ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
দ্রুত সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্মতি

মরিশাসে আবার চালু হচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার


মরিশাসে আবার চালু হচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

মরিশাসে বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে।

দুই দেশ দ্রুত গতির মধ্যে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) শিগগিরই স্বাক্ষর করবে।

সোমবার (৮ জুন) জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের (আইএলও) সাইডলাইনে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সম্মতি আসে।

আরও পড়ুন: নাগরিক সমাজের আহ্বান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে পরামর্শ ও সংস্কার প্রয়োজন

জেনেভাস্থ জাতিসংঘ কার্যালয়ের সভাকক্ষে, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম এই বৈঠকে মিলিত হন।

সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকে মরিশাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা, বন্ধ বাজার পুনরায় চালু এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের প্রথমে, বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মরিশাস সরকারকে তার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক দ্রুত স্বাক্ষরের জন্য মরিশাস সরকারকে অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন: প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে এক্সপ্যাট ওয়ার্ল্ড কাপ

বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সক্ষমতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইল শিল্প ছাড়াও, বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, নার্স এবং অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ বিভিন্ন পেশার উচ্চ দক্ষ জনশক্তি মরিশাসে পাঠানোর জন্য সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বৈঠক শেষে, তিনি মরিশাসের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানান।

বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম জানান, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার ব্যাপারে মরিশাস সরকার অত্যন্ত আগ্রহী।

বিশেষ করে দেশটির ওয়ান-স্টপ টেক্সটাইল শিল্পের প্রসারে প্রচুর দক্ষ কর্মী প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: মিরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হোতা তিন ভাই গ্রেফতার

মরিশাসের মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া শিগগিরই বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে মরিশাস সরকারের বিনিয়োগের গভীর আগ্রহের কথাও বৈঠকে প্রকাশিত হয়।

দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে আরো উপস্থিত ছিলেন— শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহবুবুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সচিব মো. আমিনুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের তিব্বত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালিয়াকান্দিতে মানসিক অবসাদগ্রস্ত বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১০ পি.এম


বালিয়াকান্দিতে মানসিক অবসাদগ্রস্ত বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
 
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নে এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত বৃদ্ধার নাম সাবিত্রী সরকার (৬৫)। তিনি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সাধুখালী গ্রামের সুশীল সরকারের স্ত্রী।
 
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,  ০৮ জুন  সকাল আনুমানিক ৯টার  সময় এই ঘটনা ঘটে। নিহত সাবিত্রী সরকার কিছুদিন আগে ব্রেন স্ট্রোক  করার পর থেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। রোগের তীব্র যন্ত্রণা এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে তিনি চরম অবসাদে ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।
 
আজ সকালে তিনি নিজের শয়নকক্ষের বাঁশের আড়ার সাথে প্লাস্টিকের রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরবর্তীতে তাঁর ছোট ছেলে শ্যামসুন্দর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে আসেন এবং রশি কেটে তাঁকে নিচে নামান। তবে ততক্ষণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
 
খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বালিয়াকান্দি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সাইফুল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট  প্রস্তুত করেন।
পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক বিবরণী নথিভুক্ত করেছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনা, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ দখলের অভিযোগের মধ্যেও আলোচনায় বরিশাল বাণিজ্য মেলা পরেশ সাগর মাঠ ও কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গণে চলমান কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনা, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ দখলের অভিযোগের মধ্যেও আলোচনায় বরিশাল বাণিজ্য মেলা পরেশ সাগর মাঠ ও কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গণে চলমান কার্যক্রম

"নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল" দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার যখন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে, তখন বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক পরেশ সাগর মাঠ ও বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে নতুন করে জনমনে প্রশ্ন, ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি পরিপত্র, আদালতের নির্দেশনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, ধর্মীয় অনুভূতি, জনদুর্ভোগ এবং প্রশাসনিক তদারকির প্রশ্ন-সব মিলিয়ে মেলাটি এখন বরিশালের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারিকৃত স্মারক নং: ২৭.০০.০০০০.০০০.০৫২.৯৯.০০২.২৬.৩৬৯, তারিখ ০১ জুন ২০২৬ (১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ)-এর পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সকল শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট, মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে সকল বিলবোর্ডের আলোও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে স্মারক নং: ২৭.০০.০০০০.০০০.০৭১.৩১.০০৫.২৪.২০০, তারিখ ০৫ এপ্রিল ২০২৬-এর মাধ্যমে একই ধরনের নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্মারক নং: ২৭.০০.০০০০.০০০.০৫২.৯৯.০০২.২৬.৩২৯, তারিখ ১২ মে ২০২৬-এর মাধ্যমে সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে সেই সিদ্ধান্তের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনরায় সন্ধ্যা ৭টার সময়সীমা কার্যকর করা হয়েছে।

সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বরিশাল বাণিজ্য মেলার ক্ষেত্রে সেই নির্দেশনার বাস্তব প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনার মধ্যেও মেলার কার্যক্রম: স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মেলা বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও বরিশাল বাণিজ্য মেলার বিভিন্ন কার্যক্রম রাত পর্যন্ত চলতে দেখা যায়। মেলার বিভিন্ন স্টল, আলোকসজ্জা, নাগরদোলা এবং বিনোদনমূলক আয়োজন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সচেতন নাগরিকদের মতে, যখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের স্বার্থে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানগুলোর জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তখন একই নীতিমালা মেলার ক্ষেত্রেও সমানভাবে বাস্তবায়িত হওয়া উচিত।

‘এক মাঠে মেলা, খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী: বরিশাল বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে। গত ১৫ মে জাতীয় দৈনিক সমকাল, দৈনিক স্বাধীন সংবাদ এবং বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, একটি মাঠকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বাণিজ্য মেলার কারণে অন্তত পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত মাঠ দীর্ঘ সময় ধরে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় নিয়মিত খেলাধুলা, শারীরিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন শিক্ষা-সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

শিক্ষাবিদদের মতে, একটি মাঠ কেবল খেলার স্থান নয়; এটি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

হাইকোর্টের: গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হলে রিট পিটিশন নং-৬২৫৯/২০২৬ এর শুনানি শেষে গত ১৮ মে ২০২৬ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোঃ আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। আদালত রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের বাণিজ্য মেলা আয়োজন না করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মেলা পরিপত্র-২০২৪ এর ধারা ৫(ছ) উল্লেখ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এ ধরনের আয়োজনকে বিধিবহির্ভূত বলে পর্যবেক্ষণ দেন।

পরেশ সাগর মাঠ ঘিরে ধর্মীয় ও সামাজিক আবেগ : পরেশ সাগর মাঠ বরিশালের একটি ঐতিহাসিক ও পরিচিত স্থান। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মরহুম মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী বহু বছর এই মাঠে পবিত্র কুরআনের তাফসির মাহফিল করেছেন। ফলে মাঠটিকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগ ও অনুভূতি জড়িত রয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন স্থানে বাণিজ্যিক মেলা আয়োজন এবং কিছু বিনোদনমূলক কার্যক্রম সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানছে। যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে, তবুও বিষয়টি নগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

সাংস্কৃতিক আয়োজন: স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও ধর্মপ্রাণ মানুষের একাংশের অভিযোগ, মেলায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নৃত্যানুষ্ঠান পরিচালিত হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আপত্তি রয়েছে। তাদের দাবি, কিছু অনুষ্ঠান স্থানীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আয়োজক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি উঠেছে। জনদুর্ভোগ ও শব্দদূষণের অভিযোগ: মেলাকে ঘিরে জনদুর্ভোগের অভিযোগও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, মেলা চলাকালে আশপাশের এলাকায় যানজট, অতিরিক্ত জনসমাগম এবং শব্দদূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীদের চাপ বাড়লে স্থানীয় সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: সরকারি পরিপত্র বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে সরকারের স্মারক নং: ২৭.০০.০০০০.০০০.০৫২.৯৯.০০২.২৬.৩৬৯, অন্যদিকে রিট পিটিশন নং-৬২৫৯/২০২৬-এ হাইকোর্টের নির্দেশনা-উভয় বিষয় সামনে আসার পরও কেন বিতর্কের অবসান ঘটছে না, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আইনজীবীদের মতে, আদালতের নির্দেশনা এবং সরকারি পরিপত্র উভয়ই বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব। আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আদালত অবমাননার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। একইভাবে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা প্রশাসনিক জবাবদিহিতার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

জনস্বার্থ, শিক্ষা ও আইনের শাসনের প্রশ্ন: সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি এখন আর কেবল একটি বাণিজ্য মেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি আইনের শাসন, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সংরক্ষণ, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান, বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাদের দাবি, স্মারক নং: ২৭.০০.০০০০.০০০.০৫২.৯৯.০০২.২৬.৩৬৯, স্মারক নং: ২৭.০০.০০০০.০০০.০৭১.৩১.০০৫.২৪.২০০, স্মারক নং: ২৭.০০.০০০০.০০০.০৫২.৯৯.০০২.২৬.৩২৯ এবং রিট পিটিশন নং-৬২৫৯/২০২৬ অনুযায়ী দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, জনস্বার্থ এবং আইনের শাসন সমুন্নত থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২০ পি.এম


চুয়াডাঙ্গায় ১৬ কেজি গাঁজাসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রাম থেকে ১৬ কেজি গাঁজাসহ মো. হযরত আলী (৫৫) নামের একজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৮ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। আটক হযরত আলী আলমডাঙ্গা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের মৃত আক্কাস আলীর ছেলে।

চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শরিফুল ইসলাম জানাচ্ছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুবদিয়া গ্রামের একটি পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হযরত আলীকে আটক করা হয়। পরে তার কাছে থাকা একটি ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে ১৬ কেজি ওজনের চারটি গাঁজার পোটলা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানিয়ে দিয়েছেন, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জে সাংবাদিক লিমনকে ‘আটক’ ও রাতভর নির্যাতন: গারুরিয়ার সেই অন্ধকারে আসলে কী ঘটেছিল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​বিশেষ প্রতিবেদন, বাকেরগঞ্জ

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২২ পি.এম


বাকেরগঞ্জে সাংবাদিক লিমনকে ‘আটক’ ও রাতভর নির্যাতন: গারুরিয়ার সেই অন্ধকারে আসলে কী ঘটেছিল?

কলমের মানুষ থেকে হঠাৎ করেই ‘আটক’ হওয়া এক সাংবাদিক। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের হিরাধর গ্রামে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন পুরো এলাকায় বইছে আলোচনার ঝড়। প্রশ্ন এখন একটাই—গারুরিয়ার সেই রাতের অন্ধকারে আসলে কী ঘটেছিল? এর প্রকৃত উত্তর খুঁজছে বাকেরগঞ্জবাসী।

প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের হিরাধর গ্রামের জলিল খাঁর বাড়িতে সাংবাদিক দানিসুর রহমান লিমনকে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাকে রাতভর নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীকালে, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

সাংবাদিক লিমনের স্ত্রীর দাবি, তার স্বামীকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার প্রকৃত সত্য কী, তা অবশ্যই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। তবে এই ঘটনাটি সমাজ সচেতন মহলকে আরও একবার বড় একটি উদ্বেগের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। অপরাধ বা অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই থাকুক না কেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কোনো সাধারণ নাগরিকের নেই। একটি সভ্য সমাজে বিচার করার একমাত্র দায়িত্ব আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর; উত্তেজিত জনতার নয়।

সাংবাদিক সমাজের একজন সদস্যকে ঘিরে এমন বর্বরোচিত ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদি সত্যিই তাকে বেআইনিভাবে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়ে থাকে, তবে এর সাথে জড়িত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, এই ঘটনার পেছনে যদি অন্য কোনো রহস্য বা কারণ লুকিয়ে থাকে, তবে সেটিও একটি নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে জনসমক্ষে আসা উচিত।

এ ধরনের আইনবহির্ভূত ঘটনা সমাজে অস্থিরতা, আতঙ্ক ও পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। তাই যেকোনো ধরনের গুজব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পক্ষপাতমূলক প্রচার বা আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানই পারে এই ঘটনার পেছনের আসল সত্য উন্মোচন করতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%