ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর


দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

আজ (সোমবার) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ক্লাইমেট কো-অপারেশনের (এসএআরসিসি) সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নানা কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছি। এরই অংশ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার আশেপাশের নদীকে দূষণমুক্ত করতে নেওয়া হয়েছে মাস্টার প্ল্যান। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু নদীকে দূষণমুক্ত করতে নদীতে পতিত দূষণমুখ বন্ধ করতে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো, সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সার্ক এবং বিএমএসটেক-কে সক্রিয় করতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এখন আর কোন একক দেশীয় সমস্যা নয়। আন্তঃদেশীয় সমস্যা মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে জরুরি। তাই ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও ঝুঁকিমুক্ত বিশ্ব গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর শুধু ভবিষ্যতের কোনো হুমকি নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান উন্নয়ন বাস্তবতা। তাপপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, হিমবাহের পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব জাতীয় সীমানা অতিক্রম করছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত, আঞ্চলিক ও ভবিষ্যতমুখী উদ্যোগ অপরিহার্য।

এছাড়াও বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সদস্য ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ জামাইল বশীর জেবি, ধরিত্রী রক্ষায় আমরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর আলোচকগোষ্ঠীর সমন্বয়কারী জিয়াউল হক ও জলবায়ু আলোচক এম হাফিজুল ইসলাম খান।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর পক্ষ থেকে, সিভিল সার্জন মহোদয় কে বিদায় সম্বর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি তালাশ বিডি,

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর পক্ষ থেকে, সিভিল সার্জন মহোদয় কে বিদায় সম্বর্ধনা

২০২৬ খ্রিস্টাব্দের ২৪ শে আগস্ট সোমবার, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ মশিউর রহমানকে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

এসময় সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ অন্যান্য বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। এই সূচী অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৪ মার্চ থেকে আগামী বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। এই পরীক্ষা শেষ হবে একই বছরের ১৫ এপ্রিল।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এ সূচি প্রকাশ করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান, যিনি ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানও।

অতীতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত বছরের আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে, নতুন বছরে পবিত্র রমজানের রোজা ও ঈদুল ফিতরের ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। একনজরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার রুটিন-

১৪ মার্চ ২০২৭ (রোববার): বাংলা (আবশ্যিক)-১ম পত্র / সহজ বাংলা-১ম পত্র

১৬ মার্চ ২০২৭ (মঙ্গলবার): বাংলা (আবশ্যিক)-২য় পত্র / সহজ বাংলা-২য় পত্র

১৮ মার্চ ২০২৭ (বৃহস্পতিবার): ইংরেজি (আবশ্যিক)-১ম পত্র

২১ মার্চ ২০২৭ (রবিবার): ইংরেজি (আবশ্যিক)-২য় পত্র

২২ মার্চ ২০২৭ (সোমবার): তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

২৫ মার্চ ২০২৭ (বৃহস্পতিবার): গণিত (আবশ্যিক)

২৮ মার্চ ২০২৭ (রবিবার): বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

৩০ মার্চ ২০২৭ (মঙ্গলবার): পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং

১ এপ্রিল ২০২৭ (বৃহস্পতিবার): ভূগোল ও পরিবেশ

৪ এপ্রিল ২০২৭ (রবিবার): রসায়ন (তত্ত্বীয়), পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ব্যবসায় উদ্যোগ

৬ এপ্রিল ২০২৭ (মঙ্গলবার): গার্হস্থ্য বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), কৃষি শিক্ষা (তত্ত্বীয়), সংগীত (তত্ত্বীয়), আরবি, সংস্কৃত, পালি, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া (তত্ত্বীয়) / শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা, চারু ও কারুকলা (তত্ত্বীয়)

৮ এপ্রিল ২০২৭ (বৃহস্পতিবার): হিসাববিজ্ঞান

১১ এপ্রিল ২০২৭ (রবিবার): উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়), বিজ্ঞান

১৩ এপ্রিল ২০২৭ (মঙ্গলবার): জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), অর্থনীতি

১৫ এপ্রিল ২০২৭ (বৃহস্পতিবার): ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বৌদ্ধধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, খ্রিস্টধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা।

বিশেষ প্রয়োজনে বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই সময়সূচি পরিবর্তন করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ গ্রহণের সুপারিশ সিপিডির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৫ পি.এম


অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ গ্রহণের সুপারিশ সিপিডির

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ সরকারকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিতে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত ও সুসংহত সংস্কার প্যাকেজ গ্রহণ করা, বাস্তবভিত্তিক মূল বাজেট প্রণয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

আজ রাজধানীতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে ‘সরকারের ছয় মাস: কার্যক্রমের পর্যালোচনা’ শীর্ষক একটি কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এর বক্তব্যে বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য শক্তিশালী সমন্বয়, বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক পরিকল্পনা এবং কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সিপিডি জানায়, তারা ৩৬২টি পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করে নয়টি ক্ষেত্রে ভাগ করেছে। এর মধ্যে যেসব উদ্যোগ জনকল্যাণমূলক, সংস্কারমুখী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম, সেগুলোকে ‘স্বস্তির ক্ষেত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুধুমাত্র ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে যেসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পর্যায়ে এসেছে সেগুলোকে মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

সিপিডি বলেছে, সরকারের প্রথম ছয় মাসে সুশাসন, সরকারি অর্থব্যবস্থা, শিল্প ও বাণিজ্য, ব্যাংকিং, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও সংস্কারমুখী কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ৩১টি সূচকের মূল্যায়নে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

এই অবস্থায় সিপিডি সরকারের বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ ও ঘোষণার বাইরে গিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে বাধা সৃষ্টি করা কাঠামোগত দুর্বলতা মোকাবিলায় সমন্বিত সংস্কার কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

সিপিডি জ্বালানি, নিরাপত্তা, ব্যাংকিং, রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) যৌক্তিকীকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটালাইজেশন এবং প্রস্তাবিত বেতন কমিশনসহ বিভিন্ন খাতে সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সময়সীমাবদ্ধ দেশীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম, স্থগিত ১৫০ কূপ খনন কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন, কৌশলগত জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি এবং বহুমুখী জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

সিপিডি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে ভর্তুকির চাপ কমানোর এবং সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের সুপারিশ করেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। এ জন্য ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসকে অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

সিপিডি বলেছে, অর্থমন্ত্রীকে জাতীয় সংসদে বেতন কাঠামো, ব্যাংকিং ক্ষেত্র পুনর্গঠন, বিদ্যুৎ খাত সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্কার পরিকল্পনা উপস্থাপন করা উচিত।

প্রতিবেদনের মধ্যে বলা হয়, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য বাস্তব তথ্য ও বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক কাঠামোর ভিত্তিতে একটি মূল বাজেট প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

সিপিডি বাস্তবসম্মত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, সরকারি ব্যয়ের মান বৃদ্ধি এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রণয়নেরও সুপারিশ করেছে সিপিডি। এতে দুর্বল ব্যাংকগুলো মোকাবিলা এবং টেকসই পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাবিজের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও রপ্তানি সেবা একীভূতকরণ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ২০২৬ কার্যকর হওয়া এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ)-এর সমন্বয়ে একক কর্তৃপক্ষ গঠনকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর এবং নতুন ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ড গঠনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সিপিডি জানায়, বাংলাদেশ-চীন সফরে ডিজিটাল অর্থনীতি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, অবকাঠামো এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইসহ ২১টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরও ইতিবাচক উদ্যোগ।

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সিপিডি সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, সমন্বয়, জবাবদিহিতা এবং স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবমুক্ত থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

সিপিডি বলেছে, আগামী দিনে সরকার কীভাবে নিজেদের অঙ্গীকারকে বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ ও কার্যকর বাস্তবায়নে রূপান্তর করতে পারে সেটাই মূল প্রশ্ন হবে।

প্রতিবেদনে প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচন, ডিজিটালাইজেশন, বিনিয়োগ সহায়তা, আর্থিক খাত সংস্কার এবং লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাকে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিপিডি বলেছে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শুধু বিচ্ছিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে না; বরং কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।

সুশাসন, বিচার ও জনপ্রশাসন খাতে ‘স্বস্তির ক্ষেত্র’ হিসেবে সিপিডি উল্লেখ করেছে, সরকারি বরাদ্দকৃত প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা গ্রহণ না করার ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের সিদ্ধান্তকে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ আইনগতভাবে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল করেছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়টিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সিপিডি। এর মধ্যে রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা ১৯ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি, মেহেরপুরের একটি শিশু ধর্ষণ মামলা ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি এবং ২০২৬ সালের ১৪ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চের মাধ্যমে ১০টি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল নিষ্পত্তির বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

সিপিডি একাধিক ব্যয় সাশ্রয়ী উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক আয়োজন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খাবার ব্যয় জনপ্রতি ১৫০ টাকায় সীমিত রাখা, সরকারি যানবাহন ক্রয় স্থগিত করা, বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল এবং ১৮ জন মন্ত্রীর পুলিশ প্রটোকল প্রত্যাহার।

ঢাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা চালু এবং পরবর্তীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তা সম্প্রসারণকেও সিপিডি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে সিপিডি বলেছে, এর মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় এক বছরে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সিপিডি আরও উল্লেখ করেছে, ২৮ জেলায় ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে, দুই জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু করা হয়েছে এবং অনলাইন ই-কজ লিস্ট ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি ও দেওয়ানি কার্যবিধির সংশোধনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডিজিটাল সমন ও অনলাইন প্রমাণের আইনগত স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিকেও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সিপিডি বলেছে, অর্থ আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিনিয়োগের উৎস প্রকাশের প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আয়কর রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করেছে এবং ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য ই-রিটার্ন চালু করেছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অর্থ আইনে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিলকারী যোগ্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ কর রেয়াত এবং অতিরিক্ত কর ফেরতের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার বিধান রাখা হয়েছে।

নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত ও নারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালুকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সিপিডি।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নিম্নআয়ের ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রস্তাবিত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে সিপিডি। লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের বিদ্যমান হার বহাল রাখা হয়েছে।

২০২৬ সালের সংশোধিত বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্টের আওতায় সমুদ্র এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানকেও ইতিবাচক উন্নয়ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিপিডি।

এছাড়া ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য মেট্রোরেল ও ট্রেন ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কৃষি খাতে সিপিডি জানিয়েছে, সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং এর ওপর জমা হওয়া সুদ মওকুফ করেছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকগুলো যোগ্য কৃষকদের ঋণ অবলোপন করেছে।

সিপিডি আরও জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা ইএফটি ও আইবাস++ এর মাধ্যমে বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও পাটের ব্যাগ দেওয়ার জন্য একটি পাইলট কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্ট স্টেন্ট, হার্ট ভালভ, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো বা প্রত্যাহারকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সামাজিক কল্যাণ ও সুরক্ষা খাতে সিপিডি জানিয়েছে, সরকারের পর্যায়ক্রমিক জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড, ৭০ হাজার ৮৬১টি ফ্যামিলি কার্ড এবং ৩০০টি স্পোর্টস কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

সিপিডি বলেছে, এসব ইতিবাচক পদক্ষেপ বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচন, ডিজিটালাইজেশন, বিনিয়োগ সহায়তা, আর্থিক খাত পুনর্গঠন এবং লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক দিক নির্দেশ করে।

একই সঙ্গে আগামী দিনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার মূল্যায়নের জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো তুলে ধরেছে সিপিডি।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, প্রথমে মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার ও সুদের হারে স্থিতিশীলতা আসতে হবে। এরপর জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে দৃশ্যমান উন্নতি এবং পরবর্তীতে বিনিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানে গতি আসবে।

সিপিডি জ্বালানি সংকটের একটি বিশ্বাসযোগ্য মধ্যমেয়াদি সমাধান এবং ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতের বাইরে বিনিয়োগ সৃষ্টি করতে সক্ষম সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শুধু পৃথক নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে না; বরং সরকারের কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও নির্ভর করবে।

এ জন্য সিপিডি সরকারকে আগামী মাসগুলোতে, বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ২০২৬-কে কাজে লাগিয়ে প্রতিশ্রুতিগুলোকে সময়সীমাবদ্ধ বাস্তব সংস্কার রোডম্যাপে রূপান্তর এবং কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমির সুরক্ষা ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা সম্ভব নয়: পরিবেশমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


ভূমির সুরক্ষা ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা সম্ভব নয়: পরিবেশমন্ত্রী

ভূমির সুরক্ষা ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টো।

তিনি মন্তব্য করেন, ভূমিকে পরিবেশগত ব্যয় হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক ও উন্নয়নগত অগ্রাধিকার হিসেবে রাখতে হবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজের (ইউএনসিসিডি সিওপি-১৭) ফাইন্যান্স ডে উপলক্ষে ‘স্বাস্থ্যকর ভূমি ও খরা সহনশীলতায় উদ্ভাবনী অর্থায়ন ব্যবস্থা’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে বাংলাদেশর পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ভূমি অবক্ষয় কমাতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে মাটির উর্বরতা, বনভূমি, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ি ভূমিক্ষয়, উপকূলীয় লবণাক্ততা এবং নদীভাঙনের মতো বিষয়গুলোকে জাতীয় পরিকল্পনায় অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও জলবায়ু-সহনশীল খাতে রূপান্তর করার কাজ করছে এবং কৃষকদের জন্য ঋণ ও কৃষিঋণ-সহায়তা সম্প্রসারণ করছে। ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমি পুনরুদ্ধারে কার্যকর অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি গ্যারান্টি, প্রাথমিক ক্ষতির মূলধন ও মিশ্র অর্থায়ন ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগের কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে জলবায়ু ও ভূমি সহনশীলতায় দেশীয় অর্থায়ন করা হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দিকের এ তহবিলে এ পর্যন্ত ৪৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সংস্থান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই অর্থায়নের সাহায্যে ১২টি নতুন প্রতিকূলতা-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে ১৯ হাজার ৪০০ মেট্রিক টনের বেশি খরা ও লবণাক্ততা-সহনশীল বীজ বিতরণ করা হয়েছে। তবে এই সময়ে বর্তমান চাহিদা তহবিলের বার্ষিক বরাদ্দকে অতিক্রম করেছে।

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকে জাতীয় উদ্যোগের বিকল্প হিসেবে নয় বরং বিদ্যমান অর্থায়ন-ঘাটতি পূরণের সহায়ক হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি ঋণের বিনিময়ে প্রকৃতি ও জলবায়ু সংরক্ষণ, ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য সবুজ বন্ড প্রদান করার মতো উদ্ভাবনী ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছেন।

তিনি আরও বলেছেন, এ ধরনের অর্থায়নের মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির নিয়ন্ত্রিত পুনর্ভরণ, কৃষি, বনায়ন, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি এবং ২৫ কোটি চারা রোপণের জাতীয় সবুজ মিশনের আওতায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে জোরদার করা সম্ভব হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, উজানের পানিপ্রবাহের পরিবর্তন বাংলাদেশের মতো বদ্বীপ রাষ্ট্রে লবণাক্ততা ও খরার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই কারণে অভিন্ন নদী অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন জোরদার এবং পানি-সংকট ও ভূমি অবক্ষয় সম্পর্কিত তথ্য বিনিময়ে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সহযোগিতা দিতে এবং গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আমরা এমন অঙ্গীকার চাই, যা সুনির্দিষ্ট, অর্থায়নসমৃদ্ধ এবং সময়সীমাবদ্ধ—সমাজে ভূমি অর্থায়ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রান্তিক অবস্থান থেকে কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসতে সাহায্য করবে।

মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট খুরেলসুখ উখানা ইউএনসিসিডি সিওপি-১৭ এর উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে মঙ্গোলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিওপির সভাপতি বাতসেতসেগ বাতমুনখ, জাতিসংঘের উপমহাসচিব আমিনা জে. মোহাম্মদ এবং ইউএনসিসিডির নির্বাহী সচিব ইয়াসমিন ফুয়াদসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলের প্রধানরা অংশ নেন।

এদিন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%