরু থেকেই নির্মাণকাজে নানা অনিয়ম চলছে।

অভিযোগকারীরা জানান, নির্মাণকাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করার সময় ঠিকাদারপক্ষের লোকদের সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পীরগাছা-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পের সিডিউল ও নির্মাণমান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এর আগে শুক্রবার স্থানীয়দের অভিযোগের পর উত্তেজনা সৃষ্টি হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ  বন্ধ করা হয়। তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র কাজ বন্ধ রাখলেই হবে না, একটি স্বাধীন কারিগরি কমিটির মাধ্যমে পুরো প্রকল্পের তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

প্রসঙ্গত, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পীরগাছা উপজেলা স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান। স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে যে, প্রকল্পের শুরু থেকেই নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের দাবিতে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ এম


নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের দাবিতে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এলে তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা উচিত বলেই মনে করেন তিনি। তবে, এ উদ্দেশ্যে তিনি বিদ্যমান আইন পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। শনিবার প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি আরও জানান, “আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অভিযোগ এনেছে। গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই এই মত পোষণ করেন।” মামদানি বলেন, “আমি আগেও বলেছি, নিউইয়র্ক সিটিতে যে আইন কার্যকর রয়েছে, আমি সেটিই অনুসরণ করব। একজন নগরপ্রধান হিসেবে আইনের শাসন মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি বিশ্বাস করি।” নিজে অবস্থান ব্যাখ্যা করে মামদানি বলেন, “নিউইয়র্কে আইন আমাকে যা করার অনুমতি দেবে, আমরা সেটাই করব। তবে এ উদ্দেশ্যে আমরা নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।” কোন আইন কী অনুমতি দেয়—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ বিষয়ে সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে “সক্রিয়ভাবে আলোচনা” চলছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে (এনওয়াইপিডি) নির্দেশ দেবেন। সেই তালিকায় নেতানিয়াহুর পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নামও ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আইসিসির এখতিয়ার নেই। দেশটির ফেডারেল আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে এ ধরনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে না। এছাড়া পৃথক একটি ফেডারেল আইনে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিদেশি কর্মকর্তাদের আটক বা তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার বিষয়েও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে জানে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০০ এম


‘আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে জানে’

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ২২: ০০

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মাঠের লড়াইয়ের সূচনার পূর্বে কথার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। স্পেনের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আয়মেরিক লাপোর্তে অভিযোগ করেন, আর্জেন্টিনা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের প্রতিপক্ষের ওপর শারীরিক চাপ সৃষ্টি করে এবং ‘গায়ে দাগ বসিয়ে’ দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে মাঠে খেলে।

আজ নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ম্যাচের আগে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাপোর্তে বলেন, ‘আর্জেন্টিনা এমন একটি দল, যারা প্রতিপক্ষের গায়ে দাগ বসিয়ে দিতে পছন্দ করে। ফুটবলে, বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টে, এমন বিষয়ের জন্য কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল ম্যাচের প্রসঙ্গও এখানে আসেন। ২-১ গোলে জেতা সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১৫টি ফাউল করেছিল। ম্যাচের শুরুতেই এনজো ফার্নান্দেসের শক্ত ট্যাকলের ফলে ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন মাটিতে পড়ে গেলেও রেফারি কোনো কার্ড দেখাননি। শেষে লিওনেল মেসির চ্যালেঞ্জের পর স্পেন্স পড়ে গেলেও আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল বহাল রাখেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।

লাপোর্তের মতে, ‘এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা রেফারির দায়িত্ব। একজন বা দুজন খেলোয়াড়কে এইভাবে খেলতে দিলে ম্যাচ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।’ তবে তিনি বৈধ শারীরিক ফুটবলের বিরুদ্ধে তার কোনো আপত্তি নেই জানান। তিনি বলেন, ‘নিয়মের মধ্যে থেকে শারীরিক লড়াই হলে সমস্যা নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে, বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে, কিছু ঘটনা উপেক্ষা করা হয়েছে, যা আমাকে অবাক করেছে।’

অন্যদিকে, স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তিনি আর্জেন্টিনাকে সম্মান জানিয়ে বলেন, ‘তারা আমেরিকা (কোপা) ও বিশ্বের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। তাদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ফাইনালে দুই দলের প্রতিভা ও ভালো ফুটবলই প্রাধান্য পাবে।’ অধিনায়ক রদ্রিও সতীর্থদের উসকানিতে পা না দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন, ‘ম্যাচে যা-ই ঘটুক, আমাদের নিজেদের খেলার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।’

ফাইনালের আগে লাপোর্তের মন্তব্য দুটি দলের দ্বৈরথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন প্রতীক্ষা, উত্তেজনার এই লড়াই মাঠে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণে বহুমুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান ইশার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ এম


জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণে বহুমুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান ইশার

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা শুধুমাত্র স্মরণে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে প্রতিফলিত হওয়া উচিত, সে বিষয়ে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ (ইশা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা আরও জানিয়েছেন, জুলাই কোনো ব্যক্তি, দল বা একক পরিকল্পনার ফল নয়; বরং এটি ভিন্ন মত, ভিন্ন চিন্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের অর্জন। তাই এই অর্জনকে টিকিয়ে রাখতে বহুমাত্রিক ও বহুরৈখিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। শনিবার (১৮ জুলাই) ‘জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মাঠে ইসলামি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল ফটো প্রদর্শনী, গণ-বিতর্ক, ছাত্রনেতাদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা এবং জাতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে প্যানেল আলোচনা। দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাইফ মুহাম্মাদ আলাউদ্দিন। সকাল ১০টা থেকে টিএসসি মাঠে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নিয়ে একটি দিনব্যাপী ফটো এক্সিবিশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিচারণ-ভিত্তিক তথ্যচিত্র স্থান পায়। শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং আন্দোলনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা নেন। দুপুর ২টায় গণ-বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কের বিষয় ছিল “এই সংসদ বিশ্বাস করে, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা কেবল স্মরণে নয়, নীতিনির্ধারণেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।” এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শকে রাষ্ট্রীয় নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রতিফলিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় “জুলাই পরবর্তী ছাত্র রাজনীতির প্যাটার্ন: মত ও মতান্তর” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে জুলাই-পরবর্তী ছাত্র রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১ নম্বর সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান অনিক, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক, ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাদমান আব্দুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের। বাদ আসর অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: অর্জন-অপূর্ণতা ও রাজনৈতিক বিভাজন” শীর্ষক প্যানেল আলোচনা। এর আলোচক হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, লেখক, গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক শায়খ মুসা আল হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সেক্রেটারি মাহাদী হাসান। প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে একমুখী নয়, বরং বহুমাত্রিক ও বহুরৈখিক উদ্যোগ প্রয়োজন। বক্তারা বর্ণনা করেন, জুলাই কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক শক্তির অর্জন নয়; এটি বিভিন্ন মত, আদর্শ ও চিন্তার মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফসল। সেই কারণে এই অর্জনকে সংরক্ষণ এবং এর চেতনাকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও সবার। বক্তারা আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “জুলাইয়ের প্রধান অর্জন হলো ভয়মুক্ত পরিবেশ অর্জন। আর কষ্টের বিষয় হলো, রেফারেন্ডাম বাস্তবায়িত না হওয়ার একমাত্র দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে জুলাই রেফারেন্ডাম।” তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ যে সাহস ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ অর্জন করেছে, সেটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা হিসেবে আলোচিত রেফারেন্ডাম বাস্তবায়িত না হলে সেটি একটি বড় অপূর্ণতা হিসেবেই থেকে যাবে। লেখক, গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক শায়খ মুসা আল হাফিজ বলেন, “জুলাইকে থামতে দেওয়া যাবে না; বরং বহুপ্রচেষ্টার মাধ্যমে জুলাইকে নিরন্তর জারি রাখতে হবে।” তিনি বলেন, जुलाईয়ের চেতনা কেবল একটি সময়ের আন্দোলন হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি যেন সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতির প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়, সে জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে আয়োজকরা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে মতভেদ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। июля‘র অর্জন সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর চেতনা পৌঁছে দিতে ধারাবাহিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, মালয়েশিয়া থেকে ছড়ানো হলো ভিডিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৫ এম


জামালপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, মালয়েশিয়া থেকে ছড়ানো হলো ভিডিও

জামালপুরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা ঘটে শনিবার ভোরে যখন একদল দুর্বৃত্ত এই অগ্নিকাণ্ড ঘটায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনাও সৃষ্টি হয়।

দুপুরের সময়, একটি ফেসবুক আইডি থেকে যা আল-সাদিক হৃদয় নামে পরিচিত, ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক ব্যক্তি একটি জ্বলন্ত কাপড় স্মৃতিস্তম্ভের দিকে নিক্ষেপ করে। এর পর স্মৃতিস্তম্ভের পার্শ্বে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আল-সাদিক হৃদয় স্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, জামালপুরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচিতে তাঁকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যেত।

ঘটনার পর সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের কাছাকাছি পোড়া কাপড় ও ছাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবে স্মৃতিস্তম্ভের মূল কাঠামোতে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জামালপুর জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইহসান এ বিষয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি জানান, তারা আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ধরনের ঘটনার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও ভোরে দুর্বৃত্তরা এসে স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%