মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০১ পি.এম
মোটরসাইকেলসহ গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য একটি বড় সুখবর প্রদান করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
সরকার আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোটরযানের যাবতীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিআরটিএ সামাজিক মাধ্যমে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জরিমানা ছাড়া মূল কর ও ফি জমা দিয়ে সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র যেমন ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করা সম্ভব হবে।
বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদেরকে শেষবারের মতো সুযোগ দিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সব কাগজপত্র হালনাগাদ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিআরটিএ জানিয়েছে, মোটরযান বিক্রয়ের পর মালিকানা পরিবর্তন না করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো মোটরযান বিক্রয় করার পর তার মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক।
তবে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে, অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি সড়ক বা মহাসড়কে ব্যবহার করছেন। এর ফলে বিক্রেতাদের বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, মালিকানা পরিবর্তন না করার কারণে পুরনো মালিককেই ওই মোটরযানের জন্য নির্ধারিত অগ্রিম আয়কর, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ১৫০% অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশ সারচার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। যা বিক্রেতার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে বিআরটিএ জানিয়েছে, বর্তমানে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত করা হয়েছে। এখন অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার উপস্থিতিতে হ্যান্ড-হেল্ড ডিভাইসের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রেতা বা নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক প্রদান করতে পারছেন।
এ অবস্থায়, সংশ্লিষ্ট সব মোটরযান মালিক ও ক্রেতাদের দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ। অন্যথায় নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কঠোরভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে মোটরযান চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তন শুরু করেছে বিআরটিএ।
বিআরটিএ জানায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা-১১ (১) অনুযায়ী প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। আইন অমান্য বা বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক পয়েন্ট কর্তন করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন চানখারপুল থেকে বকশীবাজার পর্যন্ত এলাকায় একটি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অভিযানে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স যাচাইসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অভিযানের অংশ হিসেবে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট অপসারণ করা হয়। ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, জনসাধারণের চলাচলের পথ নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে এবং নগরের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় স্থানে মশক নিধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এছাড়া, সড়ক, ফুটপাত ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। নগরবাসীকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স যাচাই করা হয়। বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা এবং লাইসেন্সের শর্ত অমান্য করে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক এ সময় বলেন, অভিযানে প্রথমে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে সময় দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী পর্যায়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, পুরো সড়ক পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুটপাতে ব্যবসা করা ব্যক্তিদের সরে যেতে হবে এবং যাদের দোকানের ট্রেড লাইসেন্স নেই, তাদের লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স নবায়নের প্রয়োজন হলে তা-ও করতে হবে।
দখলমুক্ত ফুটপাত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মশকমুক্ত নগর এবং নিয়মতান্ত্রিক ব্যবসা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং সিটি কর্পোরেশনের বিধিবিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উচ্ছেদ, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ট্রেড লাইসেন্স যাচাই- এই সমন্বিত কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার চোট যেন তাকে কিছুতেই ছাড়ছে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসার পথে আবারও এক ধাক্কা খেলেন এই তারকা অলরাউন্ডার।
বেঙ্গালুরুতে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্সে হার্দিকের রিহ্যাব চলছিল। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতীয় দলে তার ফিরে আসার সম্ভাবনা ছিল, এমনটাই জানা গিয়েছিল।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে পায়ে অস্বস্তি দেখা দেওয়ায়, আফগানদের বিরুদ্ধে তার খেলার সম্ভাবনা কার্যত শূন্য হয়ে গেছে।
এখন আসন্ন এশিয়ান গেমসেও তার ফেরার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেঙ্গালুরে রিহ্যাব চলাকালীন ধাপে ধাপে একের পর এক ফিটনেস টেস্টে পাস করছিলেন হার্দিক। তবে এই শেষ মুহূর্তের সমস্যার কারণে তার কামব্যাক পিছিয়ে গেছে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে শুরু হবে
এই সপ্তাহেই নির্বাচকরা স্কোয়াড বেছে নিতে পারেন। তার আগেই হার্দিকের চোট একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হার্দিক পান্ডিয়া পুরোপুরি বোলিং করছিলেন এবং কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি পায়ে অস্বস্তির কারণে তাকে বোলিংয়ে বিরতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিগগিরই হার্দিক আবার বোলিং শুরু করবেন। তবে আফগানিস্তান সিরিজ শুরুর আগে সময় কম থাকায়, প্রয়োজনীয় ফিটনেসে পৌঁছানো তার জন্য কঠিন হতে পারে।
ব্যাটিং এবং মাঠে চলাফেরার ক্ষেত্রে বড় কোনো সমস্যা নেই হার্দিকের। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আগে এবং ধকল নেওয়ার জন্য ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট তার ফিটনেস নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে চায়।
৩২ বছর বয়সী হার্দিক শেষবার কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিলেন ২৪ মে। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ওই ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ভারতীয় দলের হয়ে শেষবার খেলেছিলেন ৮ মার্চ, যা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল। এই চোটের কারণে এশিয়ান গেমসেও হার্দিকের খেলা নিয়ে সংশয় বেড়ে গেছে।
আফগানিস্তান সিরিজের আগে ভারত কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। আরেক পেসার-অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডির ফিট হওয়ায়। অন্যদিকে, স্পিনার-অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দরও এই সিরিজের আগে ম্যাচের জন্য ফিট হতে পারেন। তবে আফগানদের বিরুদ্ধে তারকা পেসার জশপ্রীত বুমরার খেলার সম্ভাবনা খুবই কম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়ে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি নতুন পে-স্কেলকে স্বাধীনতার পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘ঐতিহাসিক, অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও যুগোপযোগী’ বেতন কাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সোমবার, নতুন বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংগঠনের সভাপতি নুরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সভাপতি নুরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, অতীতে কোনো বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য এত ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়নি। বিশেষ করে, নিম্নআয়ের সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন বেতন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই বৃদ্ধি নিম্ন-আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নতুন কাঠামোয় প্রতিবন্ধী ভাতা ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নুরুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, সব সরকারি কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতা চালু করা হবে এবং টিফিন ভাতা তিনগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিম্ন-আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি আরও বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বেতন কাঠামোর পরিবর্তন না হওয়ার কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সরকারি কর্মচারীদের পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও দাবির প্রতি যে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁদের কর্মস্পৃহা, দায়িত্ববোধ ও জনসেবার মানসিকতা আরও উন্নত হবে।
সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত দাবি পূরণ হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছে এবং তার সরকারের সমৃদ্ধি, সাফল্য ও দেশ পরিচালনায় উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নেপালের ত্রিশুলি উপত্যকায় হিমবাহসৃষ্ট বন্যার ফলে ২ হাজার ৫০০টিরও বেশি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ গত ২৬ আগস্ট আঘাত হানে। এএফপি ইউরোপের কোপার্নিকাস পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করেছে।
কোপার্নিকাসের জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিষেবার পর্যালোচনা অনুযায়ী, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি এলাকার মোট ভবনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোও যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার হার ১০টির মধ্যে সাতটিরও বেশি দাঁড়ায়। এই তথ্য বন্যার ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। প্রবল স্রোত উপত্যকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি প্রকাশ করেছে।
রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে অবস্থিত তিমুরে, স্যাব্রুবেশি ও বিদুর শহরের কিছু অংশ এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অন্তর্ভুক্ত। দুর্যোগের আগে, এই অঞ্চলে প্রায় ৬ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। নেপালের তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল শহর ভরতপুরের আশেপাশের এলাকার ছবিগুলো সোমবার সকালে পরীক্ষা করা হচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ার কারণে আকস্মিক এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
হিমবাহ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার নিচে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোত চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের সীমান্তসংলগ্ন গিরং সীমান্ত চৌকি অতিক্রম করে নেপালে প্রবেশ করে। ছোট সীমান্ত শহর তিমুরে এবং এর আশপাশের এলাকায় ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে।
দুর্যোগের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত স্যাব্রুবেশি এলাকায় প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভবন ধ্বংস হয়েছে। এই গ্রামটি বিখ্যাত লাংটাং ট্রেকের শুরুস্থান। হিন্দু তীর্থযাত্রীরাও এই পথটি নিয়মিত ব্যবহার করেন।
আরও নিচে, নুওয়াকোট জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র ও উদ্ধারকারী দলের ঘাঁটি বিদুরের আশপাশের নদী তীরবর্তী এলাকায় ১ হাজার ৮০০টির বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি পাঁচটি ভবনের মধ্যে তিনটি ধ্বংস হয়েছে। বন্যার ফলে ঘরবাড়ির পাশাপাশি সড়ক ও সেতুও ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে ত্রাণ পৌঁছানো এবং নিখোঁজদের সন্ধান চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ